একজন ক্রীতদাস

0
536

উৎসর্গঃ সমুদ্র গুপ্তকে। একজন দূরের মানুষ…একজন অচেনা মানুষ…

এক
আমার সাধারণত এরকম হয়না। অসহ্য রকমের গরম লাগছে। পিঠের উপর “কিছু রেখে দিলে সিদ্ধ হয়ে যাবে” টাইপ গরম। এটা কি মাস? এই সময় এত গরম থাকে নাকি? সারাদিন ফিচফিচ করে বৃষ্টি হবার কথা। অবশ্য গরম লাগবার জন্য এই ঘরটার একটা বিশেষ ভূমিকা আছে বলেই আমার ধারনা। ঘরবাড়ীর মাপ-ঝোঁক সম্পর্কে আমার খুব একটা ভাল ধারনা নেই । আন্দাজ করে বলতে পারিনা । তবে বর্গাকৃতি নামে যেই মাপের ব্যাপারটা জানি, তার জ্ঞান পুরোপুরিই এই ঘরের উপর চাপিয়ে দেয়া যায় । সবদিকে সমান । কোন জানালা নেই। অনেক উঁচুতে একটা ভেন্টিলেটর দেখা যাচ্ছে। ঘরের এক কোনায় কাঁচ দিয়ে একটা কাউন্টার বানানোর চেষ্টা হয়েছিলো মনে হয়। মনে হচ্ছে এখনি কাঁচের ওইপাশ থেকে কেউ একজন বের হয়ে খস্‌খসে কন্ঠে জানতে চাইবে আমার সমস্যা কি। বয়স কত? উত্তর দিতে না পারলে খপ্ করে আমার মাথাটি হাসিমুখে চেপে ধরবেন। আমার এই ধরনের কাউন্টার দেখলেই ভয় ভয় লাগে । মনে হয় কথা বলবার সময় মাঝখানের ফুটোটা দিয়ে মাথা ঢুকে যাবে, আর কখনো বের করতে পারব না।

আমি যেখানে বসে আছি, তার পেছনের দেয়ালটার পলেস্তরা খসে যাচ্ছে। একটা ক্যালেন্ডার দিয়েও সে পলেস্তরা ঠিক ঢাকা যাচ্ছে না। ক্যালেন্ডারের উপর সাদ্দাম সাহেবের একটা বিশাল ছবি, যেখানে তিনি একটা বিকট রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর দিকেই আমার নজর পড়বার কথা । কিন্তু আমার আমার কেন জানি খসে পড়া অংশ গুলোর দিকেই চোখ চলে যাচ্ছে। পলেস্তরা খসে গেলে সিমেন্টের আস্তর দেখা যাবার কথা হলেও এক্ষেত্রে হলুদ রঙের একটা আবরণ দেখা যাচ্ছে। তার মানে আগে এই ঘরে হলুদ রঙ ছিলো। ভদ্রলোকের মাথায়, নিশ্চিত সমস্যা আছে। ঘরবাড়ীতে কেউ হলুদ রঙ দেয় নাকি? আমার সামনে ছোট টেবিলটার উপর “পাক্ষিক অপরাধ খবর” নামে একটি ম্যাগাজিন পড়ে আছে । চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় অনেকদিনের পুরোনো। নাম দেখেই ধারনা হচ্ছে এই পত্রিকার প্রধান বিষয় বস্তু হবে , “দেবরের সাথে ভাবীর লটর-পটর” , “নায়িকা নূরজাহানের রাত্রি অভিসার” কিংবা “কাজের মেয়ের সাথে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কুকর্ম” টাইপ কাহিনী । দৈনিক অপরাধের সাংবাদিক সাহেবরা এত ভেতরের খবর কি করে যোগার করেন, কে জানে ! নিশ্চই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কুকর্ম সংক্রান্ত গল্পটি কর্মকর্তা সাহেব নিজে অথবা কাজের মেয়েটি এসে বলে দিয়ে যাননি। খবর গুলো তৈরী করতে এই পত্রিকার সাংবাদিকদের সম্ভবত বেশ বেগ পেতে হয়। এই ধরনের একটি আধা চটি জাতীয় পত্রিকা এইখানে কেন রাখা হয়েছে সুযোগ পেলে একবার জিজ্ঞেস করে নিতে হবে। এতক্ষন পর আবিষ্কার করতে পারলাম, আমি যেই সোফাটির উপর বসে আছি তার পুরোটাতেই নীচ থেকে স্প্রীং গুলো খুলে আসছে আর সে কারনেই সম্ভবত বসে থাকতে বেশ অস্বস্তি হচ্ছে।

দুই

এই ঘরটিতে আমি অনেক দিন আগেও একবার এসেছিলাম। তখন ঠিক ঘরটা এরকম ছিল না, কিংবা আমি সেভাবে লক্ষ্য করিনি। সে সময় আমার সাথে রুনু ছিল। এই ভয়ানক একটি যায়গায় আসার জন্য রুনু রাগ করে আমার সাথে দুইদিন কথা বলেনি। তখন এইরকম গরম অবশ্য ছিল না। খুব সম্ভবত কোন এক ডিসেম্বরে এসেছিলাম, বেশ শীত ছিল। যতদূর মনে পড়ে রুনু গায়ে একটা লাল সোয়েটার পরে ছিল। আমি নিজেই আমার স্মৃতিশক্তি দেখে চমকে গেলাম। ইদানীং আমার বদ্ধমূল ধারনা হয়েছে আমার স্মৃতি-টৃতি এইসব কাজ করছে না। কিছুই মনে রাখতে পারিনা। কিন্তু রুনুর সবগুলো স্মৃতি আমার কাছে এখনো স্পষ্ট হয়ে আছে। এর কোন ঠিক ব্যাখা আমার কাছে নেই। কতদিন হলো রুনু চলে গেছে। আসলে চলে গেছে শুনলে মনে হতে পারে আমরা বুঝি অনেকদিন ধরে ঘর-সংসার করেছি। আসলে ব্যাপারটা তা-না। রুনুকে আমি ভালোবাসতাম। এই যে অবলীলায় “বাসতাম” কথাটি বলে ফেলতে পেরেছি তা একসময় চিন্তাও করতে পারতাম না। আমি সেসময় প্রায়ই ভাবতাম রুনু আর আমার জন্মই হয়েছে শুধু আমাদের দুইজনের জন্য। কি ভয়াবহ হাস্যকর চিন্তা ! মেয়েরা আগে থেকে অনেক কিছুই মনে হয় টের পায়। অবশ্য এক্ষেত্রে রুনুর থেকে রুনুর বাবা অবসর প্রাপ্ত কর্ণেল হাবিব উল্লাহ মিয়া আমার এইরকম শোচনীয় অবস্থা আগে-ভাগে টের পেয়ে গিয়েছিলেন মনে হয়। তাই আমার সাথে রুনুর পুতুপুতু জাতীয় প্রেম টা কর্ণেল সাহেব ঠিক বরদাসত করতে পারেন নি। কর্ণেল-মেজর প্রজাতীয় লোকদের সম্পর্কে বরাবরই আমার ব্যাপক ভয়। এক্ষেত্রে অবশ্য রুনু নিজেই বেঁকে বসেছিলো। আমার প্রতি তার অনীহা আমি একদম বুঝতে পারিনি। ভালোবাসা জিনিশটা মনে হয় এমনই। সময় মত কিছুই বোঝা যায় না। আমাদের বিয়ের কথা আমরা লেকের পাশে বসে প্রায়ই ভাবতাম। আমার ব্যাবসাটা দাঁড়িয়ে গেলে আমি যে একজন ছোট খাট শিল্পপতি হয়ে যাব আর তাতে বলতে গেলে রুনু রাজকন্যাদের মত থাকবে, এই ব্যাপারটা রুনুকে মনে হয় খুব বেশী আলোড়িত করত না। সব সময় বিরস মুখে আমার ব্যাবসার কি হলো জানতে চাইত।

আমার ছোট বেলার বন্ধু সুবলের সাথে আমি পাথরের ব্যাবসা করতে চাইছিলাম। সুবল আমাকে অনেকদিন ধরেই ঘুরাচ্ছিলো। কতগুলো টাকা সুবলের কাছে পড়ে আছে। আর এদিকে ব্যাবসার কোন নাম-গন্ধ পর্যন্ত নেই। আমি সে কথা রুনু কে না বলে, তার মাথাটি আমার ঘাড়ে নিয়ে আদর করে দিতাম আর অভয় দিতাম, “এই তো হয়ে যাচ্ছে” বলে। আমরা সংসদ ভবনের সামনে ফুচকা খেতে খেতে প্রায় আমাদের ভবিষ্যত বাবুদের নাম ঠিক করবার চেষ্টা করতাম। একদিন পছন্দ মত দুইটি নামও আমরা ঠিক করে ফেললাম। অনেকদিন পর রুনুর মুখে সেইদিন আমি নির্মল একটা হাসি দেখেছিলাম । হাসলে রুনুর মুখে টোল পড়ত। বিকেলের আলোতে অসাধারণ লাগত সে হাসি। রুনু খুব কম হাসত। আজকাল আর হাসে না বলে ভুলেই গিয়েছিলাম সে কথা। লক্ষ্য করেছি সন্তান ধারনের ব্যাপার গুলোতে মেয়েদের বেশ ঝোঁক। হাজার ঝগড়া ঝাটিতেও যখন বলতাম, “ এই শোন , আমাদের বাবুর সামনে আমরা কিন্তু এইভাবে ঝগড়া করবনা ।” তখন রুনুর মুখটা টকটকে লাল হয়ে যেত। তখন আর ঝগড়া না করে ন্যাকা ন্যাকা গলায় “ চুপ অসভ্য ” বলে থেমে যেত রুনু । সংসার ব্যাপারটা রুনুর কাছে অনেক বড় ছিল বলেই আমার মনে হতো। রুনু সংসার , বাচ্চা-কাচ্চা ,ঘর-গেরস্থালী যা-ই মনে করুক না কেন, আমি মনে মনে শুধু রুনুকেই চাইতাম। আমার প্রার্থনা বা তীর্থ শুধু ওই একজন-ই ছিলো। কে জানি বলেছিলো মন থেকে প্রার্থনা করলে তা অবশ্যই ধরা দেয় । আমার ক্ষেত্রে তা সত্যি হয়নি। হয়ত আমার চাওয়াতে ফাঁক ছিলো কিংবা প্রার্থনা মন থেকে করিনি। একদিন সকাল বেলা শুনতে পেলাম, অস্ট্রেলিয়া ফেরত এক সফল ব্যাবসায়ীর সাথে রুনুর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে । সত্যি কথা বলতে কি, “ শুনতে পেলাম” কথাটি ঠিক না । রুনুই আমাকে ফোন করে স্বাভাবিক গলায় জানালো খবরটি।

গল্প উপন্যাসে এইসব ক্ষেত্রে নায়ক যেমন আত্মহত্যা করবার জন্য প্রস্তুতি নেয় ,কিংবা অদ্ভুত কোন আচরন করে, আমারো ঠিক তেমনি করে আত্মহত্যা অথবা অদ্ভুত কিছু করবার প্রচন্ড ইচ্ছে হলো । দূর্বল ধরনের মানুষ এবং নেহায়েত আমার সাহস খানিকটা কমই ছিলো। তা না হলে ওই কষ্ট সামলাতে গিয়ে হয়ত মরে টরেই যেতাম খুব সম্ভবত। আমি ফোনে একটিবারের জন্যও রুনুকে জিজ্ঞেশ করিনি সে কি করে আমার সাথে এমন করতে পারল? আমি জানি জিজ্ঞেশ করতে গেলেই আমার মা’য়ের প্রসংগ টা এসে যাবে। আত্মসম্মানবোধটা বরাবরই আমার ভেতর প্রবল ছিল। কারো করুনা আমার অসহ্য লাগে। কান্না টান্না’র মত ব্যাপার গুলো আমার মধ্যে নেই। মন খুব খারাপ হলে একা বসে থাকাটাই আমার একধরনের প্রতিবাদ। সুতরাং অহিংস পরম নীতি যে আমার ভেতর প্রবল, তা বলাই বাহুল্য। রুনুর ব্যাপারটা আমাকে বেশ ভালই কষ্ট দিত যদি হঠাৎ করে আমার মা মারা না যেত। আমার বাবা বিয়ের অনেকদিন পর যখন আবিষ্কার করলেন আমার মাকে ঠিক তার পোষাচ্ছে না এবং তিনি যখন একটি কিশোরী মেয়েকে বিয়ে করে মোটামুটি একটা সচ্ছল জীবন ফেঁদে বসলেন, আমার মা তখন আমাকে নিয়ে এক সংসার নামে বাজে জায়গায় জীবন পার করতে লাগলেন। একটা কথা ঠিক বলা হয়নি, আসলে বলতে সংকোচ লাগছিল , রুনুর সাথে আমিও হয়ত সম্পর্ক রাখতে পারতাম না। কেননা একটা সময় আমি জানতে পারি আমার মা আমাকে মানুষের যথাযথ রূপ দিতে গিয়ে, শিক্ষা নামের ফালতু ধারনায় দীক্ষিত করতে গিয়ে তার শরীর আর মন বিক্রি করে দিয়েছিলেন। আমার পতিতা মা তাই হঠাত করে মারা যাবার পর আমি খুব নিসংগ হয়ে পড়ি মূলত আমার কাছের বলতে আর কেউ রইল না। আজকাল আমার সব কিছুর ভেতরেই কেন জানি অনেক মানুষের গায়ের গন্ধ পাই । আমার জানা ছিল , ব্যাপারটা পুরোপুরি মানসিক।

তিন
বন্ধু বলতে আমি সুবল কেই জানতাম আর সূত্র অনুযায়ী আমার গচ্ছিত টাকা পয়সা গুলো তার আর ফেরত দেবার কথা না । কিন্তু এইসব সুত্র মনে হয় সব সময় মেলে না । একদিন সুবল তার অফিসে নিজে ডেকে নিয়ে আমাকে তার পাথরের ব্যাবসায় পার্টনার করে নিল । ভালই চলছিল সব কিছু । আমার ভেতর এক ধরনের চাপা ক্ষোভ কাজ করছিলো । আমি চাইছিলাম রুনুকে দেখিয়ে দিতে যে, আমিও অনেক বড় হতে পারি । আমার ফিলোসফিতে টাকা কোনদিন বড় মনে হয় নি । কিন্তু রুনুকে হারিয়ে ফিলোসফি ব্যাপারটাকে বিলাস ছাড়া আর অন্য কিছু ভাবা আমার জন্য দুষ্কর হয়ে গেলো । দেখতে দেখতে আমি ব্যাবসার মধ্যে পুরোপুরি ডুবে গেলাম । “সুখের পর দুঃখ আসে” মারফি সাহেবের এই ধরনের তত্ব আমার বেলাতে এসে যাবে এই সন্দেহ আমার গোড়া থেকেই ছিলো । সিলেট থেকে পাঠানো আমাদের প্রায় বিশটি ট্রাক ইন্ডিয়ার বর্ডারে আটকে দিলো লাইসেন্স জটিলতার কারনে । প্রায় একমাস আমি আর সুবল পাগলের মতন এদিক সেদিক ঘুরবার পর আমরা চরম সত্যটি জেনে গেলাম। সুবল চাইছিলো মামলা করতে এবং করেছিলামও। আমি কোর্ট কাচারী তেমন বুঝি না। সুবল আর আমি দেড় বছর লেগে রইলাম। একটা সময় আমাদের সহায় সম্বল সব হারিয়ে ব্যাবসাই বন্ধ করে দিতে হলো । স্টাফদের বেতন দিতে গিয়ে আমার কিছু জমানো টাকা যা ব্যাংকে ছিলো , তাও শেষ হলো । আমি তো একা মানুষ ,হয়ত কিছু এসে যাবে না। কিন্তু সুবলের কথা আলাদা। এত বড় একটি পরিবার তার মাথার উপর। তার নিঃস্ব অবস্থাটিকে করুন বললেও অনেক কম বলা হয়ে যাবে। রুনুকে কিংবা মা’কে হারানোর শোক আমার কাছে নিতান্তই তুচ্ছ হয়ে গেলো।

মনে আছে, স্কুলে আমাদের একজন স্যার সবসময় বলতেন, “ আপন আত্মার বাহিরে সব পর ” ঘন ঘন এ কথা বলতেন বলে, সেসময় আমরা সবাই স্যারের নাম দিয়েছিলাম “আপন আত্মা” স্যার। আজকে অনেকদিন পর আপন আত্মা স্যারের কথা গুলো আমার ভেতর খুব কাজ করতে লাগল। আজকাল এই আত্মাকে বাঁচাবার জন্য কয়েকটা টিউশনি করি। ছোট ছোট বাচ্চা ছেলে মেয়ে গুলোর সামনে জম্বির মত বসে থাকি। আমার একজন ছাত্রী আছে , অর্পিতা। আমাকে সম্ভবত খুব পছন্দ করে। প্রায়ই স্কুল থেকে নতুন নতুন জোকস শিখে এসে আমাকে শোনায়। অর্পিতার সামনের দাঁত দুইটি কিছুদিন হলো পড়ে গেছে। সে যখন হাসে তার গালেও টোল পড়ে। দেবশিশুদের মতন ঝাঁকড়া চুল দুলিয়ে আমাকে যখন হাসানোর চেষ্টা করে , আমার খুব মনে পড়ে রুনুর কথা। আমাদের ঠিক এইরকম একটি মেয়ে হতে পারত । যার কিনা নাম দেওয়া হতো সংসদ ভবনের ফুচকা’র দোকান গুলোর সামনে ঠিক করা কোন একটি নাম । আচ্ছা, কে যেন খবর দিয়েছিলো রুনুর নাকি একটা মেয়ে হয়েছে । কি নাম মেয়েটার ? রুনু সংসার , সন্তান নিয়ে বেশ ভালই আছে মনে হয় । নিশ্চিত ভাবে রুনু প্রতি রাতে তার স্বামীর সাথে ন্যাকা ন্যাকা কথা বলতে বলতে আরো ঘনিষ্ট হয় । বিড়ালের মতন তুলতুলে শরীর নিয়ে সারা রাত আনন্দ উল্লাসের পর একদিন না একদিন আমাকে মনে পড়ে যায়, এই ধারনাটিই আমাকে প্রবল স্বস্তি আর সান্তনা দেয়।

* * * * * *

কতক্ষন হয়ে গেছে আমি এই ঘরে বসে আছি? কেমন জানি অস্থির লাগছে। জ্যোতিষি সালাম গণি’র ঠিকানা পেয়েছিলাম সায়েন্স ল্যাবেরটরীতে এক সাইনবোর্ড থেকে। এই লোক নাকি চেহারা দেখে সব বলে দিতে পারে। বিশ বছর ধরে মানুষের হাত দেখে আসছে। বিশ বছর হাত দেখা নিশ্চই যেন তেন কথা নয়। ইদানীং আমার খুব ভবিষ্যত জানতে ইচ্ছে করে। হাতের রেখা গুলোর মধ্যে নাকি জন্ম , মৃত্যু , বিয়ে সব কিছু লেখা থাকে। মৃত্যুর ঘটনাটা জানতে পারলে খুব একটা মন্দ হয় না।

পরিশিষ্ঠঃ

ভদ্রলোকের বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি । কিছুটা ঝুঁকে আছেন বলে তাকে লাগছে বটগাছের মতন । দাড়ি গোফের জঙ্গল মুখ জুড়ে। তাই চেহারাটি ভাল করে বোঝা যায় না । বিশাল এক ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে আমার হাতের রেখা খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি । খস খসে গলায় বলে উঠলেন , “অচিরেই প্রচুর অর্থ সম্ভাবনা ।” আমার মেয়েটা নাকি কিছুদিনের মধ্যে বড় অসুখে পড়বে। স্ত্রী ভাগ্য সু-প্রসন্ন।

আমি খানিকটা ঝুঁকে এসে বললাম,

-আর মৃত্যুর ব্যাপারটা ?

গণি সাহেব গম্ভীর হয়ে মাথা নাড়েন। ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে বিশ বছরের অভিজ্ঞতায় মৃত্যু রেখাটিকে সমানে পড়ে চলেছেন তিনি। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে হাত বাড়িয়ে বসে থাকি,

আজ মৃত্যুর ব্যাপারটি না জেনে গেলে আমার চলবেই না ।

Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleপ্যারাসিট্যামল দুই বেলা
Next articleআন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বাংলাদেশ নিয়ে আমার প্রথম বইঃ আপডেট-১
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY