দুই ওয়াক্তের ব্যার্থ ধার্মিকঃ ভাতের নাম যখন অন্ন

0
2457

এই বছরের ঘটনা। জুনের প্রথম সপ্তাহের কোনো একদিন। রাস্তায় ভয়াবহতম রোদ। আমার হাতে একটা ছোট তোয়ালে। কিছুক্ষন পর পর মুখ মুছি। এমন গরম আমার জন্য আনিইউজুয়াল। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনে এমন গরম চোখে দেখিনি। যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি সেখানে থেকে সি এন জি ধরার চেষ্টা করলাম। যাবো কোর্ট কাচারী। একটা সি এন জি-ও যাবে না। প্রচন্ড মেজাজ খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছি ঠিক এই মুহুর্তেই কে যেন পেছন থেকে ডাক দিলো।

-আসসালামুয়ালাইকুম। (লম্বা সালাম)। আপনার নাম নিঝুম না?

আমি সাথে সাথেই চিনলাম। শৈশবের বন্ধু তপন (সত্যকারের নামটা আর ব্যবহার করলাম না)। আমি আরে দোস্তো, বলে জড়িয়ে ধরলাম। বন্ধু তপনের গায়ে বিরাট জোব্বা। শরীর দিয়ে মিষ্টি আতরের গন্ধ। মাথায় টুপি। আমার এই বন্ধু মাকুন্দা ছিলো। মানে দাঁড়ি মোছ তেমন ওঠেনি সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি। এখন গালের এখানে সেখানে হালকা দাড়ি। বুঝতে পারলাম সারা জীবনের সঞ্চয় এটি। এখানে আর কাঁচি চালানো হয়নি কখনো।

তপন আমার হাত ধরে অনেক্ষন ধরে হ্যান্ডশেক করলো। হ্যান্ড শেক করে তার দুই হাত আবার বুকে ছোঁয়ালো। এর পর আবার আমার হাত ধরে কচলাতে থাকলো হ্যান্ডশেকের মত করে। অনেকদিন পর আমাকে দেখে তপনের চোখ জ্বলজ্বল করছিলো। সেই শৈশবের বন্ধু। কত দুষ্টুমি আর বান্দ্রামি করেছি একসাথে। আমি কি করি না করি সব খোঁজ খবর নিলো।

আমি বিষ্ময় নিয়ে বলি,

-কি রে শালা এত বড় জোব্বা লাগাইসস। পুরা হুজুর হয়া গেসস দেখি।

তপন কিছুটা লজ্জা পায়। তপনের পাশে আরেকজন কিশোর দাঁড়ানো। বেশ সলজ্জ একটা ভাব নিয়ে শিষ্যের মত তপনের পেছনে দাঁড়িয়ে। তপনকে জিজ্ঞেস করতেই জানা গেলো কিশোরের নাম শিহাব (ছদ্ম)। ওর ছাত্র। নামাজ পড়তে সামনে মসজিদে যাচ্ছে।

তপন এই নামাজের প্রসঙ্গ আসতেই বল্লো, ঢাকা শহরে আসলে ভালো ইমামের মসজিদ পাওয়াটা কঠিন। ঠিকমত বয়ান দিতে পারেনা। জ্ঞান নেই। যেইভাবে নামাজ পড়ায় ওইটা সহি নামাজ না। চারদিকে শুধু কুফর আর কিফর আর শিরক এর আড্ডা খানা।

আমি তখনও মোটামুটি চুপ করে তপনের দিকে তাকিয়ে আছি। তপন একে একে জিজ্ঞেস করে চলেছে আমার মা ভালো আছে কিনা। ছোট ভাই কি করে। আব্বার শরীর কেমন। বহুদিন আমাদের বাসায় যাওয়া হয়না। আমি নাই, তাই যেয়ে কি করবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমিও তপনের খোঁজ নেই। ওকে জানাই যেআম্মার কাছ থেকে ওদের পরিবারের খোঁজ আমি কিছুটা হলেও রাখি। আমি তপনের দিকে তাকিয়ে বেশ স্পস্ট গলায় জিজ্ঞেস করলাম, “তুই এই জোব্বা-যাব্বি ধরসস কবে থেইকা?”

তপন বেশ সপ্রতিভ ভাবে জবাব দেয় এবং বলে, এইটাই হচ্ছে আসল ঠিকানা আমাদের। এই দুনিয়াবি চিন্তা আর ভাবনার বেড়াজালে আমরা “ইনসানেরা” নিমজ্জিত। আখেরাতের কথা নিয়ে ভাবতে থাকাই একজন মুসলিমের কাজ। এই আমলে দেশটা রসাতলে যাচ্ছে। চারিদিকে নাস্তিক আর শিরককারী।

এইসব শুনে আমার ভেতরের এলার্ম বেজে উঁঠলো। ব্লগে, টিভিতে, রেডিওতে, পত্রিকায় এইসব শব্দ নিয়ে কাজ করি, এই সব কথা বার্তা বলা লোকদের নিয়ে কাজ করি সুতরাং তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমি তপনের দিকে তাকাই। আমার ভয়ংকরতম বদ মেজাজ আর একবার ক্ষেপে গেলে কান্ডজ্ঞান হারাই, তপন খুব ভালো করে জানে। আমার চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিটা ওর চোখ এড়ায় নি। কথা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলো। ইরাকে বোমা ফেলার কারনে জেরেমি করবিন ব্লেয়ারকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে কিনা, আমেরিকা এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না করলে বিশ্ব আরো অশান্তির পথে যেতে পারে এই জাতীয় নানাবিধ রাজনৈতিক আলাপ। চট করে তপন বলে উঠলো, তুই তো যুদ্ধাপরাধ নিয়া কাজ করস। এইসব নিয়া লেখ।

আমি কয়েকশো ভোল্টের শক খেয়ে তপনের দিকে তাকালাম। বিষ্ময় নিয়ে বললাম, “তুই কিভাবে জানস আমি যুদ্ধাপরাধ নিয়া কাজ করি? আমি তো তোকে এই কথা বলি নাই!!”

তপন খানিকটা ভড়কে যায়। অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে বলে, “আরে তুই তো ব্লগ লেখস শুনসিলাম। কিছু টিভি শো আর তোর ফেসবুক দেখসি”

আমি এইবার বুঝতে পারি যে আমাকে দেখে তপন বহুদিন পর বন্ধুকে দেখেছে, এই ভান করা ছিলো ওর অভিনয়। আমি কি করি না করি এইটা জানতে চাওয়াও ছিলো ওর অভিনয়। ও খুব ভালো করে জানে আমি কি করি, কি লিখি আর কাদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান।

আমার ভেতর থেকে একটা চাপা ক্রোধ বের হয়ে আসে। আমি তপনকে তার কিশোর ছাত্রের সামনেই জিজ্ঞেস করি, “তুই এখনো ইংলিশ রোডে যাস?”

তপনের চোখে মুখে কিছুটা অপ্রস্তুত আড়ষ্ঠ হাসি। “আরে বন্ধু বাদ দে” বলে কথা ঘোরাতে চায়।

আমি নাছোড়বান্দার মত বলি, “তুই ইংলিশ রোডের ব্রোথেলে যাইতি, মদ ছাড়া তোর চলতো না। তোর বাপটা কত কষ্ট পেয়ে মারা গেলো। তুই এসব ভুলে গেসস?”

পাশে দাঁড়ানো কিশোর ছেলেটার চোখ গোল গোল হয়ে উঠে। কি করবে ঠিক বুঝতে পারেনা।

তপন বুঝলো কোনো এক কারনে আমি ক্রোধে উন্মক্ত হয়ে যাচ্ছি। এক হাতদিয়ে আমার বাম হাত ধরে অন্য হাত দিয়ে আমার শার্টের বোতামটা ঠিক করতে করতে খুব দ্রুত পরস্থিতি ট্যাকেল দেবার চেষ্টা করে বল্লো, “বন্ধু সবার কি সব সময় এক যায়? একটা সময় যা গুনাই করি, এখন আল্লাহর রাস্তায় আসছি। আল্লাহর পথে এসে বুঝতে পেরেছি এই জীবন কত সুখের”

আমি বললাম, “তুই এই জীবনের কোনো মূল্য দেখস না?”

তপন এইবার শক্ত কন্ঠে বলে, “না। এই জীবন হচ্ছে মায়ার খেলা। আমরা এই দুনিয়াতে আসছি অতিথি হিসেবে। এইখানে আল্লাহর শাষন কায়েমই আসলে একজন মুসলমানের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। এই যে দেশে দূর্নীতি, বাটপারী, অশান্তি এসব সব কিছুই হইতেসে এই গণতন্ত্র নামের বিষের জন্য”

এই কথা বলেই তপন চারিদিকে একটু দেখে নেয়।

আমরা অবশ্য কথা বলতে বলতে খানিকটা নিরব যায়গায় চলে এসেছিলাম। তাই তপন নির্ভয় কিন্তু কিছুটা সতর্ক থেকে আবার তার বয়ান শুরু করে।

“এই দেশের সিস্টেমটাই তাগুত। এই তাগুতীরা জাহান্নামী হবে। আজকে আল্লহর শাষন কায়েম না করতে পারলে একদিন আমাদেরকে আখেরাতে আল্লাহ জিজ্ঞেস করবে যে আমরা কি দায়িত্ব পালন করলাম। আমাদের এই ব্যার্থতার জন্য আমাদের সবাইকে জাহান্নামে যেতে হবে”

আমার তখন মেজাজ দ্বিতীয়, তৃতীয় থেকে পঞ্চম ছাড়িয়ে সপ্তমের কাছাকাছি।

আমি বললাম, “তাহলে তুই সবাইকে মুসলমান বানানোর মিশনে নেমেছিস এবং ধরে নিচ্ছি তুই ইসলামের সব কিছু বুঝে বসে আছিস। তুই জানিস যে আখেরাতে তোকে কি কি জিজ্ঞেস করা হবে? তাই তো?”

তপন এবার খানিকটা ব্যাকফুটে গিয়ে বলে, “সব বুঝে গেসি তো বলি নাই। কিন্তু আল্লাহর হুকুম আহকাম সঠিক ভাবে পালনের তৌফিক আমাকে দান করেছে। সেই কথাটাই আমি সবাইকে বুঝাই। এই তাগুতের বিরুদ্ধে লড়াই না থামলে দেশের অনাহারীর সংখ্যা কমবে না। দারিদ্র কমবে না”

আমি এইবার আমার সব রাগ উগড়ে দিলাম,

“তুই এক সময় বাপের টাকায় ব্রোথেলে যাইতি, মদ খাইতি, টাকা উড়াইতি। তোর বাপটা মরলো তোকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে। জানিনা খালাম্মা কেমন আছে এখন কিংবা তোর দুই ভাই বোন। তুই কবে থেকে এমন নবী হইসস তাও আমি জানিনা। তবে মুশকিল হইসে তোর নতুন বাল উঠার পর তুই সেইটা সারাদিন হাতানি শুরু করসস। তোর যেহেতু বাল উঠতো না আর তুই এইটা নিয়া হতাশা ছিলো তাই তোর ধারনা ছিলো পৃথিবীর আর কারোই বাল উঠেনা। এরপর তুই কি করলি? তুই আশে পাশের সব মানুষের বাল হাতানি শুরু করলি চেক করার লাইগা যে সবার তোর মত বাল উঠসে কিনা। কিন্তু তুই জানস না যে দাদারে চোদা শেখানো কতটা হাস্যকর। শালা সারাজীবন বাপটারে কষ্ট দিসস, মা টারে কষ্ট দিসস আর এখন্ জোব্বা পইরা হইসস তালেবর। লাথি একটা দিমু যে আরেকটা দেয়ার আগে বাপ ডাকবি। তাগুত **ইতে আইসস!! দুই ওয়াক্তের হুজুর, ভাতরে কস অন্ন?”

তপন আমাকে থামানোর চেষ্টা করে। আমি ঝটকা দিয়ে অর হাত সরাই। বলতে থাকি-

“তুই আমাকে দেখে ভান করেছিস যে আমার ব্যাপারে তুই কিছুই জানস না। কিন্তু আমি কি লিখি, না লিখি সব তুই খোঁজ রাখস। এইটা তোর অভিনয় আর ভান। তোর সারা জীবনটাই আসলে ভান। নামাজ রোজা ধরসস এইটা চমৎকার ব্যাপার। আগে খারাপ ছিলি এখন ভালো হইতে চাইতেসস এইটাও এপ্রিশিয়েট করা দরকার কিন্তু তুই ধর্মে কর্মে আইসাই সবাইরে জ্ঞান দেয়া শুরু করসস। এর নামাজ হয় না, ওর নামাজ হয়না। এই ইমাম বয়ান পারে না, ওই ইমাম বয়ান পারে না। তুই সেইদিনের পোলা, আর তুই তোর বাপের বয়সী ইমামের ভুল ত্রুটি ধরস। এই মসজিদে আমি আর তুই কত নামাজ পড়তে গেসি? এই ইমামরে তুই চিনস না? তুই আজকে নব্য চ্যাটের বাল হইসস? তাগুতি শেখাস আমারে?

এই দেশের গণতন্ত্রের চালাবার দক্ষতা নিয়া প্রশ্ন আসতে পারে। এক্টা ভালো নেতার বা নেত্রীর কথা আমরা তুলতে পারি কিংবা এক্সিসটিং সরকারকে কে বুঝিয়ে, বাধ্য করে আমরা গণতন্ত্রের পথে নতুন উন্মেষ ঘটাইতে পারি কিন্তু মূল ভাব গণতন্ত্রের কোনো দোষ নাই। তুই তাগুতি ফাগুতি নিয়া আসস কারন তুই ছোটবেলা থেকেই ছিলি মূর্খ। একটা বাইরের বই-ও তুই পড়স নাই। যেই বছর মেট্রিকে গরু ছাগল পর্যন্ত ফার্স্ট ডিভিশন পাইসে ওই সময় তুই পাইসস থার্ড ডিভিশন। ইন্টার দুইবার দিসস। একবারও পাশ করতে পারস নাই। তিনবারের সময় কত কাহিনী করে পাশ করসস। তুই আমারে শেখাস তাগুত?

তুই রাষ্ট্র বিজ্ঞান জানস না, দেশ কেমনে চালাইতে হয় জানস না। যে কোনো সিস্টেমের ভুল চালনা সেই সিস্টেম অকার্যকর ওইটা প্রমাণ করেনা বরং না চালাইতে পারার ব্যার্থতা প্রমাণ করে। অথচ তুই একটা ধর্ম গ্রন্থের আদলে দেশ চালাইতে চাশ। এত করে রক্ত দিলো এত লোক, তোর মত বাল পাকনা পোলাপাইনের খেলাফতের জন্য? শালা চুদির ভাই। তোর বাপেও তো মুক্তিযোদ্ধা ছিলো। নিজের বাপের প্রতিও সামান্য শ্রদ্ধা বোধ নাই তোর। তুই কোরানটাও ঠিক মত পড়সস বইলা আমার মনে হয়না। তিন পাতা কোরান পইড়া লা ইলাহার জ্ঞান দেস আমারে? ইসলাম শেখাস?”

বন্ধু…বন্ধু…তপন অনেকটা কাকুতি করে থামার জন্য। আমি তখন বারুদের মত রুগ্নমূর্তি ধারন করেছি। বলতে থাকি-

“তুই বেহশতে যাইতে চাশ। তুই বেহেশতে যাইতে চাইলে একা যা। তোরে মাতব্বরি চো**ইতে বলসে কে অন্যকে মুসলমান বানায়া সেখানে নেবার? তুই কি বেহেশতে নেওনের এজেন্ট? তোরে কি আল্লাহ ঠিকাদার বানাইসে বেহেশতের? তুই এই কাজটা করস নিজের স্বার্থের জন্য। তোর ধারনা মরার পর তোরে আল্লাহ জিগাইবো যে তুই ইসলামের পথে সবাইরে আনসস কিনা। তুই আল্লাহর আইন দেশে চালু করসিলি কিনা। আর এই উত্তর যদি নেগেটিভ হয় তাইলে তোর ধারনা তুই আর বেহেশত পাবিনা। এর লাইগাই তুই এসব করস। তুই কোনদিন আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা থেকে ইসলাম প্রচার করস নাই। তুই করসস বেহেশত নিশ্চিত করার লাইগা। যদি তোর জানামতে এইসব না কইরাও বেহেশত পাওয়া যাইতো, তুই কোনদিন তাগুতি ফাগুতি কইতিনা। তুই তখন নিজের ধান্দায় থাকতি। তুই হইলি একটা লাভী। তুই আসলে নিজের বেহেশতের লোভে এইকাজ গুলা করস। কিছু পাওয়ার লোভে করতে আইসা হুজুর সাজস।

তোর গায়ের আতর, তোর দামী কাপড়ের জোব্বা, তোর হাতের ঘড়ি, তোর জুতা এইসব কম দামী পইড়াও তুই সেই টাকা বাচায়া গরীবরে দিতে পারতি। তুই এইসব কিছুই করস নাই। তুই পড়ালেখা করস নাই। তোর শিক্ষা নাই। তোর আর কোনো উপায় নাই। আর এই কারনেই তুই এই লাইনে আইসা এখন এস্ট্রিমিস্ট হইসস। তুই একতা লুজার। লুজার হইসস বইলাই শুধু নিজের ভেতরে সেই সব না পাওয়া নিয়া তুই আজকে রাস্তায়। তোর ভেতরের ক্রোধ দিয়া আসলে তুই সব চালাস।

একটা গার্লফ্রেন্ড ছিলো তোর। তাকেও হারাইসস তুই। কারন কি? কারন তুই মেট্রিক থার্ড ডিভিশন আর ইন্টার দুইবার ফেল। তুই সারাটাজীবন নিজের কারনে সব হারাইসস এখন হারায়া মারায়া দেশের গোয়া মারতে চাস”

তপন শক্ত করে আমার হাত ধরে রাখে। আশে পাশে কিছু মানুষ জড়ো হয়েছে আমার বিকট স্বরের চিল্লানো শুনে। শিহাব নামের কিশোর ছেলেটা মাথার টুপিটা খুলে সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কাকে যেন ফোন দিচ্ছে।

আমি গগন বিদারী চিৎকার দিয়ে বললাম “ওই কারে ফোন দেস? এইদিকে আয়”

কিশোর দৌড়ে আসে। চোখে মুখে আতংক। বললাম তোর ওস্তাদরে নিয়া যা। তপন আমার দিকে এক ব্যার্থ মানুষের দৃষ্টি নিয়ে তাকায়। অপমানে, কষ্টে পুরো মুখটা এতটুকু হয়ে গেছে। আশে পাশের থেকে কে যেন আমাকে জিজ্ঞেস করে “কি হইসে ভাই?”

আমি সবাইকে এখান থেকে সরে যেতে বলি। বলি কিছুনা, ফ্রেন্ডদের মধ্যে কথা হচ্ছে। পাশের ডিস্পেনসারির ফরিদ ভাই আমাকে চেনে। এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে কোন সমস্যা কিনা। আমি মাথা নাড়ি। “সমস্যা নাই ফরিদ ভাই। আপনি যান”

কেউ কেউ সরে যায়, কেউ যায়না। কেউ কিছুটা মজা দেখার আশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আমি তপন আর শিহাবকে ফেলে সামনে হাঁটা দেই। তপনের দিকে তাকাইনা।

তপনকে নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি। আমার শৈশব, কৈশোর সব কিছুতে তপনের স্মৃতি। আমার জীবনের অসংখ্য কষ্ট, আনন্দের সাক্ষী তপন। এক সাথে খ্যাপে ক্রিকেট খেলতে যেতাম, ব্যাডমিন্টন খেলতে যেতাম, ফুটবল খেলতে যেতাম। কত মারামারি করেছি এই পাড়া ঐ পাড়ার ছেলেদের সাথে। সব কিছুর সঙ্গী তপন। আমার প্রথম প্রেমের ব্যার্থতার কষ্টের সেই সময়গুলোতে তপন ছিলো পাশে। মাত্র ১৩ টা বছরে তপন এত পালটে গেলো? আমি নিজেকে আর কিছু নিয়েই প্রোবোধ দিতে পারিনা।

কি এক কষ্টে আমি নিমজ্জিত হতে থাকি…ডুবে যেতে থাকি…

Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleজঙ্গীদের একটি অডিও টেপঃ ইন্টারনাল বিরোধ চরমে
Next articleজাতির পিতার হত্যাকান্ডের বিচার এবং শেখ হাসিনার ভূমিকা
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY