পুড়ে হয়েছি আগুন, এক পরাজয়ে কি আর কষ্ট?

0
476

আমরা যারা আমাদের ক্রিকেটারদের আগুনে পুড়ে পুড়ে এই পর্যন্ত আসতে দেখেছি, আমি নিশ্চিত আমাদের এই জেনারেশন কখনই পরাজয়ে হতাশ হয় না। মালেশিয়ার কুয়ালালাম্পুরের সেই মাঠে আয়ারল্যান্ডের সাথে খেলার আগে বৃষ্টি হয়েছিলো। বাংলাদেশের প্লেয়াররা হোটেল থেকে টাওয়েল এনে সেই টাওয়েল দিয়ে মাঠ শুকিয়ে খেলার জন্য মরিয়া হয়ে গিয়েছিলো, হল্যান্ডের সাথে আকরাম খানের সেই ৬৮ রান আজও বাংলাদেশের ক্রিকেট স্তম্ভ হয়ে অপলক তাকিয়ে রয়েছে স্মৃতির দূর্দান্ত পাতায় আর সেই সাথে পেসার সাইফুল ইসলামের যোগ্য অবদান। আজও কানে ঢাকের মত বেজে ওঠে চৌধুরী জাফুরুল্লাহ শরাফতের সেই কন্ঠ…”মালেশিয়ার কিলাত কিলাব মাঠ থেকে আমি চৌধুরী জাফুরুল্লাহ…”

ফাইনালে কেনিয়াকে হারানো, সারা দেশ রঙের বন্যায় ভাসা। মানিক মিয়া এভিনিউতে লক্ষ জনতার সামনে সংবর্ধনা, গর্ডন গ্রীনিজের নাগরিকত্ব।

তারও আগে এশিয়া কাপে আতাহার আলীর সেই ৮২ রান, আমাদের লিপু, ফারুক, বুলবুল, নান্নু, পাইলট…আমরাই আমাদের সংগ্রামের সাক্ষী। আমরা আমাদের কষ্টের সাক্ষী।

এত কষ্ট করে যেই জাতি ক্রিকেটের এই পর্যায়ে উঠে আসে, হতাশা কি তাদের মানায়? যাদের জন্ম ৯০ দশকের শুরুতে কিংবা এই দশককের মাঝামাঝি সময়ে, ওরা একটু আফসোস করুক, একটু কষ্ট পাক। কারন ওরা যখন বাংলাদেশের ক্রিকেট বুঝতে শিখেছে, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট তার সংগ্রাম শেষ করে মাত্র নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। দুঃখ, শোক হয়ত ওদের মানায়।

আমাদের প্রজন্ম কিংবা আমাদের প্রজন্মের আগের প্রজন্ম বা তারও আগের প্রজন্মের কেউ হতাশ হলে আমার ভালো লাগে না।

Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleরাজাকারদের প্রতি সামান্য হলেও দরদ কেন হোলো বাংলাদেশে?
Next article10 key reasons to “dispatch” MR Bergman: SQC and his red flags
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY