ঢাকার স্মৃতি

0
1202
(১) নীলক্ষেতের যে মোড়টা আছে নিউ মার্কেটের দিকে, ঠিক সেখানে একটা ট্রাফিক স্ট্যান্ড আছে। মানে হোম ইকোনোমিক্স কলেজের সামনে দিয়ে যেখান থেকে বাসগুলো থামে শ্যামলী, মিরপুর যাবার জন্য সে দিকের কথা বলছি। সেই ট্রাফিক স্ট্যান্ডের কাছে এসে দাঁড়িয়েছি রাস্তা পার হবার জন্য। পরিকল্পনা ছিলো, যে গাড়ি পাব সেটাতেই উঠে পড়ব। বাস, সি এন জি কিংবা ক্যাব। ট্রাফিক স্ট্যান্ডের কাছে দাঁড়াতেই পায়ে কিসের সাথে যেন হোঁচট খেলাম। যায়গাটা বেশ অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। একটু ঝুঁকে তাকাতেই দেখলাম এক নারী তাঁর দুটো শিশু নিয়ে জড়ো সড়ো হয়ে সেখানে শুয়ে রয়েছেন। ধারনা করছি শিশু দু’টি তাঁরই সন্তান। আশে পাশে বাস, রিকশা, সি এন জি, প্রাইভেট কার, মানুষ, সব কিছু থেকে আসা প্রচন্ড শব্দ, পদচারণা মিলে হৈ হুল্লোড় কান্ড। কিন্তু এই পরিবারটি সেসব শব্দ, কোলাহলকে থোড়াই কেয়ার করে শুয়ে রয়েছেন। ঢাকাতে খুব মশা, অন্যদিকে গরম। কোনো কিছুতেই ভ্রুক্ষেপ নেই। দু’টো ফুটফুটে শিশু নিয়ে একটা তেল চিট চিটে কাঁথা নিয়ে শুয়ে রয়েছে তাঁরা।
(২) আরেকদিন রিকশায় যেতে যেতে সাঈদুল ভাইয়ের সাথে কথা হোলো। রিকশা নিয়েছি বাংলা মটর থেকে। যাব মধুর ক্যান্টিন। আখতারুজ্জামান আজাদ ভাইয়ের সাথে দেখা করতে।সাঈদুল ভাই রিকশা চালাচ্ছিলেন। সিঙ্গাপুরে গিয়ে প্রতারিত হয়ে ফিরে এসেছেন। এখন রিকশা চালান। জমি-জমা যা ছিলো সব বেঁচে তিনি সিঙ্গাপুরে গেছেন। এখন সর্বশান্ত। বয়স প্রায় ৩২ এর মত। বিয়ে করেছেন। ৯ মাসের একটি সন্তান রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি, ব্লগার হত্যা, হাসিনা, খালেদা, এরশাদ সব প্রসঙ্গেই সাঈদুল ভাই আমার দিকে বড় বড় চোখ নিয়ে তাকিয়েছিলো। হয়ত মনে মনে বলছিলো, “লোকটি তো বড় নির্দয়!! যে জীবনে আছি সেখানে বেঁচে থাকাটাই হচ্ছে প্রতি মুহূর্তের ভাবনা। আর সে জীবনে বাংলাদেশের রাজনীতি, হাসিনা, খালেদা? কেন এরা এসব ফালতু কথা বলে কষ্ট দেয়?”
 
(৩) শ্যামলী সিনেমা হলের সামনে থেকে মোহাম্মদপুরে যাব। রিকশা নিয়েছি। কথা বলা শুরু করেছি রিক্সা চালক ভাইয়ের সাথে। কত কথা! জীবনের কথা, জীবন চলবার কথা,জীবন না চলবার কথা। কষ্টের কথা, সংগ্রামের কথা। ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে তাঁর। ক্লাস ফোরে পড়ছে। সে মেয়েটির কথা। প্রসঙ্গক্রমে উঠেছিলো মাছের দামের কথা, চালের দামের কথা, তেলের দামের কথা, সবজীর দামের কথা। কোনো কিছুই তাঁর আয়ত্তের মধ্যে নেই। তারপরেও সংসার চলে। দিন চলে। উনি জানেন এই জীবনটা তাঁর জন্য দূর্বিষহ। এত বড় বড় অট্টালিকা, এত গাড়ি রাস্তায়, এত নতুন মডেলের প্রাইভেট কার, এত শপিং সেন্টার, এত বিত্তবান চারদিকে। শুধু তাঁর কিছু নেই। কিছু নেই।
 
(৪) লিটন ভাইয়ের সাথে এক সি এন জি তে করে ডেইলী স্টার ভবনের সামনে থেকে বাসায় এলাম। লিটন ভাই শ্রমিক লীগের নেতা। গোপালগঞ্জে বাড়ী। এই সময়ের এমন দু দুটো “ক্ষমতাময়” পরিচয় থাকবার পরেও তিনি সি এন জি চালান। বিনয়ের সাথে জানালেন তিনি কলেজে পড়বার সময় ভিপি ছিলেন সে কলেজের। নাম, ঠিকানা সব গোপন রেখে বলছিলেন সব কথা।বল্লেন, আজ তাঁর সি এন জি’র জমাই ওঠেনি। মালিকের জমা প্রায় ১১০০ টাকা। কি করবেন আজকে কিংবা কাল, কিছুই জানেন না। দলীয় বা আঞ্চলিক ক্ষমতা খাটাতে নিজেকে তাঁর অত্যন্ত ছোট মনে হয়। খুব কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “যে জীবন এত কষ্টের, সেখানে রাজনীতি কেন করেন? এসব করে সময় নষ্ট করে লাভ কি?” সহাস্যে, উত্তর দেন, “ভাবলাম পরিবর্তন যদি আসে” এই বলে লিটন ভাই হাসেন (ছদ্ম নাম), আমিও হাসি। “পরিবর্তন” শব্দটা আমাদের দু’জনের কাছেই একটা হাসির শব্দ বলে বিবেচিত হয়।
 
(৫) পুরোনো ঢাকার যে রোডে আমি আর ইদরীস ভাই ঢুকেছিলাম একটা রিক্সা নিয়ে সেখানে খানিকটা ফুরসত পেয়ে রিক্সায় গা এলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করি ইদরীস ভাইকে, “জীবন কেমন যাচ্ছে?”। শুধু এ কথা কেন, ইদরীস ভাই আমার কোনো কথারই উত্তর দেননি। শুধু নামটা জানতে পেরেছিলাম। খুব সম্ভবত মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলেন। রিকশা চালাবার সময় তাঁর মুখ দিয়ে দূর্বোধ্য এক শব্দ বেরোচ্ছিলো যখন আমাকে টেনে নিচ্ছিলেন তিনি প্যারিদাস রোডের খানা খন্দ মাড়িয়ে। তীব্র গরমে তাঁর সেই টেনে নেয়ার শব্দ, আমার প্রতি তাঁর নির্লিপ্ততা, তাঁর ঘাড়ের পুরোটা জুড়ে ঘামে ভেজা পানি আমাকে অনেক উত্তর দিয়ে দিয়েছিলো। আমি নেমে যাই ৬৮-৬৯ প্যারিদাস রোডে। ইদরীস ভাই চলে যান নতুন যাত্রীর খোঁজে।
 
(৬) আমাদের বাসায় কাজ করতে এসেছেন পেয়ারা আপা। তাঁর সাথে সন্তান মারিয়া।স্বামী মারা গেছেন ৬ মাস হোলো। ৫ বছরের আরেকটি মেয়েকে তাঁর শাশুড়ীর কাছে রেখে এসেছেন। সাথে নিয়ে এসেছেন আড়াই বছরের মারিয়াকে। স্বামীর মৃত্যুর পর উনি তেমন শোক করতে পারেন নি। জীবনের যুদ্ধ, বাস্তবতা, সংগ্রাম তাঁকে অন্যের বাড়ীতে কাজে নিয়ে এসেছে।শোক করতে গেলে না খেয়ে থাকতে হবে। তিনি কাজ করতে গেলেই গুটি গুটি পায়ে মারিয়া সেখানে এসে হাজির হয়।মারিয়া এখনো বুঝেনি কিছু। ও আমাদের দেখলে ভয় পায়। মা’র কাছেই ওর যাবতীয় নিরাপত্তা। ঢাকায় থাকতে আমি খুব ভোরে উঠতাম। ডাইনিং টেবিলে বসে আড়চোখে মা আর মেয়ের ভালোবাসা দেখতাম অপরাধী চোখে। পেয়ারা আপা রুটি বানাচ্ছেন আর একটু একটু ছিঁড়ে মারিয়াকে আলুভাজি দিয়ে খাওয়াচ্ছেন। মারিয়া একটি পিড়িতে বসে সে ভালোবাসার পুরো আঁচ নিয়ে নিচ্ছেন।একদিন পেয়ারা আপাকে মুখ ফসকে বলে বসলাম, এইভাবে কতদিন কাজ করবেন অন্যের বাসায়? এই বাচ্চাগুলোকে নিয়ে কি করবেন? পেয়ারা আপা অনেক্ষন ধরে চুপ করে রইলেন। এক সময় মৃদু স্বরে বললেন, “জানিনা ভাইয়া”।
(৭) আমার প্রিয় বন্ধু তানিম নূর আমার রাজনৈতিক কোনো লেখা পড়েন না। এসব লেখা তাঁর কাছে ট্র্যাশ মনে হয়। ইনফ্যাক্ট শুধু আমার লেখা না। যে কোনো রাজনৈতিক আলাপ, দেশপ্রেমিক জাতীয় কথা বার্তা, জাতীয়তাবাদ, চেতনার তীব্র স্ফুরণ সবকিছু থেকে তানিম নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তানিম শুধু পড়েন পছন্দের উপন্যাস, স্মৃতিকথা, চলচ্চিত্র কিংবা রাজনীতি বিবর্জিত বই। আমার এই বন্ধুটি অত্যন্ত মেধাবী চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিজ্ঞাপন নির্মাতা। “ফিরে এসো বেহুলা” নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন আজ থেকে বছর চারেক আগে। নিজের প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে। এসব নিয়েই ও ব্যস্ত থাকতে চায়। কেউ যদি ট্রাকটর নিয়ে বিজ্ঞাপন বানাতে চায় বানিয়ে দেবে, কেউ লুঙ্গি নিয়ে বিজ্ঞাপন বানাতে চাইলে বানিয়ে দেবে। কেউ মিলিয়ন ডলারের পুঁজি নিয়ে চলচ্চিত্র বানাতে চাইলে সেটিও তিনি বানিয়ে দেবেন। অসংখ্য হতাশার একটা একক যোগফল তানিম তাঁর কথায় তুলে ধরেন খুব সন্তর্পণে। পুরোটা না বল্লেও আমি বুঝে নেবার চেষ্টা করি। আমি তানিমের বক্তব্যে এই দেশকে বুঝবার প্রাণপণ চেষ্টা চালাই। আমরা শৈশবের বন্ধু হলেও তানিম এক দিক থেকে আমার শিক্ষক। তিনিই আমাকে বই পড়তে শিখিয়েছেন, জীবনকে নানাভাবে চিনিয়েছেন, ঘরের গন্ডী থেকে তানিম আমাকে বের করে নতুন নতুন জীবনের সন্ধান দিয়েছিলেন। তানিমের সাথে কথা বলে আমি বড় স্বস্তিবোধ করি।
পরিশিষ্টঃ
ফেসবুকের এই নীল সাদা পাতায় আমরা কত কথা বলি। জাসদ আর আওয়ামীলীগের শুরু হওয়া সাম্প্রতিক বাহাস, তত্বাবধায়ক সরকার, রাজনীতি, নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, রাজাকার, আলবদর, নারী নির্যাতন, তনু, রাকিব, রাজন, জঙ্গী, ব্লগার, ধর্ম, নাস্তিক, আস্তিক, সমকামী কত কিছু…কত কিছু…
শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে নেমে মনে হয়েছে এই বাংলাদেশ ফেসবুকের নীল আর সাদার ছোট একটা জগৎ নয়। এই বাংলাদেশের সত্যকারের কাহিনী হচ্ছে এই ফেসবুকের বাইরের জীবন। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতম এক ক্যানভাস যার প্রতিটি কোনায় কোনায় গল্প আর গল্প। এই বাংলাদেশে একদিকে প্রচুর বিত্তবান আর অন্যদিকে একেবারেই বিত্তহীন এক গোষ্ঠী। একটা পক্ষ খেত পায়না কিংবা বাঁচার জন্য প্রতি মূহূর্তে সংগ্রাম করছে আর আরেকটা পক্ষের জীবন যাপন দেখলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় তাঁরা বাংলাদেশী কিংবা এটি বাংলাদেশ ঠিক যেমন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঢুকলে মনে হয় লন্ডনের কোনো এলাকায় চলে এসেছি, তেমন।
ঢাকার প্রতি এলাকার অলিতে গলিতে ইয়া বড় বিলবোর্ডে লেখা রয়েছে সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি। মধ্য আয়ের দেশ, সর্বোচ্চ জিডিপি অর্জনে সফল, সাগর জয়, হিমালয় জয় হ্যান ত্যান আর কত কি… প্রতিটি বিলবোর্ডকে মনে হোলো কাঁটা গায়ে লবন-মরিচ ছিটিয়ে দিচ্ছে এমন। প্রখর গরমে ইদরীস ভাই, লিটন ভাই, সাঈদুল ভাইরা তাঁদের বাহন টেনে নিয়ে যান এইসব বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে। এইসব বিলবোর্ডের গোড়াতে যে থু থু দেবেন, সে সময়ও তাঁদের নেই ইনফ্যাক্ট হয়ত তাঁরা জানেনও না এসব বিলবোর্ডের ভাষ্য নিয়ে।
একটা দেশের বয়স প্রায় ৪৫ বৎসর। এই মধ্য বয়সের একটি দেশ যে সংগ্রামের মাধ্যমে রচিত হয়েছিলো সে দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমার কি কথা ছিলো এমন সুতীব্র হতাশা নিয়ে এসব লেখা লিখবার? আমাদের পাশের দেশ মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান কি গতিতে এগিয়েছে? সেখানে এক একজন মানুষের জীবনের কি অপার মর্যাদা! হয়ত সে জীবনও পরিপূর্ণ নয় কিন্তু আমাদের দেশের সাথে তুলনা করলে অনেক অনেক যোজন এগিয়ে তাঁরা। কিন্তু প্রশ্ন আসবেই, আমরা পারিনি কেন?
আমরা পারিনি কেন এই প্রশ্ন আর তার উত্তর সবার জানা। পারিনি এই দেশের রাজনীতির জন্য। পারিনি এই দেশ যারা চালিয়েছিলেন আর চালাচ্ছেন তাদের জন্য। দু’টো, তিনটি রাজনৈতিক দল আর তাদের পরিবার এই দেশটিকে সিম্পলী লুটপাট করেছে আর করে চলেছে। দেশ নিয়ে তাদের কোনো চিন্তাও নেই, ভাবনাও নেই। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ্দের কোনো লক্ষ্য নেই। শুধু উলটে পালটে দাও আর লুটে পুটে খাও। বি এন পি-আওয়ামীলীগ প্রকাশ্য মারামারি সব কিছুই সাজানো নাটক। মূল কথা হচ্ছে, ক্ষমতা দরকার লুটবার জন্য। ব্যাস। এটাই সার কথা।
বাংলাদেশে যাচ্ছি কিংবা যাব বা এসেছি বা আসব এই কথাটা এখন আর ঘোষনা দিয়ে বলা যায়না। দেশ ছাড়ার পর অন্য দেশের এয়ারপোর্টে বসে কিংবা গন্তব্যে ফিরে জানাতে হয় দেশে এসেছি বা এসেছিলাম। প্রতিটি মূহূর্তে আতংকে থাকতে হয় কেউ কোপ দেবার জন্য আশে পাশে ঘুরছে কিনা, কেউ তাকাচ্ছে কিনা, কেউ অনুসরণ করছে কিনা। শুধু এই কথাগুলোই দেশকে বুঝতে পারার জন্য হয়ত যথেষ্ঠ। এর থেকে বেশী কিছু না বললেও চলে…
Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleপাকিস্তানের সাম্প্রতিক চিৎকারে যে ব্যাপারটি পরিষ্কার হলো
Next articleযে কারনে আমি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY