পাকিস্তানের সাম্প্রতিক চিৎকারে যে ব্যাপারটি পরিষ্কার হলো

0
3169

এই  যে সাম্প্রতিক সময়ে একাত্তরের ঘাতকদের দন্ড কার্যকর কিংবা বিচার হলেই যে পাকিস্তানী মাতম, দাবী ও চিৎকার হতে থাকে সেইসব ঘটনাতে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের সমাধান হয়েছে। অন্তত আমার পর্যবেক্ষন সেটি-ই বলে।

এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে জামায়াত সব সময় দাবী করত যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন-১৯৭৩ শুধু মাত্র করা হয়েছে ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য, এই আইন তাদের নেতাদের বিচার করবার জন্য করা হয়নি কিংবা এটি বাংলাদেশী কারো জন্য প্রযোজ্য নয়।এই কথাটি তারা অসংখ্যবার বলেছে, তাদের নেতারা বিভিন্ন টিভি টকশো, বিবৃতি এমনকি আদালতে গিয়েও বলেছে।

আবার অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবী কিন্তু এই দাবী থেকে আলাদা। তারা জামায়াতের ওই দাবীকে কখনোই রেকোগনাইজ-ই করছে না। তারা দাবী করছে যে, জামাত নেতাদের বিচার বাংলাদেশ করতে পারেনা কেননা ১৯৭৪ সালের ত্রি দেশীয় চুক্তি অনুযায়ী এই মুক্তিযুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক নানাবিধ অপরাধেরর বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করেছে এবং বিচার করবে না বলে বলেছে।

আমি যদি পাকিস্তানীদের বক্তব্য আমলে নেই তাহলে তাদের কথার বক্তব্য যেটি দাঁড়ায় তা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে নানাবিধ আন্তর্জাতিক অপরাধ এই জামাতীরা ঠিকি করেছে কিন্তু ১৯৭৪ এর চুক্তির ফলে এটা নিয়ে আর বিচার বাংলাদেশ করতে পারেনা। তারমানে এখানে স্বীকারোক্তি দুটো-

প্রথমটি হচ্ছে- ১৯৫ জন আর্মি অফিসার যাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে তারা যুদ্ধাপরাধী এবং একই সাথে জামাতের অভিযুক্তরাও একই অপরাধে দোষী।(ক্ষমার প্রশ্ন যেহেতু আসছে সেহেতু অপরাধ স্বীকার না করলে ক্ষমার প্রসঙ্গটিও আসে না)

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, জামাতের নেতারা একাত্তরে অপরাধ করেছে ঠিকি, কিন্তু ১৯৭৪ সালের ত্রি দেশীয় চুক্তির ফলে এই জামাত নেতাদের বিচারও করা যাবেনা।

পাকিস্তান কিন্তু কখনৈ বলেনি যে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন-১৯৭৩ এর আওতায় জামাত পড়ছে না। তারা জামাতিদের অপরাধী স্বীকার করে নিয়েই কিন্তু ৭৪ সালের চুক্তিটির প্রসঙ্গ আনছে। সুতরাং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এইসব দাবীতে অপরাধের স্বীকারোক্তিটা পরিষ্কার হয়েছে।

এখন প্রশ্নটা হচ্ছে বিচার আমরা করতে পারব, নাকি পারব না? এটা নিয়ে আর নতুন কথা বলে লাভ নেই। চুক্তিতে কোথাও বাংলাদেশ অংশের অপরাধীদের মাফ করে দেয়া হবে তা বলা নেই, সেটা সবাই এর-ই মধ্যে জানেন।

মাঝখান থেকে যে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে গেলো পাকিস্তানের এই প্রতিবাদ, মাতম ও চিৎকারে সেটি হচ্ছে পাকিস্তান অনেকটা সার্টিফাইড করেই দিয়েছে জামাতীদের অপরাধী বানিয়ে।

Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleLetter to Nizami’s apologist Omar Suleiman
Next articleঢাকার স্মৃতি
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY