যে কারনে আমি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে

0
11353
A supporter stands by a sign at the launch of the Vote Leave bus campaign, in favour of Britain leaving the European Union, in Truro, Britain May 11, 2016. REUTERS/Darren Staples

আগামীকাল গ্রেট ব্রিটেনে হতে যাচ্ছে গণভোট। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন জোটে আমরা থাকব কি থাকবনা এটা নির্ধারণ করতেই এই ভোট। ব্যাক্তিগতভাবে আমি ভোট দিচ্ছি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়বার পক্ষে। অর্থ্যাৎ “Leave EU”। ২০০৩ সালে এই দেশে আসবার পর থেকে এই পর্যন্ত আমি বলতে পারি এই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জোট ভুক্ততার কারনে মূলতঃ আমরা অভিবাসীরা প্রচন্ড রকমের ভুক্তভোগী।   এই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নামে যা হচ্ছে সেটা রীতিমত আমাদের প্রতি অত্যাচার। একজন ব্রিটিশ নাগরিক হয়েও একজন ব্যাক্তি দেশ থেকে তাঁর স্ত্রীকে আনতে কিংবা এই দেশে আছেন এমন নন ইউরোপিয়ান স্ত্রীকে ইংল্যান্ডে সেটেল করাতে তাঁর বেতন বাধ্যতামূলকভাবে দেখান বছরে ১৮,৬০০ পাউন্ড অথচ একই ঘটনায় একজন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নাগরিক তাঁর স্পাউসের জন্য এসব কিছুই দেখান না বা দেখাতেই হয়না। তাঁর আবেদন ফি মাত্র ৬৫ পাউন্ড আর অন্যদিকে একজন ব্রিটিশ সিটিজেনের ফি ৮১১ পাউন্ড থেকে শুরু করে ৩২৪৪ পাউন্ড পর্যন্ত (ডিপেন্ডেন্ট থাকা সাপেক্ষে)

ইংল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য হবার পরেও চোখের সামনে এই বৈষম্য ভয়ানক ভাবে আমাকে পীড়া দেয়। কি লাভ হয়েছে এই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নামে একটা জোটের সদস্য হয়ে? ব্রিটেন তার রাষ্ট্রিক স্বাতন্ত্র হারিয়েছে, হারিয়েছে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোল এর উপর সকল রকমের ক্ষমতা। আপনারা জানলে অবাক হবেন যে এই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকবার কারনে ব্রিটেনের আদালত এখন পুরোপুরি একটা কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে। সংসদের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই, নেই তাদের ক্ষমতা। ইংল্যান্ডের আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে ইউরোপিয়ান আদালতের আইন প্রিভেইল করবে আর এটাই আইন। “নিজস্ব ক্ষমতা” বলে শব্দ এখানে আর নেই।

ইংল্যান্ডের প্রতি আনাচে কানাচে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে এসে লক্ষ লক্ষ লোক ভ’রে গেছে। এর কারন কি? এর কারন হচ্ছে ইংল্যান্ড একটা ওয়েলফেয়ার রাষ্ট্র এবং তারা বেশী বেনিফিট দেয়। মাস শেষে ফ্রি হাউজিং বেনিফিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড বেনিফিট এসবের কারনে ইউরোপের ধনী-গরীব সব দেশ থেকে পুরো গুষ্টি নিয়ে মানুষজন পঙ্গপালের মত ব্রিটেনে আসছে। এখানকার সিস্টেম এমন ভাবে এবিউজড হচ্ছে যে এগুলোর বর্ণনা দিতে গেলে স্থান সংকুলান হবে না।

এইসব ক্ষেত্রে ব্রিটেনের কিছু করনীয় নেই। একজন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অদক্ষ ব্যাক্তি এসে এখানে একটা ফুড শপের ম্যানেজার হয়ে যাচ্ছে, সুপারভাইজার হয়ে যাচ্ছে, রিটেল সুপার মার্কেটগুলো এই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অদক্ষ কর্মীরা ছেয়ে ফেলছে শুধু মাত্র, আমি আবার বলি “শুধু মাত্র” ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর সদস্য হবার কারনে অথচ এদের থেকে হাজার গুনে শিক্ষিত, বিচক্ষণ, কার্যকরী ও দক্ষ আমাদের বাঙালী ভাইয়েরা পড়ালেখা শেষ করে একটা ভালো কাজ জুটাতে পারছে না এই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের “ফ্রি মুভমেন্ট অফ ওয়ার্কার” এই ধারনার পাল্লায় পড়ে। নতুন নতুন নিয়ম আরোপিত হচ্ছে ছাত্র, ছাত্রী কিংবা কাজের পারমিট নিয়ে থাকা ব্যক্তিদের উপর।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা এইসব অঞ্চলের একজন ছেলে ও মেয়ে যে পরিমাণ পড়ালেখা করে কিংবা যে পরিমান কর্মঠ ও দক্ষ সে পরিমান মূল্যায়ন তাঁরা কখনোই পান না। আজকে যদি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন না থাকত তাহলে অস্ট্রেলিয়ার মত পয়েন্ট বেইজড সিস্টেম ব্রিটেনে থাকত এবং খুব সহজে আমাদের সাব কন্টিনেন্টাল অঞ্চল বা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের লোক সঠিকভাবে এখানে মূল্যায়িত হোতো। অথচ ব্রিটেন আজকে এই ইউরোপিয়ান জোটের পাল্লায় পড়ে হয়ে গেছে ঘরকুনো, একা, ক্ষমতাহীন এক নিরূপায় দেশ হিসেবে।

আপনারা যারা এখানে অভিবাসী হিসেবে রয়েছেন আপনারাই বলেন যে আপনাদের বাচ্চাকে একটা স্কুলে দিতে আপনাদের কি ভয়াবহভাবে ওয়েটিং লিস্টে থাকতে হয়? মিডল্যান্ডে ৫০ হাজার বাচ্চা এবার স্কুলে আসন পায়নি। পুরো ইউরোপ থেকে এসে ভ’রে গেছে এই পুরো ব্রিটেন। আপনার বাচ্চার ভবিষ্যৎ আসলে কি? আমরা কোথায় যাচ্ছি এই জোটে থেকে। ব্রিটেনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার, তাঁদের অর্থনীতি, রাজনীতি সবকিছুর এই সক্ষম অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছে এই ইউ জোটের তথাকথিত আইন। ব্যাপারটা এমন যে এক ঘরে একজন ছেলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এখন সবাই তার ঘাড়ে চেপে খাচ্ছে রাত দিন। এইভাবে চলতে পারেনা। আপনার ট্যাক্সের টাকা কেন ইউরোপের এই অনায্য নীতিকে আরো প্রতিষ্ঠিত করবে?

আপনি ডাক্তারের কাছে যেতে হলে কতদিন পর এপোয়েন্টমেন্ট পান? আপনার রোগ বালাই হলে কি পরিমান সমস্যার সম্মুখীন আপনি হচ্ছেন? এন এইচ এস এর চিকিৎসা সেবার মান কি হচ্ছে দিনে দিনে? অনেকেই বলেন ইউরোপ লিভ করলে ডাক্তার, নার্স এইসব ক্ষেত্রে সংকটে পড়ে যাব। একদম ডাহা মিথ্যে কথা। এই ব্রিটেনের হাসপাতাল, রোগী সেবা কেন্দ্র, জিপি এইসব প্রতিটি যায়গায় আসবার জন্য সাউথ ইস্ট এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, মধ্য প্রাচ্য থেকে হাজার হাজার ডাক্তার আছেন, নার্স আছেন যাদের একবার সুযোগ দিলে তাঁরা আসবেন নিঃসন্দেহে এবং সেক্ষেত্রে তাঁরা প্রোপার ট্যাক্সও দেবেন। ইনফ্যাক্ট ব্রিটীনের হাসপাতালগুলোতে আমাদের দক্ষিন এশিয়ার যেসব ডাক্তার রা রয়েছেন, তাঁদের কর্ম দক্ষতার কথা সর্বজন বিদিত। সকলেই জানেন। পয়েন্ট বেইজড সিস্টেম হলে একজন মানুষের সত্যকারের দক্ষতা মূল্যায়িত হবে এবং তাঁর প্রতি সঠিক বিচার করা হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নাগরিকরা ভাষা শিখবার ব্যাপারে খুব উদাসীন। তাঁরা ইউ জোটের অধীনে হবার কারনে কমিউনিকেশনের ব্যাপারে পাত্তা দিতে চান না। অথচ ব্রিটেনে এসে কমিউনিকেটিভ না হলে সেখানে অবস্থা কি দাঁড়াবে সেটা সহজেই অনুমেয়।

এখানে লক্ষ লক্ষ নন ইউরোপিয়ান মানুষ আছেন যারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মানুষদের এই স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছেন কাজ না পেয়ে, ডিপোর্টেড হচ্ছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য হবার কারনে প্রতি মাসে ব্রিটেনকে দিতে হয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন পাউন্ড এবং এই পাউন্ডের একটা বড় অংশ আসে নন ইউরোপিয়ান ইমিগ্র্যান্টদের প্রদত্ত ট্যাক্স থেকে, এখানে পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রদত্ত ট্যাক্স থেকে এমনকি এই ছাত্র ছাত্রীদের যে অংশ মাত্র ২০ টা ঘন্টা কাজের সুযোগ পান সে ট্যাক্স থেকেও এই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জন্য অর্থ কেটে রাখা হয়। আর সে অর্থ দিয়ে কি হয়? সে অর্থ দিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে আসা লোকজনের বেনিফিট দেয়া হয়। তারা বসে বসে খান আর আর নন ইউরোপিয়ান অভিবাসীরা তাঁদের শরীরের ঘাম ঝরিয়ে এই অর্থের যোগান দেন। এটা কত বড় অন্যায় আর কতবড় অন্যায্য ব্যাপার তা কি বুঝতে পারা এত কঠিন।

রোমানিয়া, বুলগেরিয়া এই জাতীয় পূর্ব ইউরোপের দেশের নাগরিক এখন ব্রিটেনে এসে ভ’রে যাচ্ছে। আগে ইউকে তে পকেটমার, ছিচকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এসব তেমন দেখা যায়নি অথচ এই রোমানিয়া, বুলগেরিয়া এইসব দেশের নাগরিক অবাধে ব্রিটেনে ঢুকবার সাথে সাথেই কি হচ্ছে আপনারা জানেন। আপনি একবার চিন্তা করে দেখেন যে কয়দিন পর যখন তার্কী, বসনিয়ার, আলবেনিয়া, সার্বিয়া মত দেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য হবে তখন এই ব্রিটেনের কি অবস্থা হবে? আলবেনিয়ান আর তুর্কীদের সম্পর্কে যাদের ধারনা আছে, তারা বুঝবেন আমি কি বলতে চাই। এই ব্রিটেন সেক্ষেত্রে খুব শীঘ্রি আরেকটা বসবাসের অযোগ্য দেশ হয়ে যাবে। নন ইউরোপিয়ান যারা আছেন, তারা সেক্ষেত্রে এখনই বাক্স প্যাটরা গোছাতে শুরু করতে পারেন।

আপনারা যারা ইস্টহ্যাম, স্ট্যার্টফোর্ড, আপটন পার্ক, ইলফোর্ড, ম্যানরপার্ক এইসব এলাকাতে থাকেন তাঁরা দেখেছেন রোমানিয়ান মেয়েরা মাথায় ঘোমটা দিয়ে মুসলিম সেজে ভিক্ষা করে, এরা রাস্তার মধ্যে জুয়া খেলে, দলবেধে তারা বেদে দের মত ঘুরে আর মানুষের কাছে হাত পাতে। একবার চিন্তা করে দেখেন তো এই ব্যাক্তিরা যখন সামনের আরো কয়েকমাসে সড়তের মত এই দেশটাকে দখল করে নেবে তখন কি হবে? এদের সাথে আপনি একসাথে আসলেই কি থাকতে পারবেন? সেই মেধা, সেই সামাজিক জ্ঞান, সেই শিক্ষা এদের কতটুকু আছে সে বিবেচনা আমি আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।

অনেকেই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার কথা বললেই অর্থনৈতিক মন্দার ভয় দেখান। ব্যাপারটা এমন যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কারনে মন্দা হয়না বা হচ্ছে না বা হয় নাই আগে।ব্রিটেন কি তার শুরুর ইতিহাস থেকে ইউরোপিয়ান জোটে ছিলো? উত্তর যদি হয় না, তাহলে প্রশ্ন আসবেই যে তখন কি ব্রিটেন মন্দায় ছিলো? ইউরোপের অন্যতম ধনিক দেশ নরওয়ে এই জোটে না থেকে কি খারাপ আছে? সবচাইতে বড় ব্যাপার হচ্ছে ইউরোপিয়ান জোটে থাকলে বিভিন্ন ব্যবসা বানিজ্যে যে বেঁধে দেয়া সংবিধি রয়েছে, যে আরোপ করা নিয়ম রয়েছে সেটি থেকে বের হয়ে ব্রিটেন সারা পৃথিবীর সাথে বাণিজ্য করতে পারবে তাঁদের ইচ্ছে মত, সারা পৃথিবীর রাস্তাই তাঁদের খোলা হয়ে যাবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এই ২৭ টা দেশই পৃথিবী নয়। বরং এই জোট থেকে বের হলে আফ্রিকা, এশিয়া, সাউথ এশিয়া, মধ্য প্রাচ্য, ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর সাথে আরো বেটার অর্থনৈতিক চুক্তি, আরো মান সম্পন্ন পণ্য এবং আরো কম খরচে পণ্য আমদানী ও বেশী লাভে রপ্তানী করা সম্ভব হবে ব্রিটেনের জন্য। ব্রিটেন আজকে সাউথ এশিয়া তার জন্য খুলে দিক, আফ্রিকা খুলে দিক বাণিজ্যের জন্য তাহলে দেখবেন যেই রুটি আমরা ১ পাউন্ড দিয়ে কিনি সেটা ১৫ পেনি দিয়ে কিনতে পারব। মোট কথা ইউ জোটে থেকে আমরা আসলে দিনের পর দিন হারাচ্ছি কেবল। একটা কুয়োর ব্যাঙের মত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে আমরা ভাবছি সারা দুনিয়া, আদতে যা মিথ্যে ও ভুল।

ব্রিটেনের ইকোনমির সবচাইতে যে জরুরী ও গু্রুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এখানে ইনভেস্ট করা দেশ, ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এই জোট থেকে বের হলে ব্রিটেন এই ইনভেস্টের দিয়ার আরো অনেক বেশী সম্প্রসারিত করতে পারবে, আরো বেশী লাভজনক ডিল, ব্যবসার পথ ব্রিটেনের জন্য খুলে যাবে। এমনিতেই ব্রিটেনের আর্থ সামাজিক অবস্থা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এগুলো সকলের কাছেই অনুসরণীয়। এইখানকার গণতান্ত্রিক যে চর্চা কিংবা বাক স্বাধীনতার যে গন্ডী সেসব বিবেচনা করলে বিনিয়োগকারীদের স্বর্গ হচ্ছে ব্রিটেন। আমি বলব, এই ইউরোপিয়ান জোট ছাড়লে ব্রিটেন আরো বেশী করে এই সুনির্দিষ্ট ব্যাপারে ফোকাস করতে পারবে এবং বিনিয়গের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরী হবে।

সাদিক খান, ক্যামেরনের মত নেতারা আমাদের গত কয়েকটা মাস ধরে ভয় দেখিয়ে চলেছেন যে EU ছাড়লে আমরা শেষ হয়ে যাব। আদতে এটা ক্যামরনের ছড়ানো একটা ভয়ের রাজনীতি। এটা এক ধরনের ম্যানিপুলেশনের পদ্ধতি। আমরা ব্রিটেনের নাগরিকেরা স্বাধীনতা চাই আমাদের সার্ভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক তা চাই। আমরা আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা চাই, আমরা অদক্ষ, অশিক্ষিত, বেনিফিটখোর ইউ নাগরিকদের হাত থেকে স্বাধীনতা চাই, আমরা ইউ থেকে আসা সন্ত্রাসী, দাগী আসামী, চোর, ছ্যাঁচরের এই ব্রিটেনে অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র হবার থেকে স্বাধীনতা চাই।

অনেক বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীরা মনে করেন যে ইউ থেকে বের হয়ে গেলে হিউম্যান রাইটস আইন ব্রিটেন ইচ্ছেমত পাল্টাবে, ১০ বছরের সেটেলমেন্ট রুল বন্ধ হয়ে যাবে ইত্যাদি। এইসব প্রতিটি বিষয় হচ্ছে ভয়াবহ গুজব। একটা কথা মাথায় রাখবেন যে হোম অফিস যদি একজন অভিবাসী বা নাগরিকদের ক্ষেত্রে হিউম্যান রাইটস ক্ষেত্রে অন্যায় আচরন করে তবে সেটিকে রেকটিফাই করবার জন্য এই দেশের আদালত আছে। এই দেশের আদালত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং র‍্যাশনাল। আপনি অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন আর এখানকার আদালত তা বসে বসে দেখবে সেটি হবে না। আর এগুলোর সাথে ইউতে থাকা কিংবা না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। আর ১০ বছরের সেটেলমেন্ট আইনের সাথেও ইউ জোটের সম্পর্ক নেই। এগুলো যারা ছড়ায় তাঁরা খুব সন্তর্পণে আপনার মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে, আপনাকে ভয় দেখায় যাতে করে আপনি সারাজীবন অর্থ রোজগার করে ইউরোপের জোটকে চালান আপনার কষ্টের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন জোট ছাড়লে বরং আপনার সত্যকারের দক্ষতা মূল্যায়িত হবে। আপনি বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট ব্যবসার কথাই ধরেন। এই বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টে কয়জন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের লোক কাজ করে? অথচ এখন নানাভাবে চাপ দেয়া হয় প্রথমে ইউরোপিয়ান নাগরিকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে, তারা অদক্ষ হলেও। কিন্তু এই জোট ছাড়লে বরং সবচাইতে বেশী মূল্যায়িত হবেন নন ইউরোপিয়ান দেশের ব্যাক্তিরা। সত্যকার অর্থে তাঁদের যে কাজ করবার ও জানবার ক্ষমতা সেই অধিকতর ভাবে আলোচিত হবে। বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য, অভিবাসীদের জন্য এক অপার দরজা খুলে যাবে।

ব্রিটেন এমন এক দেশ যারা শক্তিশালী গণতন্ত্রের অন্যতম এক প্রতিষ্ঠাকেন্দ্র। এই দেশটি ইউরোপিয়ান জোটে ঢুকে হারিয়েছে পার্লামেন্টারী সভ্রেন্টি, হারিয়েছে নিজস্বতা, হারিয়েছে নিজের শক্তি। আমি বরিস জনসনের সাথে কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলব যে এই ২৩ তারিখ হচ্ছে ব্রিটেনের হারানো স্বাধীনতা উদ্ধারের দিন। আমরা এইদিন ব্রিটেনের স্বাধীনতার জন্য ভোট দেব। আমরা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নামের একটা বোঝা থেকে বিদায় নেবার জন্য ভোট দেব। আমরা “লিভ ইউ” তে ভোট দেব।

আমি ব্রিটেনে বসবাসরত আমার সকল বন্ধু, আত্নীয়, শুভানুধ্যায়ী, পরিচিত/তা কে বিনীতভাবে অনুরোধ করব যে আপনারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দেবেন আগামীকাল ২৩ শে জুন ২০১৬ এবং এই ব্রিটেনকে বাঁচিয়ে রাখবার জন্য আপনার মূল্যবান সিদ্ধান্ত দেবেন।

Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleঢাকার স্মৃতি
Next articleনিজামীকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ও আমাদের প্রাপ্তি
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY