মানুষ নাকি ধর্ম?

0
592

এই যায়গাটা যখন আমি প্রথম দেখি ব্যাপারটা ছিলো আমার জন্য বিষ্ময়ের। এই ছবিটা তুলেছি ২০১৪ সালের নভেম্বরে। ১ বছর ৪ মাস আগের ছবি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ইহুদী ধর্মালম্বীদের উপাসনালয় সিনেগগ। আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে এই সিনেগগটি ইস্টলন্ডনের সব চাইতে বড় মসজিদ, “ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও মুসলিম সেন্টার” এর নীচ তলায়। মরিয়ম সেন্টারের ঠিক সাথে লাগোয়া। মসজিদ আর সিনেগগ এক সাথে লাগানো।

ছবিটা দেখে কেন বিষ্মিত হলাম বা হয়েছি? কারন হচ্ছে এই লন্ডনের অনেক ধর্মীয় বুজুর্গ ব্যাক্তি প্রায়ই ইহুদিদের জন্য ঘৃণা উগড়ে দেন, ইহুদি আর নাসারার বিরুদ্ধে বলতে বলতে ফেনা তোলেন। অথচ এই ইস্ট লন্ডন মসজিদের সাথে লাগোয়া এই সিনেগগ টি নিয়ে তারা টু শব্দ করতে পারেন না। কেন পারেন না? কারন হচ্ছে আইন। কারন হচ্ছে ইংল্যান্ডের সমাজ, আইনের শাষন।

বাংলাদেশ হলে এই সিনেগগ এইখানে থাকা দূরের কথা। কোনো স্থানেই থাকতে পারত না কিংবা তাদের গলা কেটে হত্যা করা হোতো। অথচ এইখানে সোনামুখ করে সবাই মেনে নিচ্ছে। যদিও শুনেছি যে এই সিনেগগটি কিনে নেবার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর জন্য অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে।

ইংল্যান্ডে বাংলা টিভি চ্যানেলে ঐসব ধর্মীয় বুজুর্গ ব্যাক্তি যখন আসেন তখন বাংলাদেশের নাস্তিকদের নিয়ে গালাগাল আর অভিসম্পাত করে শেষ করে ফেলতে থাকেন। অথচ ঐ টিভি চ্যানেল থেকে বের হয়ে যদি ঐ ধর্মীয় বুজুর্গরা খোঁজ নেন তবে তারা জানতে পারবেন যে এই দেশের ৯০ শতাংশ ব্যাক্তি ধর্মে বিশ্বাস করে না। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে এই ধর্মীয় বুজুর্গরা একটা টুঁ শব্দ উচ্চারণ করেন না। বলবেন কিভাবে? এসব কথা বার্তা বললে আইনের আওতায় পড়ে জেলে কে-ই বা যেতে চাবে? সুতরাং বলেন না।

কিন্তু তাদের যত রাগ বাংলাদেশের নাস্তিকদের উপর। ইংল্যান্ডে যেন মুসলমানিত্ব কায়েমের দরকার নেই, সব কায়েম করবে বাংলাদেশে। ইংল্যান্ডে এইসব লোকেরা সোনা মুখ করে স্কার্ট পরা মেয়েদের সাথে একই শপিং মলে শপিং করে, বাসে চড়ে, ট্রামে চড়ে। কখনো তারা বলেনা বুকে ওড়না দাও, পর্দা কর, মাথায় কাপড় দাও। শুধু টিভিতে এলে এরা বাংলাদেশের মেয়েদের নিয়ে থাকে উচ্চকিত। কার মাথায় কাপড়, কার মাথায় কাপড় নেই, নাস্তিকরা কত খারাপ এই হচ্ছে এদের আলোচ্য।

ওদের কথা বার্তা শুনলে মনে হয় ইংল্যান্ডের ইসলাম এক রকম আর বাংলাদেশের ইসলাম আরেক রকম। ১০ হাজার মাইল দূর থেকে বাংলাদেশের নাস্তিক কিংবা ইহুদি নাসারা নিয়ে এদের চিন্তার অন্ত নেই কিন্তু ইংল্যান্ডের নাস্তিক দেখলে কিংবা মসজিদের সাথে মন্দির বা প্যাগোডা বা সিনেগগ থাকলে ভদ্র বাচ্চার মত মেনে নেয়।

বুজুর্গদের এইসব লাফ ঝাঁপ দেখে তাই ভাবি, ভন্ডামীর একটা সীমানা থাকা উচিৎ।

Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleবাংলাদেশে দরকার টর্ট আইনের সঠিক প্রয়োগ
Next articleরাষ্ট্রের নানাবিধ মায়াবী ঘুমের ঔষধে ঘুমগ্রস্থ পাবলিক
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY