আপীল বিভাগ থেকে প্রকাশিত নিজামীর পূর্ণাঙ্গ রায়

0
370

আপীল বিভাগ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে নিজামীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। এই রায়ের ফলশ্রুতিতে এখন নিজামীর মামলাটি দ্রুত সামনের দিকে অগ্রসর হবে এটি-ই আমাদের সকলের প্রত্যাশা। অনেকেই আল-বদর কমান্ডার নিজামীর কুকির্তী ও আপীলেট ডিভিশানের এই বিষয়ক অবজার্ভেশনটুকু জানতে চেয়েছেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই আমি এই পোস্টে নিজামীর আপীলেট ডিভিশানের আপীলের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়টি এখানে তুলে দিচ্ছি। রায়টি পড়লেই আপনারা বুঝতে পারবেন কেন নিজামীকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে, কি তার অপরাধ ছিলো এবং সাক্ষীরাই বা কি বলেছে।

নীচের আলোচনা যদিও ট্রাইবুনালে নিজামীর প্রথম রায় থেকে নিয়ে, কিন্তু এই আলোচনার একেবারে শেষে আপীল বিভাগের পুরো রায়টা পি ডি এফ আকারে দিয়েছি। নিজামীর ট্রাইবুনালে প্রদত্ত রায়ের ক্ষেত্রে আদালত বলে-

  1. It is very much relevant to mention here that accused Motiur Rahman Nizami wrote an article under the caption “বদর দিবসঃ পাকিস্তান ও আলবদর” [Badr Dibosh: Pakistan O Al-Badr] which was published in Dainik Sangram dated 14.11.1971 [Ext. 2/22]. The relevant portion of the said article is quoted-

“হিন্দু বাহিনীর সংখ্যা শক্তি আমাদের তুলনায় পাঁচ গুন বেশি ……….দুর্ভাগ্যবশত পাকিস্তানের কিছু মুনাফিক তাদের পক্ষ অবলম্বন করে ভেতর থেকে আমাদের দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে…………শুধু পাকিস্তান রক্ষার আত্মরক্ষামূলক প্রচেষ্টা চালিয়েই এ পাকিস্তান কে রক্ষা করা যাবে না   বদরের যুদ্ধ থেকে অনেক কিছুই আমাদের শিখবার আছে………. আজকের কাফেরদের পর্যুদস্ত করতে হলে আমাদেরও ………… আমাদের পরম সৌভাগ্যই বলতে হবে, পাকসেনার সহযোগিতায় এদেশের ইসলাম প্রিয় তরুণ ছাত্র সমাজ বদর যুদ্ধের স্মৃতিকে সামনে রেখে আল-বদর বাহিনী গঠন করেছে …………বদর যোদ্ধাদের সেই সব গুণাবলির কথা আমরা আলোচনা করেছি, আল বদরের তরুণ মর্দে মুজাহিদ দের মধ্যে ইনশাল্লাহ সেই সব গুণাবলী আমরা দেখতে পাব…………আমাদের বিশ্বাস সেদিন যুবকেরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি দাড়িয়ে হিন্দু বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে হিন্দুস্তানকে খতম করে সারা বিশ্বে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করবে আর সেদিনই পূরণ হবে বিশ্ব মুসলমানের অন্তরের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা

উপরের প্যারাতে এসে আদালত নিজামীর একটি নিবন্ধ যেটি সে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে দৈনিক সংগ্রামে লিখেছিলো সেটিকে উদ্বৃত করে। এই লেখাটির ক্ষেত্রে বলতে গিয়ে পরবর্তী প্যারাতে আদালত বলেন যে-

  1. Accused Motiur Rahman Nizami has stated in the said article that the number and power of Hindu Bahini were five times higher than that of Pakistani Bahini. But unfortunately, some betrayers of Pakistan having taken the side of India were involved in the conspiracy to make Pakistan weak and as such, the ideology and existence of Pakistan would have been protected after having foiled their conspiracy. The accused has further stated in the article that a promise would have been made to protect the existence of Pakistan after having defeated the Hindu Bahini and prostrated India and, the religious strength, which brought the victory to the Muslims in the Badr war, would be gathered. In collaboration with Pakistan Army, Islam loving young students of the country had formed Al-Badr Bahini keeping the memory of Badr War in their minds. The accused has also stated in his said article that the day is not so far away when the young members of Al-Badr Bahini along with Pakistani army would hoist the victory flag of Islam in the whole world after having defeated the Hindu Bahini and destroyed the existence of Hindustan [India]. It appears that during the Liberation War, 1971 accused Motiur Rahman Nizami wrote said article on the eve of Badr Day directing the members of Al-Badr Bahini to exterminate so-called betrayers of Pakistan i.e. freedom-fighters and unarmed civilians who wanted liberation of Bangladesh. If the accused would not have been in a superior or commanding position over the members of Al-Badr Bahini during the Liberation War, 1971, he would not have directed them to exterminate the so-called betrayers of Pakistan. So, the article written by the accused himself also supports that the accused was the commander of Al-Badr Bahini during the Liberation War, 1971.

নিজামীর রায়ের ২৪ তম অধ্যায়ে এসে আদালত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। জামায়েত ইসলামী কিভাবে ধর্মকে অপঃব্যবহার করে রাজনীতি করেছে সেটির সম্পর্কেই আদালত বিস্তারিত বর্ণনা করেন। আদালত বলেন-

XXIV. Misuse of religion in politics by Jamaat-e-Islami during the War of Liberation of Bangladesh in 1971

  1. It is undisputed that Jamaat-e-Islami was founded in 1941 in this subcontinent by Maulana Abul Ala Maududi. Jamaat-e-Islami is a political party having cadre based structures in its formation. In August, 1947 the partition of British India took place and Pakistan came into being as a soverign state based on two nation theory under auspices of the Muslim League. On being inspired by thoughts and writings of Maulana Abul Ala Maududi, a group of students formed the Islami Jamaat-e-Talaba (Islami Chhatra Sangha) in December 1947 as a student wing of Jamaat-e-Islami.
  2. Though Maulana Maududi opposed the very creation of Pakistan in 1947, but while it came into being on the basis of two nation theory, the leaders of Jamaat-e-Islami gradually made intimacy with the Muslim League leaders claiming themselves as vanguard of Islamic revoluation. Pakistan has been created as the homeland of only Muslims, this dogma inborned in the minds of Muslim League leaders and some of them became communal in their feelings, thoughts and actions. Virtually, communal feeling is the byproduct of two nation theory upon which Pakistan was founded in 1947 as an independent country.
  3. It is needless to mention that it was one of the objects of Jamaat-e- Islami to capture the state power of Pakistan in the name of Islam. Jamaat-e- Islami gradually established a close tie with Muslim League leaders and ultimately borrowed communal feeling, the by-product of two nation theory from the leaders of Muslim League. Thus, both Jamaat-e-Islami and Muslim League used to legitimate political and social functions giving islamic terms in strenthening their common communal attitude for the purpose of making Pakistan as the only homeland for Muslims.
  4. Referring to verse- 26 of surah ‘Hajj’ she has submitted that Allah depicts kaabah [place of worship]as only house of Allah in the Holy Quran but the accused knowing the true meaning of the verse, purposely treated Pakistan as the house of Allah in a meeting attended by the members of Islami Chhatra Sangha with intent to infuse wrong conception about the house of Allah in the minds of the members of Islami Chhatra Sangha so that they can blindly counter the ‘miscreants’ [freedom fighters]and proliberation Bangalees treating them as enemies of Islam.
  5. Similarly, Professor Ghulam Azam, the then Ameer of Jamaat-e-Islami delivered a direct and public speech on 17.07.1971 addessing a gathering of peace committee at Rajshahi to the effect that Hindus are always enemies of Muslims and there is no evidence to show that Hindus are friends of Muslims. The above hateful speech made by him manifestly demonestrates that he expressed hatred and communal feeling towards Hindu community with intent to create hostility between the Hindu and Muslims. Followers and disciples of Professor Ghulam Azam on being inspired by such inciting speech, they made the people of Hindu community living in Bangladesh, a target for attack, subsequently it happened in a henious manner across the country in 1971.
  6. Infact, the history of Sultani regime and Mughal Empire of this subcontinent is the best evidence to show that the people belonging to the Hindu and Muslims have been living together peacefully by maintaining a friendly and harmonious relations to each other for about one thousand years last.
  7. Professor Ghulam Azam the chief of Jamaat-e-Islami made an open speech reported in the Daily Sangram dated 26.9.1971 claiming that “Pakistan Jamaat-e-Islami considers Islam and Pakistan are one and indivisible. Pakistan is the house of Islam of the world. Therefore, Jamaat supporters do not consider to live in the world if Pakistan does not exist”.

[Ref:- Ghulam Azam Case:- Ext. No. 22]

  1. The above proposition that Pakistan and Islam are one and indivisible is completely a fallacy, virtually Pakistan is the name of a soverign state created on two-nation theory.
  2. On the other hand, Islam is the most sophisticated religion of the Muslims in the world which is derived from the Holy Al-Quran and Hadith and that was preached by the greatest prophet Hazrat Muhammad [S.M.]. A country like Pakistan in no way can be a part of Islam. It is an attempt to impure Islam, the holy religion of the Muslims of the world.
  3. It is undisputed that about 1400 years ago, our great prophet Hazrat Muhammad [S.M.] made a contract between Muslim and Non-Muslims living in Medina and established a non-communal nation. That contract is known as ‘Medina Charter’, probably it is the first written constitution in the world.
  4. The famous Mawlana Akram Kha of this sub-continent has cited the philosophy of the ‘Medina Charter’ in his book named “Mostafa Charit” under the caption “Modinai Shadharon

‘মদিনা সনদে বলা হয়েছে, পরস্পর বিপরীত চিন্তা, রুচি ও ধর্মভাবসম্পন্ন ইহুদি, পৌত্তলিক ও মুসলমানদের দেশের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা ও মঙ্গল বিধানের জন্য একই কর্মকেন্দ্রে সমবেত করতে হবে তাদের একটি রাজনৈতিক জাতি বা কওমে পরিণত করতে হবে তাদের শেখাতে হবে যে এক দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়গুলো নিজেদের ধর্মগত স্বাতন্ত্র্য সম্পূর্ণ রক্ষা করেও দেশের সেবায় একত্রে সমবেত হতে পারে এবং এমন হওয়াই কর্তব্য’ ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘মদিনা সনদ অনুসারে রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই কিন্তু এ সমাজেরই একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের মূল বাণীর অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মভীরু মুসলমানদের বড় অংশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে

  1. The ‘Medina Charter’ has guaranteed to the equality before law, freedom of religion and profession among the different classes of people for establishing a non-communal nation and to work together irrespective of caste, creed and religion. According to Medina Charter, there is no room for utilising religion in the field of politics. It is noticed that only a group of communal people in our society try to misuse religion by misinterpreting its true meaning with intent to misguide bulk of the Allah-fearing Muslims for protecting their self interests.

 

  1. There is no denying that accused Motiur Rahman Nizami was the then leader of Islami Chhatra Sangha who had education in Islamic religion. He is the writer of several Islamic books out of which the defence has submitted a book titled “রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্ম বনাম ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ” in which he depicted true islamic attitude towards non -Muslims under the caption ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা of which the relevant portion of his ideological belief is quoted below:-

 

‘আল্লাহ সব মানুষের স্রষ্টা এর পরেও কেউ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে কি আনবে না—এই ব্যাপারে তিনি স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং ঈমান আনার ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ ও জবরদস্তিকে নিষেধ করেছেন

  1. The above idological belief of the accused as manifested in hiswritings is squarely in consonance with the directives of Medina Charter as discussed above.

 

  1. But while we go back to fateful 1971, the year of Liberation War, we find quite opposite picture in the deeds and thoughts of the accused and his associates including Professor Ghulam Azam, the then Ameer of Jamaat-e- Islami.

 

  1. It is gathered from facts of common knowledge as well as exhibited documents filed by both the sides that Pakistan occupation forces and their collaborators did never utter the word ‘Muktijodda’ or freedom fighter, they always referred them as miscreants, rebels, separatists, anti-state elements

 

  1. But while we go back to fateful 1971, the year of Liberation War, we find quite opposite picture in the deeds and thoughts of the accused and his associates including Professor Ghulam Azam, the then Ameer of Jamaat-e-Islami.

 

  1. It is gathered from facts of common knowledge as well as exhibited documents filed by both the sides that Pakistan occupation forces and their collaborators did never utter the word ‘Muktijodda’ or freedom fighter, they always referred them as miscreants, rebels, separatists, anti-state elements, intruders of India etc. in order to give massage to the world that no War of Liberation was going on in Bangladesh in 1971.

 

  1. On perusal of speeches of accused Motiur Rahman Nizami, published

in the Daily Sangram on different dates in 1971 marked as Ext. nos. 2(5), 2(10), 2(15), 2(16), 2(17), 2(22) and Police Abstract Reports, it is evident that during the War of Liberation accused Motiur Rahman Nizami, his religious and political Guru (leader) Professor Ghulam Azam and other leaders of Jamaat-e-Islami used to deliver speeches in public to their followers using religion in their party politics giving wrong interpretation of Islam with intent to inspire young generation to counter freedom fighters and pro-liberation Bangalees treating them as enemies of Islam.

 

  1. The following citations namely, “Pakistan is the house of Allah,” “Hindus are always enemies of Muslims” and ” Islam and Pakistan are one and indivisible”, may appear to be not so dangerous in its plain meaining . But, we are to evaluate those speeches considering the prevailing circumstances and the Liberation War context under which those speeches were made to whom and for what purpose.

 

  1. It is gathered from the facts of common knowledge that the accused and his associates made a lot of speeches addressing their subordinates to resist the independence of Bangladesh. The meaning of such speeches is to be determined in the context of 1971.

 

Context is the principal consideration for finding out real meaning of such speeches.

 

(a) All most all the Bangalees irrespective of caste and religion, living in the then East Pakistan, whole heartedly supported the War of Liberation of Bangladesh;

 

(b) the accused as the, president of Islami Chhatra Sangha made speeches in public to the members of ICS encouraging, instigating , and persuading them to counter ‘miscreant’s’ [freedom fighters]branding them as enemies of Islam;

 

(c) Leaders of Jamaat-e-Islami and its notorious student wing Islami Chhatra Sangha including accused Motiur Rahman Nizami used to make speeches in public branding freedom fighters and pro-liberation people as miscreants and Indian agents as a result members of Rajakar and Al-Badr Bahini firmly believed that freedom fighters and pro-liberation people were not Muslims enough.

 

  1. In the context of on going the Liberation War the following wrong massages namely “Pakistan is the house of Allah”, “Hindus are always enemies of Muslims”, and ” Islam and Pakistan are one and indivisible” were infused in the minds of young members of Rajakar and Al-Badr Bahini as gospel of truth and on being inspired by those propaganda in the name of Islamic ideology, they committed more atrocities vigorously in collaboration with Pakistan occupation forces. The citations quoted above are the classic instances of misuse of Islam in politics in the name of protecting Pakistan.

 

  1. It is found from the facts of common knowledge that ‘ Islam’ teaches us to be non-communal and pure in thoughts, words and deeds but during the War of Liberation, the leaders of Jamaat-e-Islami tought its followers to be communal in thought, words and deeds and also treating non-jamaat-e-Islamis as bad Muslims and the freedom-fighters as miscreants.

 

আদালত নিজামীর এই রায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি অধ্যায় সংযুক্ত করে এই উপরের পর্যবেক্ষন দেয়াতে অনেকগুলো বিষয় পরিষ্কার হয় এবং এটিও স্পস্ট হয় যে ধর্মকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের মাত্রা ঠিক কোন পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।

নিজামীর বিভিন্ন সময়ের ধর্মীয় বক্তব্যও যে পবিত্র কোরান শরীফের আয়াতগুলোর বিরুদ্ধচারন করে সেটিও এই অংশে দেখানো হয়েছে। দৈনিক সংগ্রামে লিখিত এক নিবন্ধে নিজামী পাকিস্তানকে আল্লাহর ঘর হিসেবে দাবী করেছে যেটির সূত্র সহ বিবরন উপরে দেয়া হয়েছে এর মধ্যেই। কিন্তু আদালত কোরান শরীফের সূরা হাজ্বের ২৬ নাম্বার আয়াত দিয়েই দেখিয়েছেন যে কাবা হচ্ছে আল্লাহর ঘর। কিন্তু নিজামী পাকিস্তানকে আল্লাহর ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষনে এটি-ই বলেছেন যে ধর্মকে এইভাবে ভুল-ভাল ব্যখ্যা করতঃ নিজামী কিংবা তৎকালীন এইসব নেতারা সব সময় চেয়েছে ধর্মকে উপজীব্য করে তাদের দলে থাকা তরুনদের সব সময় স্বাধীনতার পক্ষে থাকা মানুষদের ঘৃণার পাত্র বানাতে। ধর্মকেই পবিত্র জ্ঞান করে এইসব তরুনেরা তখন তাদের এইসব ধর্মীয়গুরুদের কথাই একমাত্র পালনীয় বলে মনে করত এবং এই ধারনাই তাঁদের মগজে গেঁথে গিয়েছিলো যে যারা পাকিস্তান ভাঙতে চেয়েছে বা চাচ্ছে তারাই হচ্ছে ইসলামের শত্রু কেননা তারা আল্লাহর ঘর ভাঙছে।

প্রখ্যাত ইসিলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আকরাম খাঁর গ্রন্থ “মোস্তফা চরিত” থেকেও আদালত কিছু বক্তব্য কোট করেন। সেখানে আদালত মদীনা সনদে যে অসাম্প্রদায়িক চিন্তার প্রতিফলন হয়েছে সেটি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। এটি যে ইসলামের শিক্ষা সেদিকেই গুরুত্ব দেন আদালত।

আদালত কিন্তু স্পস্টত নিজামীর ইসলামী শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরিচয় যেটি সে ব্যবহার করতে চেয়েছিলো সেগুলোর সবই গ্রহন করে নিয়েছে। এই গ্রহন করে নেবার পরেই আদালত নিজামীর কর্ম ও সেটির সাথে ইসলামী চিন্তার কন্ট্রাডিক্টরী অবস্থানকে কোরান, হাদীস কিংবা বড় বড় আলেমদের বক্তব্যদের মাধ্যমেই দেখিয়েছেন।

আদালত নিজামীর ব্যাপারেই তার সর্বশেষ মতামতটি জানায় এভাবে-

  1. Thus, we are constrained to hold that Motiur Rahman Nizami being educated in Islamic education had consciously and also deliberately misused the name of the Almighty Allah and the holy religion ‘Islam’ in 1971 during the Liberation War of Bangladesh in order to ruin and root out the ‘Bangalee Nation.’

আদালতের এই রায় পড়ে একটি ব্যাপার স্পস্ট যে আদালত এই মুসলিম পরিচয় ব্যবহারকারীদের তাদের আদর্শিক অবস্থানের যায়গা থেকেই পর্যবেক্ষন দিচ্ছেন। আদালত একদিকে যেমন নিজামীর বক্তব্যকে ক্রিটিকালী বিশ্লেষন করেছেন ঠিক তেমনি সেই বক্তব্যের যে মূল উপাদান এই অপরাধীরা টুলস হিসেবে ব্যবহার করেছে সেই পবিত্র কোরান শরীফ থেকেই উদ্বৃতি কোট করে অভিযুক্তদের অপরাধের মাত্রা নির্ণয় করেছেন।

অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্যই একটি আরেকটির সাথে সাঙ্ঘর্ষিক ও বিরুদ্ধচারণ করে। আদালতে ব্যবহার করা মুসলিম আইডেনটিটি শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হিসেবেই বার বার এইসব অভিযুক্তদের দিকে ফেরত আসছে।

নিজামীর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ঃ nizami AD

Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleআমার প্রকাশিতব্য বইয়ের সূচী-পত্র
Next articleতাসকিনের বোলিং নিষিদ্ধ নিয়ে ব্যারিস্টার মুস্তাফিজের আইনী লেখা
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY