গবুচন্দ্র দেশের গাবিনা ও সৌমিত্র কুমার মিনহা

0
1650

ধরা যাক রাজ্যের নাম গবু চন্দ্র দেশ। সেই দেশের রাণী গাবিনা। সেই গবু চন্দ্র দেশের একজন বৃদ্ধ প্রধান বিচারপতির নাম সৌমিত্র কুমার মিনহা। ধরা যাক গবু চন্দ্র রাজ্যে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হলো।

কিংবা ধরা যাক সেই বিচারপতিকে সারাদিন হুমকি ধামকি দেয়া শুরু হলো গাবিনার সামরিক গোয়েন্দাবাহিনী দিয়ে। বৃদ্ধ বিচারপতির আত্নীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে সামরিক গোয়েন্দারা তাঁদের ডেরাতে ধরে নিয়ে গিয়ে মানসিক নির্যাতন করা শুরু করলো, তাঁদেরকে সারাদিন নজরদারি করা শুরু করলো। ধরা যাক সেই বিচারপতি ভয়ানক এক রোখা। কিছুতেই তিনি বিচার বিভাগের উপর গাবিনার হস্তক্ষেপ মেনে নেবেনা। তিনি বিশ্বাস করেন বিচারবিভাগ যদি এই গবুচব্দ্র দেশে শেষ হয়ে যায় তাহলে এই গবু দেশের আর কিছুই থাকেনা। কেননা এইখানকার আর বাকি সব নষ্ট হয়ে গেছে।

কিন্তু গাবিনা চায় বিচার বিভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রন। তিনি মনে করেন আমার বিলাই আমার ছাও, আমারে কয় ম্যাও?

এই যখন অবস্থা তখন সৌমিত্র কুমার মিনহা ঝলসে ওঠেন। তিনি বুঝতে পারেন এই দেশ শেষ হয়ে যাবে। তাই তিনি গাবিনার গোয়াল ঘরের একটি সংশোধনী বাতিল করে দেন। ব্যাস তার পর থেকেই গাবিনা আর তার দলবল লেগে যায় মাননীয় সৌমিত্রের পিছু।

অনেক কাব জাবের পর এই বৃদ্ধ বিচারপতিকে টলাতে পারেনি গাবিনার আইন মন্ত্রী ফানিসুল বক ও আইন সচিব গাবু গহিরুল।

ধরা যাক সেই দেশে একজন মানসিক ভাবে অসুস্থ একজন সাবেক বিচারপতি ছিলো। তার নাম কোপা গামসু। কোপা গামসুর অনেক টাকা। এর টাকা মেরে দেয়, ওর টাকা মেরে দেয়, দূর্নীতিবাজী করে। সোজা কোথায় একটা সাক্ষাৎ হারামী। গাবিনার মন্ত্রীরা কিংবা সামরিক গোয়েন্দারা এই কোপা গামসুকে লেলিয়ে দিলো সৌমিত্র কুমার মিনহার বিরুদ্ধে। এদিকে কোপা গামসু আইনমন্ত্রী ফানিসুল বক কে সরিয়ে নিজেই আইনমন্ত্রী হতে চায় কিংবা রাজ্যের একটি অংশের এম পি। এই নিয়ে সে দেন দরবারও করেছে। কিন্তু গাবিনার অনেক বড় বড় মন্ত্রীরা কোপা গামসুকে স্যাডিস্ট মনে করে বলে সে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনা। মন্ত্রীদের একজন গোফায়েল গাহমেদ বলেই দিয়েছে এই কোপাকে সরকারের কোথাও নেয়া যাবে না। সুতরাং দালালী করেই কোপা’র জীবন চলে যায়। কোপা গামসু সৌমিত্রকে একবার রাজাকার বানায়, একবার দূর্নীতিবাজ বানায়, একবার ষড়যন্ত্রকারী বানায়।

তারপরেও কোনো লাভ হয়না।

এদিকে সামরিক গোয়েন্দারা একের পর এক দেশের তরুন, যুবক, কিশোর, বৃদ্ধ দের ঘর থেকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। নিয়ে গিয়ে কখনো মেরে ফেলে, কখনো জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করে।একে একে গুম হয় প্রেমাংশু দাশ, জুলিয়াস সিজার, অবিরুদ্ধ হায়-দের মত অনেকেই।

এইসব গুম, নির্যাতনে গবুচব্দ্র দেশের রাণী গাবিনার কোনো সমস্যা হয়না। তিনি তাঁর গোয়ালঘরে তাঁর সব গৃহপালিত পশু পাখিদের সামনে গিয়ে বলেন, আমাদের পাশের দেশে গুম হচ্ছে, ফিরিঙ্গিদের দেশে ২ লক্ষ ৭০ হাজার জন গুম হচ্ছে, শুধু আমার রাজ্যের গাংবাদিকরা কেন এত কসভ্য? কেন তারা শুধু আমাদের এই সব গুম নিয়ে লেখে? হুম নিয়ে লেখে?

যাই হোক প্রধান বিচারপতি সৌমিত্র কুমারকে পদত্যাগ না করাতে পেরে ঐ দেশের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী কি জি গেফ গাই (KGGG) বনিরুদ্ধ হায় কে গুম করে তাকে খুন করে ফেলবে এমন হুমকি ও ভিডিও বানায়। এদিকে চিকিৎসার জন্য সৌমিত্র রায় গবু চন্দ্র দেশের বাইরে। এরই মধ্যে হয়ে গেছে অনেক কিছু। সৌমিত্র কুমারের বিরুদ্ধে গাবিনার কম্বল চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁর মাছ ওয়ালা পুকুর চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি

সৌমিত্র কুমার মিনহা যখন মিঙ্গাপুর নামক একটি রাষ্ট্র দিয়ে বানাডা নামের এক দেশে যাচ্ছিলেন ঠিই তখন কে জি গেফ গাই এর গোয়েন্দারা তাকে চুড়ান্ত সতর্ক করে দেয়। পদত্যাগে সাক্ষর করেন নাইলে অবিরুদ্ধ হায় শেষ।

গবু চন্দ্র দেশের প্রধান বিচারপতি একটা মানুষকে বাঁচাতে পদত্যাগে সাক্ষর করেন।

আর সাক্ষর করার পর পর গাবিনার সকল সমর্থক উল্লাসে রাস্তায় নামে। ধরা যাক এইসব সমর্থকের নাম কাউয়া।

কাউয়ারা বলতে থাকে গবুচন্দ্র দেশের জয় হয়েছে। জয় হয়েছে… কা কা কা কা কা

(গল্পের নাম গাবিনার কাউয়া। জীবিত বা মৃত কিংবা অর্ধমৃত কারো সাথে এই গল্পের মিল খুঁজে পেলে লেখকের কাছে দয়া করে জানাবেন। তিনি হা হা করে হাসবেন। তিনি হাসতে চান।)

Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleডি জি এফ আই থামবে কবে?
Next articleকেন বাংলাদেশের মানুষ DGFI-কে ভয় পায়?
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY