ICTBD এর বিচারিক ব্যয় এবং বিশ্বের অন্যান্য ট্রাইবুনালের বিচারিক ব্যয়ঃ তুলনামূলক পর্যবেক্ষন

0
1378

ভূমিকাঃ

অনেকের মনেই বিভিন্ন সময়ে কৌতূহল হিসেবেই মনে উঁকি দিয়েছে যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সম্পূর্ণ বিচারিক বাজেট কত কিংবা এই বিচারে ঠিক কি পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে? এই জানতে চাইবার ক্ষেত্রে অনেক সময় হয়ত অনুঘটক হিসেবে কৌতূহল কাজ করে কিংবা যিনি এই ট্রাইবুনাল নিয়ে খোঁজ খবর রাখেন তিনিও তাঁর তথ্যভান্ডার স্বয়ং সম্পূর্ণ রাখবার তাগিদে হয়ত এই ব্যাপারে খোঁজ খবর করে থাকেন। তবে আমি এই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি মূলত এই ট্রাইবুনালের খরচের হিসেবের একটা তুলনামূলক বিশ্লেষনের ইচ্ছে থেকেই। আর এই তুলনা করতে চাইছি আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত পৃথিবীর অন্যান্য ট্রাইবুনালের বিচারিক ব্যায়ের সাথে খরচের তারতম্যগুলো তুলে ধরবার নিমিত্তে। যেমন ইয়াগোস্লাভিয়া ট্রাইবুনালের, রুয়ান্ডা ট্রাইবুনালের , আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান নানাবিধ ব্যাক্তির বা ব্যাক্তিদের ট্রায়াল, কম্বোডিয়া ট্রাইবুনাল, লেবানন ট্রাইবুনাল ইত্যাদির বিচারিক ব্যয় আর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (বাংলাদেশ)-এর বিচারিক ব্যয়।

এখনও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (বাংলাদেশে) বিচার চলছে। সুতরাং এই মুহুর্তেই এটি বলা সম্ভব নয় যে বিচার একেবারে সম্পূর্ন শেষ হতে ঠিক কত খরচ হবে। কিন্তু ২০১০ থেকে শুরু হওয়া বিচার ঠিক এই পর্যন্ত এসে অর্থ্যাৎ এই ২০১৭ সাল পর্যন্ত এসে ঠিক কি পরিমান ব্যায়ের মধ্যে দিয়ে গেছে সেটির একটি পূর্ন বিশ্লেষন করলে আগামীর খরচের কিংবা শেষ হওয়া পর্যন্ত খরচের একটি ধারনা আমরা পেতে পারি। একি ব্যাপার বিশ্বের অন্যান্য দেশে চলমান এই জাতীয় ট্রাইবুনালের বেলাতেও। এখন পর্যন্ত পাওয়া খরচের ও বাজেটের হিসেবের একটা ভিত্তিতে সামনের সময়ের হিসেবকে আনুমানিক হিসেবে সূচিত করবার একটা প্রয়াস থাকবে।

এই খরচের হিসেবের তুলনামূলক বিশ্লেষন কেন জরুরী?

উপরে উল্লেখিত যে ট্রাইবুনাল গুলোর কথা বলেছি এবং এর বাইরেও আরো যেসব ট্রাইবুনাল রয়েছে সেগুলোর বাজেট ও বিচারিক ব্যায়ের যে হিসেব এই পর্যন্ত আমার জানা রয়েছে সেটির প্রেক্ষিতে আমার সব সময় মনে হয়েছে বাংলাদেশের এই ট্রাইবুনালের বিচারিক খরচ পৃথিবীর অন্যান্য ট্রাইবুনালের তুলনায় অনেক অনেক গুন কম। এই যে বিচারিক খরচের একটা তারতম্য রয়েছে সেটিকে একটি তুলনামূলক বিশ্লেষনের মধ্য দিয়ে আনাটাকে আমি জরুরী মনে করেছি বেশ কয়েকটি কারনে। নীচে সেসব কারনগুলো উল্লেখ করছি-

(১) ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যে আন্তর্জাতিক অপরাধ বাংলাদেশের মাটিতে সংঘঠিত হয়েছিলো সেগুলোর বিচার একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে করবার জন্য অভিযুক্তদের পক্ষ বার বারই চাপ দিয়ে আসছিলো। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের নিজেদের বিচারিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য দিয়েই যে এই জাতীয় বড় পরিসরের একটি বিচার করা যায় তা বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়া ছিল অত্যন্ত জরুরী। আর এই অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও বিচারিক কাঠামোর প্রশ্ন আসলেই আমরা এটি দেখাতে সক্ষম হব যে এত গুলো অভিযুক্তদের বিচার কি করে, কত খরচে আমরা আমাদের দেশেই করতে পেরেছি এবং করছি।

(২) বাংলাদেশের ট্রাইবুনালের এই বিচারিক ব্যয় দেখাবের পাশাপাশি আমরা যখন সারা বিশ্বের এই জাতীয় অন্যান্য আরো ট্রাইবুনালের বিচারিক ব্যায়কেও সামনে আনব তখন আমাদের ট্রাইবুনালের গুরুত্ব আরো বেশী দৃষ্টিগ্রাহ্য হবে। এই পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত রেখে তুলনামূলক গ্রাফটিই হয়ত এই বিচারের স্বকীয়তা, সাশ্রয়ী অবস্থান এবং এর পারঙ্গমতা পরিষ্কার করে দেবে।

(৩) অভিযুক্তদের দোসররা এই বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে যখন অভিযোগ তাদের কাঁধে এসে পড়েছে। এই অনাস্থা জানাবার মধ্য দিয়ে তারা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে এক ধরনের অপমানই করে গেছে কেবল। তারা কখনোই বিবেচনা করেনি যে জাতিসংঘের অধীনে এড-হক ভিত্তিক কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় যে ব্যায়ের অনেক ভাগের এক-দুই ভাগ দিয়েই নিজেদের দেশেই এই বিচারটা অতি সহজেই করা যায়। সুতরাং এই তুলনামূলক বিশ্লেষন সেসব অবিবেচক চিন্তাকে বিবেচ্য করে ভাবার অবকাশ দেবে।

(৪) বাংলাদেশের ট্রাইবুনালে বিচারের সামনে দাঁড়ানো ব্যাক্তিদের সংখ্যা ও সে অনুপাতে খরচ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই জাতীয় বিচারের ক্ষেত্রে ঠিক একই ভাবে সে অনুপাতে খরচের হিসেবের মধ্যে একটা পার্থক্য বা পর্যবেক্ষন টানা যাবে।

(৫) বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ হবার পরেও এবং এই দেশে একটি শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থা থাকবার পরেও অন্য দেশে বিচারের ক্ষেত্রে খরচের হিসেবটা এই অভিযুক্তরা বা তাদের পক্ষ ব্যাপারটি মাথাতেই রাখছে না। বাংলাদেশে সংঘটিত অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে বাজেট কিভাবে হোতো, সেটি সমন্বয় কিভাবে হোতো এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মার্কিন ও চৈনিক অনৈতিক হস্তক্ষেপ কিংবা মধ্য প্রাচ্যের সে সময়কার ভূমিকা চিন্তা করলেও এটা অনুমিত যে এসব দেশ থেকে পুনরায় আরেকবার এই বিচারিক ক্ষেত্রে প্রভাবের একটা সমূহ সম্ভাবনা থাকতো। আর এসব বিবেচনা করেই দেশীয় বাজেটের মধ্য থেকে বিচার ছিলো জরুরী। এটাও উল্লেখ্য যে, এই জাতীয় বিচারের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য ট্রাইবুনাল চালাবার জন্য সারা পৃথিবীর নানা শক্তিশালী রাষ্ট্র অনুদান দেয়। অভিযোগ ও সমালোচনা থাকে যে এই অনুদান দেবার পেছনে সেসব রাষ্ট্রের একটা প্রচ্ছন্ন প্রভাব, উদ্দেশ্য ও ইন্টারেস্ট থাকে যা সুস্পস্টভাবেই রাজনৈতিক। সুতরাং এই খরচের হিসেব নিরীক্ষা ও তুলনামূলক বিশ্লেষনের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই বিচারিক সক্ষমতা সু-স্পস্ট করবে। এছাড়াও উপরে উল্লেখিত এমন একটা জটিল রাজনৈতিক হিসেবের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারও সহজে সকলের সামনে বোধগম্য করে তোলা যাবে।

এখানে একটি কথা অবশ্যই স্বরণে রাখা প্রয়োজন যে অর্থনৈতিক অবস্থানকে ভিত্তি করে যে তুলনামূলক খরচ বা বাজেটের হিসেব আলোচনা করব সেখানে ঐ স্ব স্ব দেশের সাধারণ অর্থনৈতিক জীবনমানকেও মাথায় রাখতে হবে। কেবল মাত্র উদাহরণ হিসেবে বুঝাবার জন্য কাল্পনিকভাবে যদি বলি যে, বাংলাদেশে যেমন এক রিম কাগজ কিনতে দেখা যাচ্ছে ২০০ টাকা খরচ হচ্ছে সেখানে নেদারল্যান্ডে খরচ হচ্ছে ৩০০ টাকা বা লেবাননে ১৫০ টাকা। যেখানে অফিস ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশে একটি কলমের দাম ১৫ টাকা সেখানে দেখা যাচ্ছে নেদারল্যান্ড বা কানাডাতে ৬০ টাকা কিংবা কেনিয়াতে ১০ টাকা। অবশ্য সব ক্ষেত্রেই যে বাংলাদেশে কম আর অন্য দেশে বেশী সেটিও নয়। এর উল্টোটাও হতে পারে। একটি নির্মোহ আলোচনার প্রেক্ষিতে আমি প্রত্যেকটি ব্যাপারই তুলে ধরবার চেষ্টা করছি যাতে করে পাঠক সব কিছু মাথায় নিয়েই একটি নিজস্ব বিশ্লেষনেরও প্রয়াস পান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (বাংলাদেশ) বাজেট ও খরচের হিসেবঃ

একটি ট্রাইবুনালের পুরো কাঠামো, প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল একটি বিষয়। ট্রাইবুনালের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়ানো প্রহরী থেকে শুরু করে কর্মচারীদের ডেস্কে থাকা একটি কলমও খরচের আওতায় পড়ে। সুতরাং বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল কিংবা বিশ্বে এই জাতীয় অন্যান্য যে কোনো ট্রাইবুনালের খরচের হিসেব বা বাজেটের প্রতিটি বিষয়ের আলোচনা অত্যন্ত জটিল ও সময় সাপেক্ষ। এই লেখাতে হয়ত একদম প্রতিটি বিষয় ধরে আলোচনা হচ্ছেনা বরংচ মধ্য অবস্থাতে থেকে বোধগম্য একটা খরচের হিসেবের তুলমামূলক পর্যবেক্ষন টানাই আমার উদ্দ্যেশ্য।

বাংলাদেশের ট্রাইবুনালের বিচারিক খরচ কত এটি নির্ণয় করা আমার পক্ষে প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত কঠিন একটা বিষয় ছিলো। প্রথমত, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কখনোই সু-স্পস্ট ভাবে এই ট্রাইবুনালের বাজেট প্রকাশ করেনি। দ্বিতীয়ত, বাজেট প্রণয়নকালে এই ট্রাইবুনালের জন্য কত বরাদ্দ রয়েছে সেটিও বাজেট বক্তৃতার সময় সুস্পস্ট করে বলেনি। যেমন আমি উদাহরণ স্বরুপ দেখাই যে গত ১০ ই জুন ২০১০ ইং তারিখে ২০১০-২০১১ অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী এই বক্তৃতার প্রথম অধ্যায়ের ৩ নং প্যারায় বলেন-

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আর একটি বিচার প্রক্রিয়াও  আমরা শুরু করেছি আমি নিশ্চিত যে, এদেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অচিরেই বাংলার মাটিতে আমরা সম্পন্ন করতে সক্ষম হব আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এগুলো হলো আমাদের দৃপ্ত পদক্ষেপ

আবার একইভাবে ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে বাজেট বক্তৃতার ২৫৩ নাম্বার প্যারাতে অর্থমন্ত্রী বলেন-

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল, তদন্তকারী সংস্থা এবং প্রসিকিউশন টিম গঠন করে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে [ সূত্রঃ বাজেট বক্তৃতা ২০১১-১২, পৃষ্ঠা ১০১]

পুরো বাজেট বক্তৃতা ঘেটেও এই ট্রাইবুনালের জন্য কত বাজেট বরাদ্দ সেটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঠিক একইভাবে অন্য বছরের বাজেট বক্তৃতায় কখনোই এই ট্রাইবুনাল নিয়ে আসলে বছর ওয়ারী কত অর্থ বরাদ্দ রয়েছে কিংবা ঠিক কত টাকা কোন খাতে কিভাবে ব্যবহার হবে সেটি স্পস্ট করে কখোনই জানা যায়নি।

এগুলো ছাড়াও আইন মন্ত্রনালয়ের ওয়েব সাইট ঘেটেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বাজেট বা ব্যয় সম্পর্কে কিছুই জানা যায় নি। আইন মন্ত্রনালয়ের বার্ষিক বাজেটের প্রতিবেদন বা আইন মন্ত্রনালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন রয়েছে ২ থেকে ৩ বছরের কিন্তু নেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের খরচ বা বাজেটের কোনো হিসেব। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও এই সম্পর্কে কোনো তথ্য আইন মন্ত্রনালয়ে পাওয়া যায় নি কিংবা পাওয়া যায়নি কিংবা অর্থ মন্ত্রনালয়ের ওয়েব সাইটে। এই বিষয়ে আমি তথ্য অধিকার আইনে আইন মন্ত্রনালয়ে ইমেইল ও যথাযথ ফরম পূরণ করে ফরম পাঠালেও আজ পর্যন্ত সেটির কোনো উত্তর পাইনি।

এখানে একটা কথা বলে নেয়া যায় যে সংবাদ পত্রের যে রেফারেন্স আমার কাছে রয়েছে সেখানে নানা সময় নানানভাবে ট্রাইবুনালের বাজেটের সংবাদ এসেছে। সেসব সংবাদের একটা ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ২০০৯-২০১০ অর্থ বছর থেকে ঠিক যতগুলো সংবাদ পাওয়া যায় সেগুলো হচ্ছে এমন-

(১) ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে বাজেটে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ [war crimes tribunal budget 2009-10]

(২) ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে বাজেটে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ [war crime tribunal budget 2010-2011]

(৩) ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে বাজেটে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ [Tribunal Budget 2012-13 ]

(৪) ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে বাজেটে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ [Tribunal Budget 2014-15]

সরকারীভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বাজেট না জানাবার ফলে এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ বেশ দুরহ এবং সেটি আমি বেশ ভালো করেই টের পেয়েছি এই ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে। আমি ট্রাইবুনালের বাজেটের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে এই আদালতের তিনটি বিভাগেই আলাদা করে গিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিদের সাথে কথা বলেছি। সংশ্লিষ্ঠদের কাছে আমিই খুব সম্ভবত প্রথম ব্যাক্তি যিনি ট্রাইবুনালের বাজেটের ব্যাপারে কিংবা খরচের ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন সুতরাং এই বিষয়ক প্রশ্নতে প্রাথমিক ভাবে খানিকটা আড়ষ্টতা ও বিষ্ময় কাজ করলেও পরবর্তীতে আমার গবেষনার এই সুনির্দিষ্ট অংশের কথা জানতে পেরে তাঁরা প্রত্যেকেই আমাকেই নিঃশর্ত সাহায্য করেছেন। আমি আন্তর্জাতিক আদালতের তদন্ত দল, ট্রাইবুনালের রেজিস্ট্রার এবং প্রসিকিউশন দলের সাথে/অফিসে আলাদা আলাদা ভাবে কথা বলেছি এবং যতদূর পারা যায় পাঠকদের জন্য এই বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করেছি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বাজেটের তথ্য সংগ্রহ করলেও এর অনেকগুলো ব্যাপার বেশ জটিল এবং অনেকগুলো ব্যাপার একটি আরেকটির সাথে অঙ্গাওঙ্গিভাবে জড়িত। অনেক সময় তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও নানাবিধ তারতম্য রয়েছে কিংবা প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। এগুলো ছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সংশ্লিষ্ঠ বিভাগগুলো আবার ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত হয় সুতরাং সুনির্দিষ্টভাবে বাজেটের একটা একীভূতকরন অনেক ক্ষেত্রে বেশ জটিল প্রক্রিয়া অর্থ্যাৎ ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের জন্য সব ধরনের খরচ মিলিয়ে ( ট্রাইবুনাল, প্রসিকিউশন, তদন্ত) এই পরিমান অর্থ খরচ হয়েছে কিংবা ২০১১ সালে অমুক পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে এইভাবে এক লাইনের হিসেবে বলাটা বেশ জটিল ও দুষ্কর। সে কারনে ভিন্ন ভিন্ন অংশ থেকে তথ্যগুলোকে সংগ্রহ করে তারপর একীভূত করতে হয়েছে।

এখানে এটি বলে রাখা ভালো যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রশাসনিক, বিচারিক কিংবা মামলা পরিচালনার যে খরচ সেটির জন্য বরাদ্দ হয় আইন  মন্ত্রনালয় থেকে আর তদন্ত সংস্থার বরাদ্দ হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। আবার তদন্ত সংস্থার একেক জন ব্যাক্তি আইন শৃংখলা বাহিনীর নানান ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রেষনে আসেন সুতরাং তাঁদের মাসিক ভাতার ক্ষেত্রেও বেশ তারতম্য দেখা দেয় যা আবার একীভূত করে বলাটাও বেশ দুরহ।

যদিও গত ০৩-০৫-২০১০ ইং তারিখে “দৈনিক প্রথম আলো”-তে প্রকাশিত “তদন্ত সংস্থায় শুধু নেই আর নেই” নামক একটি সংবাদে বলা হয়-

“এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত সংস্থা, আইনজীবী প্যানেল ও ট্রাইব্যুনাল পরিচালনায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা খরচ করতে পারছে না কোনো মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, আইনজীবী প্যানেল ও ট্রাইব্যুনালের জন্য খরচ করার দায়িত্ব আইন মন্ত্রণালয়ের। আর তদন্ত সংস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মঞ্জুরির দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু যাবতীয় টাকা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে মঞ্জুর করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য প্রথম কাজ যাঁদের করার কথা, তাঁদের কোনো টাকা দেওয়া যাচ্ছে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া টাকা বিভাজন করে তদন্ত সংস্থার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিলেই সমস্যার সমাধান করা যায়। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হলেও গতকাল রোববার পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নতুন একটি বিষয়ে হাত দেওয়া হয়েছে। গুছিয়ে নিতেও তো কিছু সময় প্রয়োজন। শিগগির সব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন তিনি।“

ICTBD Investigation agency budget-1 prothom alo report 03-05-2010

এই সংবাদের মাধ্যমে এটি বলা যায় যে বিচারের একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় তদন্ত দলের জন্য বরাদ্দ আইন মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে করা হয়েছিলো। যদিও এখন আর সেই অবস্থায় নেই। এখানে এটিও উল্লেখ্য যে তদন্ত দলের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে একটি অন্তঃর্মূখী রাজনীতি ও জটিলতাও তৈরী হয়েছিলো বাজেট অপ্রতুলতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কিন্তু তদন্ত দলের ভাষ্যমতে মাননীয় প্রধান্মন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে সেটি এখন আর নেই। তবে তদন্ত দলের বাজেট আর খরচের ব্যাপারে যে সমস্যা রয়েছে সেটি তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক সানাউল হকের নানাবিধ কথাতে স্পস্ট করে উঠে আসে। তিনি অফিসে বসবার একেবারে আগে কিংবা তাঁর চাকুরীতে যোগদানের শুরুর দিকে তদন্ত দলের বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে জটিলতা ছিলো। ছিলো সরঞ্জাম ও লোকবলের বেশ অভাব। উপরে উল্লেখিত সংবাদে এও বলা ছিলো যে-

“এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থার প্রধান আবদুল মতীনের জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা ও একজন গানম্যান নিয়োগ দেওয়া ছাড়া কমিটির অপর কোনো সদস্যের বা সদস্যদের জন্য একক গাড়ি বা যাতায়াতের ব্যবস্থা করা যায়নি। কার্যালয়ে নথি বা তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য নেই ভালো কোনো সুযোগ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব আপ্যায়ন তহবিল থেকে কিছু কাপ-পিরিচ এবং চা-নাশতার জন্য কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা যায়, স্ব-উদ্যোগে কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মানবতাবিরোধী অপরাধী সম্পর্কে কিছু তথ্য-প্রমাণ দিলেও যাতায়াতের অসুবিধার জন্য তা যাচাই-বাছাই করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছেন না তাঁরা। বাসা আর কার্যালয়ের মধ্যেই তাঁদের যাতায়াত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে”

কিন্তু এখন অবশ্য সে রকম জটিলতা একেবারেই নেই বললেই চলে। তদন্ত সংস্থার জন্য রাজধানীর ধানমন্ডির ১১/এ সড়কে একটি পুরো বাড়ী বরাদ্দ দেয়া হয়েছে (বাড়ী নং-৯৩) যেখানে সব মিলিয়ে ২৮৯ জন ব্যাক্তি কর্মরত রয়েছেন।

তদন্ত সংস্থার ক্ষেত্রে ২০০৯-২০১০ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অর্থ্যাৎ ২০১৬-২০১৭ বছরের বাজেট বরাদ্দ ও ব্যায়ের হিসেব ঠিক কত এটি বের করতে গয়ে বেশ কঠিন একটা হিসেবের মুখে পড়তে হয়েছে। আমি আগেই বলেছি যে এই তদন্ত সংস্থার কর্মীরা অনেকেই আইন শৃংখলা বাহিনীর নানাবিধ অংশ থেকে আসেন। যেমন ডিবি, এন এস আই, র‍্যাব, পুলিশ, বি ডি আর ইত্যাদি। সেক্ষেত্রে তাঁদের বেতন মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে আসলেও এই বেতনের মধ্যে আবার তারতম্য রয়েছে এবং এই তদন্ত স্নগস্থায় এসে তাঁরা আরো অনেক নানান সুযোগসুবিধা পান যেটি আগের চাকুরীস্থলে তাঁরা পেতেন না। আবার অন্যদিকে বাজেটে একটি সুনির্দিষ্ট পরিমানের কথা বলা থাকলেও এই বাজেট আবার গ্রস ও নীট এই দুইটি হিসেবের পর চূড়ান্ত একটা আকারে গিয়ে দাঁড়ায়।

ট্রাইবুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক জবা সানাউল হক আমাকে তাঁর অফিসে যোগদানের সময় থেকে একটি হিসেব তিনি দিয়েছেন। তাঁর সাথে আমার দুইদিনের যে মুখোমুখি কথা হয় সেটির প্রথম দিনে তিনি ২০১১,২০১২,২০১৬,২০১৭ এই চার সালের বাজেট বরাদ্দের কথা তাঁর স্মৃতি থেকে আমাকে বল্লেও  দ্বিতীয় দিন তিনি শুধু আমাকে ২০১১-২০১২ অর্থ বছর থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের তদন্ত সংস্থার খরচের অংশটুকু বলেছেন। পরবর্তীতে আমি তাঁর আগের দিন বলা বক্তব্য, গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তদন্ত সংস্থার বাজেট ও সেটির খরচের একটি চিত্র দাঁড় করিয়েছি নিম্নোক্তভাবে-

International Crimes Tribunal’s Budget (for Investigation Team)

Financial Year Total Allotment Total Expenditure Total Savings
  Bangladeshi Taka (BDT)            BDT     BDT
2009-2010 5,00,00,000 (approx.) 4,23,21,360 (approx.) 76,78,640
       
2010-2011 7,68,00,000 (approx.) 6,50,80,500 (approx.) 1,17,19,500
       
2011-2012 11,80,00,000 (approx.) 5,81,60,588 5,98,39,412
       
2012-2013 6,28,80,375 6,28,80,375          000
       
2013-2014 7,60,35,199 7,60,35,199          000
       
2014-2015  8,51,91,603 8,51,91,603          000
2015-2016 10,00,00,000 (approx.) 8,14,59,502 1,85,40,498
       
2016-2017 11,00,00,000 (approx.) 9,22,80,000 (approx.) 1,77,20,000
       
Total  67,89,07,177 56,34,09,127  11,54,98,050

 

Budget Investigation team

এখানে দেখা যাচ্ছে যে ২০০৯-২০১০ অর্থ বছর থেকে শুরু করে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত বাজেটের পরিমাণ ৬৭ কোটি ৮৯ লক্ষ ০৭ হাজার ১৭৭ টাকা যেখানে মোট খরচের পরিমাণ ৫৬ কোটি, ৩৪ লক্ষ, ৯ হাজার ১২৭ টাকা। [এখানে উল্লেখ্য যে ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের ব্যায়ের হিসেব যেহেতু পেয়েছি কিন্তু বাজেট বরাদ্দ পাইনি সেক্ষেত্রে এই ৩ অর্থ বছরের ব্যায়ের পুরো অর্থই বাজেট বরাদ্দ ধরা হয়েছে] সব মিলিয়ে যেখানে গত ৮ বছরে বাজেট ও ব্যায়ের পরবর্তী উদ্বৃত্ত রয়েছে ১১ কোটি ৫৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ৫০ টাকা।

একইভাবে এইবার আমরা দেখে নেই যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আর বাকী দুইটি অংশ (ট্রাইবুনাল পরিচালনা বিভাগ ও প্রসিকিউশন) বাজেট বরাদ্দ ঠিক কেমন। এখানে একটি কথা বলে নেয়া ভালো যে ট্রাইবুনাল পরিচালনা ও প্রসিকিউশনের বাজেট আমি আলাদা আলাদা করে নীচে দেখালেও মন্ত্রনালয় থেকে এই বাজেট একীভূত হয়ে ট্রাইবুনালে আসে এবং এই দুই বিভাগে ঠিক কিভাবে বাজেট ভাগ হয় সেটি খাতওয়ারী সু-স্পস্ট ভাবে লিখিত থাকে। এ খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিসারদের বেতন, বাড়ী ভাড়া, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, ধোলাই ভাতা,আপ্যায়ন ভাতা, রিটেইনার ভাতা, টিফিন ভাতা,ভ্রমণ ভাতা, যাতায়াত ভাতা, মোবাইল/সেলুলার ভাতা, অন্যান্য, ভ্রমণ ব্যয়, বদলী জনিত ভ্রমণ ব্যয়, ওভারটাইম, ডাক,টেলিফোন/টেলিপ্রিন্টার, ইন্টারনেট/টেলেক্স/ফ্যাক্স, গ্যাস ও জ্বালানী, পেট্রোল ও লুব্রিকেন্ট,মুদ্রণ ও বাঁধাই, স্টেশনারী/স্ট্যাম্প/সীলে, বইপত্র ও সাময়িকী,প্রচার ও বিজ্ঞাপন, চিকিৎসা ব্যয়, ইউনিফর্ম,পারশ্রমিক/সম্মানি ভাতা,অন্যান্য, যানবাহন মেরামত, আসবাবপত্র এবং (মেরামত খাতে)- কম্পিউটার ও অফিস সরঞ্জাম, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ, অফিস সরঞ্জামাদি, আসবাবপত্র

1

2

3

4

International Crimes Tribunal’s Budget
(for Tribunal and Judges)

Financial Year Total Allotment Total Expenditure Total Savings
2009-2010 1,57,20,000 1,16,9,155 1,45,50,845
2010-2011 2,02,75,000 31,57,588 1,71,17,412
2011-2012 2,13,32,590 1,24,39,060 88,93,530
2012-2013 6,33,65,000 5,03,63,821 1,30,01,179
2013-2014 2,97,57,470 2,19,35,047 78,22,423
2014-2015 2,97,32,000 2,14,67,920 8264080
2015-2016 2,87,75,000 2,53,17,483 3,45,7517
2016-2017 3,46,75,000 1,62,56,787 1,84,18,213
Total 24,36,32,060 15,21,06,861 91,52,5,199

International Crimes Tribunal Budget
(for Prosecutors)

Financial Year Total Allotment Total Expenditure Total Savings
2009-2010 5,58,73,000 4,78,86,778 (approx.) 79,86,222
2010-2011 22,75,93,325 21,65,34,660 (approx.) 11058665
2011-2012 2,92,81,681 1,98,86,065 93,956,18
2012-2013 7,37,62,000 5,91,01,013.39 1,46,60,986.61
2013-2014 3,52,86,549 2,74,62,913.92 78,23,635.08
2014-2015 3,29,28,852 2,67,23,964.83 62,04,887.17
2015-2016 3,25,31,049 3,03,94,610.96 21,36,438.04
2016-2017 4,61,56,150 2,47,13,011.21 2,14,43,138.79
Total 53,34,12,606 45,27,03,017.31 8,07,09,588.69

উপরের হিসেব থেকে এখন পুরো ট্রাইবুনালের গত ৮ বছরের বিচারিক হিসেবের একটা বাজেট ও খরচের একটি সামগ্রিক চিত্র আমরা দেখতে পাই। এটি উল্লেখ্য যে ট্রাইবুনালে প্রসিকিউশন দলে এই মুহুর্তে এটর্নী জেনারেল পদমর্যাদায় তিনজন রয়েছেন যাদের বেতন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং এগুলোর সাথে যুক্ত হবে ঝুঁকি ভাতা যেটি মূল বেতনের আরো শতকরা ৪০ ভাগ। এই ছাড়া এই ৩ জন ছাড়া ট্রাইবুনালের আর বাকী ১৫ জন সহ এটর্নী জেনারেল পদ মর্যাদার প্রসিকিউটর রয়েছেন যাদের মূল বেতন ৪০,০০০ টাকা এবং এই বেতনের সাথে ঝুঁকি ভাতা ৪০% যোগ হচ্ছে। এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে এটর্নী জেনারেল পদ-মর্যাদার প্রবীন প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান ট্রাইবুনাল থেকে তাঁর প্রাপ্য ভেতন-ভাতার কিছুই আজ পর্যন্ত নেন নি।

[উপরে চার্টে উল্লেখিত ২০১৬-২০১৭ সালের ট্রাইবুনাল ও প্রসিকিউটরদের মিলিত বাজেটের পরিমাণ এবং অর্থ মন্ত্রনালয়ের সংযুক্ত অর্থ বরাদ্দের পরিমাণের তারতম্য রয়েছে। কেননা প্রথমত, চার্টে প্রদত্ত হিসেব ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়ত, একটি বাজেট বরাদ্দের পর সেটি আবার পুনরায় সংশোধিত আকারে ট্রাইবুনালে কখনো কখনো আসতে পারে।]

Summaray of ICTBD till Feb 2017

প্রসিকিউশন ও ট্রাইবুনালের মিলিত বাজেটের দুইটি প্রদত্ত চার্ট থেকে আমরা দেখতে পেলাম যে ট্রাইবুনাল পরিচালনার জন্য ২০০৯-১০ অর্থ বছর থেকে শুরু করে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সর্বমোট বাজেট বরাদ্দ রয়েছে ২৪ কোটি ৩৬ লক্ষ ৩২ হাজার ৬০ টাকা এবং খরচ হয়েছে ১৫ কোটি ২১ লক্ষ ৬ হাজার ৮৬১ টাকা। এগুলোর পরে উদ্বৃত্ব হিসেবে রয়েছে ৯ কোটি ১৫ লক্ষ ২৫ হাজার ১৯৯ টাকা।

আবার প্রসিকিউশন দলের মোট বরাদ্দ ওই একই অর্থ বছর থেকে এই পর্যন্ত ৫৩ কোটি ৩৪ লক্ষ ১২ হাজার ৬০৬ টাকা যার মধ্যে খরচ হয়েছে ৪৫ কোটি ২৭ লক্ষ ৩ হাজার ১৭ টাকা ৩১ পয়সা। এছাড়াও এই পুরো অর্থবছরগুলোতে মোট উদ্বৃত্বের পরিমাণ হচ্ছে ৮ কোটি ৭ লক্ষ ৯ হাজার ৫৮৮ টাকা ৬৯ পয়সা।

সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (বাংলাদেশ) পরিচালনা করতে ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর পর্যন্ত মোট বাজেট ছিলো ১৪৫ কোটি ৫৯ লক্ষ ৫১ হাজার ৮৪৩ টাকা এবং এই পর্যন্ত সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ১১৬ কোটি ৮২ লক্ষ ১৯ হাজার ৫ টাকা ৩১ পয়সা। বাজেট বরাদ্দ ও খরচের পরে মোট অবশিষ্ট হচ্ছে ২৮ কোটি ৭৭ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৩৭ টাকা ৬৯ পয়সা। তাহলে গত ৮ বছরে প্রতি বছর ট্রাইবুনালের গড় বাজেট ছিলো ১৮ কোটি ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯৮০ টাকা আর খরচ হয়েছে ১৪ কোটি ৬০ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৪১ টাকা।

নীচে দুইটি গ্রাফের মাধ্যমে এই হিসেবের একটি চিত্র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হোলো-

Total Budget-1

উপরের এই প্রদত্ত বাজেট এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ২৭ টি মামলার রায়, ট্রাইবুনালে ১০ টি বিচারাধীন মামলা। ১০ টি বিচার শুরু হতে যাওয়া মামলা সহ ২০৯ জন আসামী, ২৫ টি চলমান তদন্ত, নিষ্পত্তি হওয়া তদন্ত ৫০ টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থ্যাৎ গত ৭/৮ বছরে বিচার শুরু হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিচার যে অবস্থানে এসে যে ২০৯ জন আসামীর বিচার করেছে বা করছে তাদের ক্ষেত্রে ট্রাইবুনালের খরচ হয়েছে ১১৬ কোটি ৮২ লক্ষ ১৯ হাজার ৫ টাকা ৩১ পয়সা যেটি এক কথায় এই জাতীয় বিচারের ক্ষেত্রে বিষ্ময়কর এক প্রাপ্তি।

Total Budget

বিশ্বের অন্যান্য দেশে চলমান বা সমাপ্ত এই জাতীয় অপরাধের জন্য ট্রাইবুনালের বাজেট ও খরচের হিসেবঃ

বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই জাতীয় বিচার আর যেসব দেশে চলছে সেসব দেশের বিচারের খরচ ও সে তুলনাত বিচারিক সাফল্যের একটা তুলনামূলক পর্যালোচোনা করলে ব্যাপারটি আরো স্পস্ট হবে। এটি পর্যালোচনা করবার জন্য আমরা প্রথমেই দেখি রুয়ান্ডা ট্রাইবুনালের গত ১০ টি বছরের বাজেট-

International Criminal Tribunal for Rwanda

[ICTR]

Financial Year Total Budget
2002-2003 $173,611,600
2003-2004 $196,400,000
2004-2005 $251,400,000
2005-2006 $212,857,900
2006-2007 $252,600,000
2008-2009 $279,372,600
2009-2010 $233,456,780
2010-2011 $227,246,500
2011-2012 $157,940,000
2012-2013 $166,921,200
2013-2014

2014-2015

$174,543,165

$140,393,550

Total $246,67,43,295 (13 বছর)

 

[তথ্য সূত্রঃ ইউনাইটেড নেশন্স ও আই সি টি আর ওয়েব সাইটস]

২০০২ থেকে ২০০৩ অর্থ বছর থেকে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে (মোট ১৩ বছর) রুয়ান্ডার যুদ্ধাপরাধ আদালতের শুধু সর্বমোট বাজেটই হচ্ছে ২৪৬ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৯৫ ইউ এস ডলার যা বাংলাদেশের টাকার হিসেবে দাঁড়ায় প্রায় ১৯৮৯ কোটি ৪২৮ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৪১ টাকা (গুগল ক্যালকুলেটরে আজ ১১ ই এপ্রিল ২০১৭ তারিখে হিসেবকৃত, প্রতি ডলার ৮০ টাকা ৬৫ পয়সা হিসেবে)। রুয়ান্ডার এই আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯৪ সালের নভেম্বর থেকে। সেই সময় থেকে হিসেব করলে ২০১৫ পর্যন্ত বাজেটের হিসেব আরো কয়েক গুন বেড়ে দাঁড়াবে। এই ট্রাইবুনাল কত খরচ করেছে এটি নিয়ে বিবিসি তাঁদের প্রকাশিত একটি সংবাদে বলে-

The tribunal was also the first international court to recognise rape as a means of perpetrating genocide, but it has no shortage of critics over its estimated $2bn (£1.3bn) price tag. [সূত্র] 

এই পত্রিকা ছাড়াও আফ্রিকার মেইল ও গার্ডিয়ান নামক একটি পত্রিকাও এই বিচারের সর্বমোট খরচের একটি হিসেব নিয়ে বিস্তারিত লেখে। তারা বলে যে-

After two dIntl tribunal start date detailsdecades of work and 61 convictions at a cost of nearly $2-billion, the International Criminal Tribunal for Rwanda (ICTR) shuts up shop amid criticism, but at least with some justice served.

The Tanzanian-based and United Nations-backed ICTR, set up in late 1994 to try the alleged masterminds behind Rwanda’s genocide, is ending its work, with only its appeals chamber staying open for one final trial after December 31. In the end, the court “did its job,” admits Bonaventure Higaniro, the guardian of the genocide memorial at Kamonyi, a massacre site some 36 kilometres south of Rwandan capital Kigali. Kamonyi’s mayor Jean-Paul Akayesu was sentenced to life imprisonment for genocide and crimes against humanity in 1998, and is serving his sentence in Mali. “It would have been better that he was tried here … because here people knew him and could give more information,” said Higaniro. But he admits that, without the ICTR, the ex-mayor – who fled to Zambia after the genocide – and many other kingpins of the killing would not have not have been arrested and so would have escaped justice. “Those who tried to flee, the ICTR put its hand on them and found them …. The court did it its job,” he said.

Convictions
The closure comes on the 20th anniversary of the genocide, which saw at least 800 000 people, overwhelmingly ethnic Tutsis, murdered by Hutu extremists.In two decades, the tribunal has indicted 92 people, mostly senior political or military officers at the time of the genocide. Of those, 61 were convicted, including seven who are still waiting for their appeal. Critics say the court’s justice has been painfully slow, incredibly expensive at a cost of $2-billion and, being geographically far removed from the victims on the ground, it lacked an understanding of context. While the tribunal’s contribution to fighting impunity is clear, it has been criticised for lacking any mechanism for victim reparations and failing to prosecute alleged crimes by those on the other side of the conflict. Rwanda opposed the ICTR’s mandate, which also covered possible crimes committed by the Rwandan Patriotic Front (RPF) in 1994. The then-rebel Tutsi group is now Rwanda’s ruling party, led by President Paul Kagame. Kigali has consistently criticised acquittals made by the court. [সূত্র]

এই ট্রাইবুনাল ১৯৯৪ থেকে শুরু করে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চলেছে। মোট ২১ বছর। এই ২১ বছরে এই ট্রাইবুনালের অর্জন কি? আসুন নীচে একটি চার্টের মাধ্যমে সেটি দেখে নেই-

infographic-ENমানে দাঁড়ালো এই ট্রাইবুনালের বাজেট যদি উপরের হিসেব অনুযায়ী 13 বছরের প্রতি বছরে গড়ে $189749484.23 ইউ এস ডলার হয় তাহলে এই ট্রাইবুনালের মোট চলমান সময়ে সর্বমোট বাজেট ছিলো $3984739169। তাহলে বাংলাদেশের টাকার হিসেবে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২১৩৬ কোটি ৯২ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৭৯ টাকা। বাৎসরিক গড় টাকায় যার পরিমানটা দাঁড়ায় ১৫৩০ কোটি ৩২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৮৪৫ টাকা [১ ডলার=৮০ টাকা ৬৫ পয়সা হিসেবে ১১/০৪/২০১৭ তে টাকা ভার্সেস ডলারের রেট]

২১ বছরে এই পরিমান অর্থ খরচ করে ৯৩ জন অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে পেরেছে, ৬২ জনের সাজা হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে, ১৪ জন ছাড়া পেয়েছে, ১০ জনকে রুয়ান্ডার নিজস্ব আইনের অধীনে বিচারের জন্য পাঠানো হয়েছে, ৩ জন পলাতক, ২ জন বিচারের রায়ের আগে মারা গেছে আর ২ টি অভিযোগ বিচারের আগেই তুলে নেয়া হয়েছে। এই হচ্ছে জাতিসঙ্ঘের অধীনে একটা বিচারের অবস্থা। এত হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে এই বিচারের ফলাফল হতাশ করেছে রুয়ান্ডাবাসীদের। যে স্বপ্ন তারা এই বিচারকে ঘিরে দেখেছে সেটি নিয়ে হতাশ রুন্ডানরা। একদিকে প্রচুর অর্থ খরচ অন্যদিকে বিচারের তীব্র ধীর গতি বিচার পরবর্তী রিকনসিলিয়েশনের স্বপ্নকে ক্রমাগত ফিকে করে দিয়েছে। ফেয়ার ট্রায়ালের নাম করে এখানে এই বিচারের ক্ষেত্রে নানাবিধ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ছাড়াও আরো নানাবিধ অভিযোগ  উত্থাপিত হয়েছে এই ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে। [সূত্র-১] [সূত্র-২] [সূত্র-৩] [সুত্র-৪] [সুত্র-৫]

সূত্রঃ http://www.tribunalvoices.org/voices/video/182

[সুদীর্ঘ ২১ বছর ধরে জাতি সংঘের অধীনে ICTR চলমান থাকলেও এখানে এটিও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে রুয়ান্ডাতে এই গণহত্যা নিয়ে আরেকটি কমিউনিটি আদালত ২০০১ সাল থেকেই কিন্তু চলমান ছিলো যেটি গাকাকা আদালত Gacaca Court নামে পরিচিত ছিলো। এই আদালতও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল থেকে নানাবিধ সমালোচনার শিকার হয়েছিলো।]

ICTR expenditureবাজেটের পাশাপাশি রুয়ান্ডা ট্রাইবুনালের খরচের একটি হিসেব আলোচিত হওয়াটা জরুরী। সিজার রোমানো ও ত্রহরগিস ইঙ্গোত্তি’র একটি ডিস্কাশন পেপার “দি ফাইনান্সিং অফ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট” থেকে জানা যায় যে- ১৯৯৫ সালে রুয়ান্ডা ট্রাইবুনাল খরচ করেছে ২২০২৯০০ ডলার, ১৯৯৬ সালে ২৪৪৭৭৮০০ ডলার, ১৯৯৭ সালে ৪১৫১৭৪৫০০ ডলার, ১৯৯৮ সালে ৫৪৫০৯৯০০ ডলার, ১৯৯৯ সালে ৭৩২৬০৬০০ ডলার, ২০০০ সালে ৮৬১৫৪৯০০ ডলার খরচ হয়েছে। যা গড়ে দাঁড়ায় প্রতি বছর গড়ে  ( সর্ব মোট ৬ বছরে=২৮২১২৩৫৫০) ৪৭০২০৫৯২ ইউ এস ডলার।

আবার রুয়ান্ডা ট্রাইবুনালের পর যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ট্রাইবুনালের কথা বলা যায় সেটি হচ্ছে ইয়াগোস্লাভিয়া ট্রাইবুনাল। ১৯৯৩ সালের মে মাসের ২৫ তারিখে শুরু হওয়া এই ট্রাইবুনালের অফিসিয়াল নাম “International Criminal Tribunal for Yoguslavia” বা সংক্ষেপে ICTY. ১৯৯০ সাল থেকে শুরু হওয়া বসনিয়া যুদ্ধে ক্রোটস, সার্ব, বসনিয়ান, মেসেডোনিয়ান,আল্বেনিয়ান বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে এক জাতিগত নিধন প্রক্রিয়া শুরু হয়, এই সময় চলতে থাকা যুদ্ধে নানাবিধ আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের জন্যই এই ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। নীচে এই ট্রাইবুনালের এই পর্যন্ত বিচারের একটা সংক্ষিপ্ত রূপ দেয়া হোলোঃ [সূত্র] এই তথ্য ২০১৬ এর অগাস্টের ২ তারিখ পর্যন্ত।

THE TRIBUNAL HAS INDICTED 161 PERSONS

for serious violations of international humanitarian law committed in the territory of the former Yugoslavia

10 In custody at the UN ICTY Detention Unit
Valentin Ćorić, Radovan Karadžić, Ratko Mladić, Milivoj Petković, Slobodan Praljak, Jadranko Prlić, Berislav Pušić, Mićo Stanišić, Bruno Stojić, Stojan Župljanin

ONGOING PROCEEDINGS FOR 7 ACCUSED

1 Currently at trial
 Ratko Mladić
6 Before the Appeals Chamber
 Jadranko Prlić, Bruno Stojić, Slobodan Praljak, Milivoj Petković, Valentin Ćorić and Berislav Pušić

CONCLUDED PROCEEDINGS FOR 154 ACCUSED

        83 Sentenced
2 Awaiting transfer
Mićo Stanišić, Stojan Župljanin
17 Transferred
Ljubiša Beara, Miroslav Bralo, Radoslav Brđanin, Vlastimir Ðorđević, Stanislav Galić, Goran Jelisić, Radislav Krstić, Dragoljub Kunarac, Milan Lukić, Sredoje Lukić, Sreten Lukić, Milan Martić, Radivoje Miletić, Dragomir Milošević, Nebojša Pavković, Vujadin Popović, Milomir Stakić
56 Have served their sentence
Zlatko Aleksovski, Haradin Bala, Predrag Banović, Vidoje Blagojević, Tihomir Blaškić, Ljubomir Borovčanin, Lahi Brahimaj, Mario Čerkez, Ranko Češić, Hazim Delić, Damir Došen, Dražen Erdemović, Anto Furundžija, Enver Hadžihasanović, Dragan Jokić, Miodrag Jokić, Drago Josipović, Dragan Kolundžija, Dario Kordić, Milojica Kos, Radomir Kovač, Momčilo Krajišnik, Milorad Krnojelac, Amir Kubura, Miroslav Kvočka, Esad Landžo, Vladimir Lazarević, Vinko Martinović, Darko Mrđa, Zdravko Mucić, Mladen Naletilić, Dragan Nikolić,  Momir Nikolić, Dragan Obrenović, Dragoljub Ojdanić, Vinko Pandurević, Biljana Plavšić, Dragoljub Prcać, Mlađo Radić, Ivica Rajić, Vladimir Šantić, Duško Sikirica, Blagoje Simić, Milan Simić, Nikola Šainović, Veselin Šljivančanin, Pavle Strugar, Duško Tadić, Miroslav Tadić, Johan Tarčulovski, Stevan Todorović, Mitar Vasiljević, Zoran Vuković, Simo Zarić, Dragan Zelenović, Zoran Žigić
  7 Deceased after trial or while serving their sentence
Milan Babić, Rasim Delić, Miroslav Deronjić, Milan Gvero, Mile Mrkšić, Drago Nikolić, Zdravko Tolimir
  1 Appeal case to be conducted by the Mechanism for International Criminal Tribunals (MICT)
Radovan Karadžić
19 Acquitted
Idriz Balaj, Ljube Boškoski, Ivan Čermak, Zejnil Delalić, Ante Gotovina, Sefer Halilović, Ramush Haradinaj, Zoran Kupreškić, Mirjan Kupreškić, Vlatko Kupreškić, Fatmir Limaj, Mladen Markač, Milan Milutinović, Isak Musliu, Naser Orić, Dragan Papić, Momčilo Perišić, Miroslav Radić, Vojislav Šešelj*
* Appeal case to be conducted by MICT
13 Referred to a national jurisdiction pursuant to Rule 11bis
Rahim Ademi, Dušan Fuštar, Momčilo Gruban, Gojko Janković, Vladimir Kovačević, Duško Knežević, Paško Ljubičić, Željko Mejakić, Mirko Norac, Mitar Rašević, Radovan Stanković, Savo Todović, Milorad Trbić
37 Had their indictments withdrawn or are deceased
20 Indictments withdrawn
Mirko Babić, Nenad Banović, Zdravko Govedarica, Gruban, Marinko Katava, Dragan Kondić, Predrag Kostić, Goran Lajić, Zoran Marinić, Agim Murtezi, Nedeljko Paspalj, Milan Pavlić, Milutin Popović, Draženko Predojević, Ivan Šantić, Dragomir Šaponja, Željko Savić, Pero Skopljak, Nedjeljko Timarac, Milan Zec
10 Reported deceased before transfer to the Tribunal
Stipo Alilović, Janko Bobetko, Goran Borovnica, Simo Drljača, Dragan Gagović, Janko Janjić, Nikica Janjić, Slobodan Miljković, Željko Ražnatović, Vlajko Stojiljković
  7 Deceased after transfer to the Tribunal
Mehmed Alagić, Đorđe Đukić, Slavko Dokmanović, Goran Hadžić, Milan Kovačević, Slobodan Milošević, Momir Talić
2 Retrial to be conducted by MICT
Jovica Stanišić, Franko Simatović

160225_icty

১৯৯৩ থেকে শুরু হওয়া এই ট্রাইবুনাল এখন প্রায় সমাপ্তির পথে। আশা করা যাচ্ছে এই ট্রাইবুনালে ঝুলে থাকা একটি আপীল মামলার পর ট্রাইবুনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এই কোর্টের সভাপতি থিওডর মেরন ২০১৪ সালের একটি সংবাদ মাধ্যমে বলেন-

Presenting his annual report to the Security Council in New York on Monday, the Hague-based war crimes court’s president said that “fewer than ten trials and appeals remain unfinished”.

“By the end of 2015, based on current forecasts, we expect that only one trial and one appeal, in the Mladic and Prlic et al. cases, will still be ongoing, concluding in 2017,” Meron said.

Meron said the verdict in the case of former Bosnian Army commander Ratko Mladic is expected to be rendered in July 2016, while the court’s ruling in the appeal by former Bosnian Croat leader Jadranko Prlic and five others is due next year.

The Tribunal is preparing to close for good in 2017, after which the court’s so-called ‘residual mechanism’ will take over any remaining appeals, he said. [সূত্র]

এদিকে ২০১৭ এর জানুয়ারী মাসের আরেকটি সংবাদে বলা হয়-

The UN war crimes tribunal for the former Yugoslavia will shut down in 2017 after more than two decades, but a handful of unfinished cases will continue, including the landmark case of Bosnian Serb military chief Ratko Mladic. In what was intended to be the final extension of the judges’ mandate at the Hague-based International Criminal Tribunal for the Former Yugoslavia, ICTY, the UN Security Council prolonged the work of this ad hoc court for crimes committed during the 1990s wars to November 2017. November 2017 is the final deadline for the tribunal to hand down verdicts in three remaining cases – two for war crimes in Bosnia and Herzegovina and one for contempt of court.

এই ট্রাইবুনালের একেবারে শুরু থেকে এই পর্যন্ত কত খরচ হয়েছে বা হতে পারে সেটির একটি আনুমানিক হিসেব বের করতে গিয়ে আমি সাম্প্রতিক সময়ের এই ট্রাইবুনালের বাজেটের একটা হিসেব প্রথমে দিচ্ছি-

Int’l Crimes Tribunal for Yugoslavia (Budget)

Financial Year Total Allotment (Net)
2004-2005 $298,687,000
2006-2007 $297,146,300
2008-2009 $316,472,100
2010-2011 $286,012,600
2012-2013 $250,814,000
2014-2015 $179,998,600
2016-2017 $85,024,600
Total $171,41,55,200 (14 years)

ইয়াগোস্লাভিয়া ট্রাইবুনালে বাজেটের হিসেবটা ২ বছর করে করে করা হয়। অর্থ্যাৎ ২০০৪-২০০৫ অর্থ বছর মানে হচ্ছে ২০০৪ এবং ২০০৫ এই দুই বছরের পুরোটা মিলিয়ে। উপরের চার্ট অনুযায়ী মোট ১৪ বছরের খরচ ১৭১,৪১৫৫২০০ ইউ এস ডলার হলে গড়ে প্রতি বছরে হিসেব দাঁড়ায় ১২২৪৩৯৬৫৭ ইউ এস ডলার। সে হিসেবে ১৯৯৩ সাল থেকে হিসেবে ২০১৭ পর্যন্তও যদি ধরি তাহলে হিসেব দাঁড়ায় এই বিচারে একটা এপ্রোক্সিমেট বাজেট এই পর্যন্ত হয়েছে ২৯৩,৮্‌৫,১৭৭১ ইউ এস ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় সেই আগের ডলারের হিসেবে [$1=BDT80.65] ২৩,৬৯৯ কোটি ৪২ লক্ষ ০০৩৬৩ টাকা যা প্রতি বছরে হয় ৯৮৭ কোটি ৪৭ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩৪৮ টাকা।

দুই যুগ ধরে বিচার করে ইয়াগোস্লাভিয়া ট্রাইবুনালের যে অবস্থান সেটি উপরেই দেয়া হয়েছে। ১৬১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে পরবর্তী বিচার কার্যে প্রায় ২৯৪ কোটি ইউ এস ডলার বাজেট করেছে জাতিসংঘ। শুধু অর্থের এই বিশাল রূপই নয় বরং একই সাথে প্রচন্ড রকমের সমালোচনাও কুড়িয়েছে এই ট্রাইবুনাল। [সুত্র-১] [সূত্র-২] [সূত্র-৩] [সূত্র-৪] [সূত্র-৫] সাক্ষীর সুরক্ষা থেকে শুরু করে বিচারপতিদের সততা, রাজনৈতিক প্রভাবিত বিচার কিংবা দীর্ঘায়িত ধীর গতির বিচার ইত্যাদি বিষয়ে এইসব সমালোচনার কথা নানান সময়েই উঠেছে।

খরচের হিসেবে ইয়াস্লোভিয়া ট্রাইবুনালের ক্ষেত্রে যে হিসেব পাওয়া যায় সে টি নীচে একটি ছবি আকারে উপস্থাপিত করছি-

ICTY expenditure

ছবিতে দেখা যাচ্ছে ১৯৯৩ সালে ২৭৬০০০ ডলার, ১৯৯৪ সালে ১০৮০০০০০ ডলার,১৯৯৫ সালে ২৫০৬৮১০৯ ডলার, ১৯৯৬ সালে ৩০৪২৯৫০০ ডলার, ১৯৯৭ সালে ৩৬৩৯২৮০০ ডলার, ১৯৯৮ সালে ৬২৮৩৩১০০ ডলার, ১৯৯৯ সালে ৯৫২৩৭৬০০ ডলার, ২০০০ সালে ১০৬১৪৯৪০০ ডলার খরচ হয়েছে। যা গড়ে দাঁড়ায় প্রতি বছর গড়ে  ( সর্ব মোট ৮ বছরে=৩৬৭১৮৬৫০৯) ৪৫৮৯৮৩১৪ ইউ এস ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যেটি দাঁড়ায় ৩৭০ কোটি ১৬ লক্ষ ৯৮ হাজার ৯৩৪টাকা। (৮ বছরের গড় করে)

এইদিকে কম্বোডিয়া ট্রাইবুনালের খরচের একটা সংক্ষিপ্ত চিত্রের দিকে আমরা লক্ষ্য করি- দেখা যাচ্ছে ২০০৬ থেকে ২০১৬ এর কিছু সময় পর্যন্ত প্রায় ২৯৩ (২৯৩,০০০০০০) মিলিয়ন ইউ এস ডলার খরচ হয়েছে যা ২০১৭ পর্যন্ত আনুমানিক ভাবে ৩০০ (৩০০,০০০০০০) মিলিয়ন ডলার হয়েছে বলে ধরে নেয়া যেতে পারে।

expenditure ECCC

                                 [সূত্রঃ কম্বোডিয়া ট্রাইবুনালের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট]

এই বিচারের একটা সংক্ষিপ্ত রূপও আমরা নীচে দেখে নিতে পারি-

ECCC at a Glance - EN - April 2014_FINAL_0002 ECCC at a Glance - EN - April 2014_FINAL_0003

নিউ ইয়র্ক টাইমসের ১০ ই এপ্রিল ২০১৭ প্রকাশিত 11 Years, $300 Million and 3 Convictions. Was the Khmer Rouge Tribunal Worth It? শীর্ষক একটি নিবন্ধে বলা হয় যে গত এক যুগের মত সময় ধরে কম্বোডিয়া ট্রাইবুনাল প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ইউ এস ডলার খরচ করলেও রায় হয়েছে মাত্র ৩ জনের। এখানে বলা হচ্ছে যে-

After spending more than a decade and nearly $300 million, the United Nations-backed tribunal prosecuting the crimes of the Khmer Rouge has convicted just three men. It appears now that they could be the only people to answer in court for the deaths of at least 1.7 million Cambodians from 1975 to 1979 in one of the worst episodes of mass killing in the last century. Three more potential defendants have been investigated by the tribunal, an ungainly mix of Cambodian and international prosecutors and judges. But because of resistance on the Cambodian side, there are serious doubts that their indictments will proceed.

“From the start, the Cambodian government had a very different idea about how many people would be tried, and their view appears to be prevailing,” said Alexander Hinton, an anthropology professor at Rutgers University-Newark. “The court’s legacy will be tainted and greatly diminished if it fails to try further cases.” 

The trial’s slow pace and its susceptibility to political interference are in part a result of an awkward compromise reached by Cambodia and the United Nations when they agreed to set up a combined international court, which formally began in 2006.Questions about the tribunal’s effectiveness and independence have been raised from the start. “From the perspective of truth and justice, a de facto show trial of a few senior political figures would almost be a worst-case scenario,” Stephen Heder, an expert on Cambodia at the School of Oriental and African Studies in London, said in 2003 as plans for the tribunal were being put in place.

Of the three people convicted, two were members of the highest circle of the radical Communist regime: Nuon Chea, 90, who was No. 2 in the hierarchy, and Khieu Samphan, 85, the chief of state. They were sentenced to life in prison for crimes against humanity and are undergoing a separate trial for genocide and other crimes.

মানে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশী টাকায় প্রায় (30,000000*80.65) ২৪১৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

কম্বোডিয়ার এই ট্রাইবুনালের এমন খরচের দৃষ্টান্ত ছাড়াও হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যে বাজেট ও খরচ সেটিরও কিছু তথ্য এখানে দেয়াটা জরুরী। সাংবাদিক Niklas Jakobsson

ICC BudgetMoney always seems to be a hot topic when it comes to the International Criminal Court. Last year, the proposed ICC budget came  under a great deal of criticism for allocating a “disproportionate” amount of money to the Office of the Prosecutor. So when the proposed budget for 2016 was released earlier this month, it was bound to receive substantial scrutiny. The 2016 proposed budget seems to be following an emerging pattern. Since 2004, the ICC budget has increased by 50 million euros every six years. In 2004, the Court had an operating budget of just over 53 million euros. When taking into account inflation over time, the 2004 budget of 53 million euros would be the equivelent of 64,5 million euros today. If the proposed budget is approved, the Court will receive over 153 million euros in 2016.

Elizabeth Evenson, senior counsel in the International Justice Program at Human Rights Watch, believes that we shouldn’t make generalisations about the budget increases. “The increase in the Court budgets over time shouldn’t really be looked at on a yearly basis but based on the workload of the Court. The last 12 years have included the start-up phase of the Court. There were a few years where the workload really started to take off, around 2010-2011, but states were insisting that the budget be held to near zero growth.”

Registry pushing for major increase

On a year-to-year basis, the budget will substantially increase, if approved. The 2015 budget clocked in at just over 130 million euros, with the 2016 proposed budget being over 153 million euros. The Registry and the Office of the Prosecutor account for the majority of the total budget increase of 22.66 million euros (17.3%). 

This time, it’s the Registry that is looking to take a substantial part of the budget. Compared to its 2015 budget of just over 65 million euros, ICC Registrar Herman von Hebel has asked for nearly 82 million euros this year. This amounts to 53.44 percent of the Court’s entire 2016 proposed budget.

Elizabeth Evenson isn’t surprised about the proposed large increase for the Registry. “After three years of basically no growth in the Registry’s budget, it doesn’t come as a surprise to me that the Registry asks for this increase. There are also important changes the Registry wants to make to strengthen the Court’s work on the ground in the situation countries.”

OTP asking for another budget increase

Last year, the OTP was heavily criticised for its substantial budget increase, especially in comparison with the decrease of the Registry budget. Chief Prosecutor Fatou Bensouda’s unit is hoping to push through a budget of just over 46 million euros, up from the 2015 budget of 39.6 million euros. “There are a couple of reasons for the Office of the Prosecutor asking for an increased budget. The OTP has for a long time been under-resourced, had a small staff, few investigators, with a growing workload. There has also been a backlog of work”, says Evenson.

According to Evenson, when Bensouda came into office, there was a belief that things needed to be done differently. This meant new strategic choices for the office, choices which still require additional resources.

In the budget document, 70.1 per cent of the OTP’s proposed increase will be devoted to additional activities – meaning one more investigation and an additional trial. But despite this justification from the Court, Evenson believes that the OTP will continue to ask for increases. “The Office of the Prosecutor has been asking for a substantially increased budget over the last three years, and it’s likely that this will not be the last request we see”. [Source]

উপরের চার্টে দেখা যাচ্ছে ২০০৪ সালে বাজেট ৫৬ মিলিয়ন,২০০৫ সালে ৬৬মিলিয়ন, ২০০৬ সালে ৮০মিলিয়ন, ২০০৭ সালে৮৮মিলিয়ন, ২০০৮ সালে ৯০মিলিয়ন, ২০০৯ সালে ১০১মিলিয়ন, ২০১০ সালে ১০৩মিলিয়ন, ২০১১ সালে১০৩মিলিয়ন,২০১২ সালে ১০৮মিলিয়ন,২০১৩ সালে ১১৫মিলিয়ন,২০১৪ সালে ১২১মিলিয়ন,২০১৫ সালে ১৩০মিলিয়ন, ২০০১৬ সালে ১৫৩ মিলিয়ন যা সর্বমোট ১৩১৪ মিলিয়ন। এই ১৩ বছরের বাজেট গড়ে প্রতি বছর দাঁড়ায় ১০১ মিলিয়ন। বাংলাদেশী টাকায় যা ৮১৪৫ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা।

২০১৬ পর্যন্ত বিচারিক এই বাজেটের মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাফল্য কেমন? এটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে-

There have thus far been 23 cases before the Court, with some cases having more than one suspect. ICC judges have issued 29 arrest warrants. Thanks to cooperation from States, 8 persons have been detained in the ICC detention center and have appeared before the Court. 13 persons remain at large. Charges have been dropped against 3 persons due to their deaths. ICC judges have also issued 9 summonses to appear. The judges have issued 6 verdicts: 9 individuals have been fou nd guilty and 1 has been acquitted.  [তথ্য সূত্র]

যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওয়েব সাইটের বাইরেও উইকিপিডিয়ার তথ্য সূত্র থেকে এই আদালতে মোট অভিযুক্ত দের একটি তালিকা দেখতে পাওয়া যায়-

Name S Indicted G H W C Transferred
to the ICC
Current status Ind.
Dominic Ongwen 2 8 July 2005 34 36 21 January 2015 Trial began on 6 December 2016[8][9] [10]
Ali Kushayb 4 27 April 2007 22 28   Fugitive [22]
Ahmed Haroun 4 27 April 2007 20 22   Fugitive [21]
Joseph Kony 2 8 July 2005 12 21   Fugitive [3]
Vincent Otti 2 8 July 2005 11 21   Fugitive; reported to have died on 2 October 2007[11] [12]
Abdel Rahim Hussein 4 1 March 2012 7 6   Fugitive [62]
Bosco Ntaganda[A] 1 22 August 2006 5 13 22 March 2013 Trial began on 2 September 2015[18][19] [20]
Callixte Mbarushimana 1 28 September 2010 5 6 25 January 2011 Charges dismissed on 16 December 2011 (released on 23 December 2011)[42] [43]
Mohammed Ali 5 8 March 2011 5 Summoned Charges dismissed on 23 January 2012[44] [45]
Uhuru Kenyatta 5 8 March 2011 5 Summoned Charges withdrawn on 13 March 2015[46] [45]
Francis Muthaura 5 8 March 2011 5 Summoned Charges withdrawn on 18 March 2013[49] [45]
Germain Katanga[B] 1 2 July 2007 4 9 17 October 2007 Completed commuted sentence on 18 January 2016[23][24] [25]
Mathieu Ngudjolo Chui 1 6 July 2007 4 9 6 February 2008 Acquitted on 18 December 2012 (released on 21 December 2012)[26][27][28] [25]
Laurent Gbagbo 7 23 November 2011 4 30 November 2011 Trial began on 28 January 2016[57] [58]
Charles Blé Goudé 7 21 December 2011 4 23 March 2014 Trial began on 28 January 2016[57] [59]
Simone Gbagbo 7 29 February 2012 4   Arrested on 11 April 2011 in Côte d’Ivoire[60] [61]
Okot Odhiambo 2 8 July 2005 3 7   Died on 27 October 2013; proceedings terminated on 10 September 2015[6] [7]
Jean-Pierre Bemba[C] 3 23 May 2008 3 5 43 3 July 2008 Appealing sentence of 18 years’ imprisonment[31] [32]
Henry Kosgey 5 8 March 2011 3 Summoned Charges dismissed on 23 January 2012[47] [48]
William Ruto 5 8 March 2011 3 Summoned Charges dismissed on 5 April 2015[50] [48]
Joshua Sang 5 8 March 2011 3 Summoned Charges dismissed on 5 April 2015[50] [48]
Muammar Gaddafi 6 27 June 2011 2   Died on 20 October 2011; proceedings terminated on 22 November 2011[51] [52]
Saif al-Islam Gaddafi 6 27 June 2011 2   Arrested on 19 November 2011 in Libya[53] [54]
Abdullah Senussi 6 27 June 2011 2   Case declared inadmissible on 11 October 2013[55] [56]
Raska Lukwiya 2 8 July 2005 1 3   Died on 12 August 2006; proceedings terminated on 11 July 2007[4] [5]
Thomas Lubanga Dyilo 1 10 February 2006 3 17 March 2006 Serving sentence of 14 years’ imprisonment in the DRC[13][14][15] [16]
Bahr Abu Garda 4 7 May 2009 3 Summoned Charges dismissed on 8 February 2010[35] [36]
Abdallah Banda 4 27 August 2009 3 Summoned Fugitive; case in pre-trial stage[37][38] [39]
Saleh Jerbo 4 27 August 2009 3 Summoned Died on 19 April 2013; proceedings terminated on 4 October 2013[40] [41]
Sylvestre Mudacumura 1 13 July 2012 9   Fugitive [63]
Walter Barasa 5 2 August 2013 3   Fugitive [64]
Narcisse Arido 3 20 November 2013 43 18 March 2014 Appealing sentence of 11 months’ imprisonment (provisionally released on 23 October 2014)[29][65] [30]
Fidèle Babala 3 20 November 2013 42 25 November 2013 Appealing sentence of 6 months’ imprisonment (provisionally released on 23 October 2014)[29][65] [30]
Aimé Kilolo 3 20 November 2013 43 25 November 2013 Appealing sentence of 2 years and six months’ imprisonment and €30,000 fine (provisionally released on 23 October 2014)[29][65] [30]
Jean-Jacques Mangenda 3 20 November 2013 43 4 December 2013 Appealing sentence of 2 years’ imprisonment (provisionally released on 31 October 2014)[29][66] [30]
Philip Bett 5 10 March 2015 4   Arrested on 30 July 2015 in Kenya[67] [68]
Paul Gicheru 5 10 March 2015 6   Arrested on 30 July 2015 in Kenya[67] [68]
Ahmad al-Mahdi 8 18 September 2015 1 26 September 2015 Serving sentence of 9 years’ imprisonment[69][70][71] [72]
Omar al-Bashir[D] 4 4 March 2009 3 5 2   Fugitive [34

ICC-infographic-v5এদিকে ২০১২ সালে Forbes এর একটা রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে-

after 12 years of the Court’s operation and over $1 billion in expenditures.  Rarer still was the insight that even this conviction, on a 2-1 vote, was long in coming and disappointing in outcome since the criminal was acquitted of the most serious charges, and was only convicted at all because of a mid-course correction to charge him with being merely an accessory to the crimes. The obvious question few seem to be asking is whether the I.C.C. is simply too expensive and inefficient to justify.  Originally designed to make certain that war crimes, genocide and crimes against humanity were not ignored, the Court is supposed to achieve a sufficiently robust presence that it contributes “to the prevention of such crime.”  To that end, it has 34 judges, over 700 staff, and an annual budget of $166 million.  They say you can’t put a price on justice but $500 million per warlord conviction seems high by any standard.  And what do 34 judges do all day?  You don’t have to be a legal expert to figure that the preventive effect of convicting 2 warlords in 12 years doesn’t exactly leave international war criminals shaking in their boots.

উপসংহারঃ

HALL OF JUSTICE FINAL

উপরের আলোচনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রেক্ষিতে আমি তিনটি ট্রাইবুনালের বাজেট ও সেগুলোর খরচ আলোকপাত করেছি। একই সাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বাজেট সম্পর্কেও কিছুটা আলোকপাত করা হয়েছে। লেখা দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে এবং পাঠকের ধৈর্য্যচুতি ঘটবে ভেবে এই জাতীয় আন্তর্জাতিক অন্যান্য আদালতের আরেকটুকু হিসেব আমি এই লেখায় না দিলেও সামনে প্রকাশিতব্য আমার বইয়ে এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত থাকবে বলে আমি আশা রাখি।

উপরের আলোচনায় আমি চেষ্টা করেছি বাংলাদেশে চলমান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বাজেটের ও ট্রাইবুনালের খরচের একটা চিত্র পাঠকদের সামনে দাঁড় করাবার জন্য। জানিনা কতদূর পেরেছি তবে আমার কাছে থাকা তথ্য থেকে আমি যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি এই ট্রাইবুনালের সবগুলো অংশের খরচের একটি চিত্র সঠিকভাবে সকলের সামনে তুলে ধরতে। একইভাবে আমি চেষ্টা করেছি বিশ্বের অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বাজেট ও তাদের খরচের একটা তুলনামূলক চিত্র পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে।

আপনারা যারা এই লেখাটি এতক্ষন মন দিয়ে পড়েছেন আপনারা নিশ্চই একটি ব্যাপার ধরতে পেরেছেন যে বাংলাদেশে চলমান বিচারিক ক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ বিশ্বের অন্যান্য আদালতের থেকে ঠিক কতটা কম। খরচের এই তারতম্য এতটাই বেশী যে আসলে পুরো ব্যাপারটা বিষ্মিত করে দেবার মতন।

পৃথিবীর যেসব দেশেই জাতিসঙ্ঘের তত্বাবধানে বিচার হয়েছে কিংবা জাতি সঙ্ঘের অবদান ছিলো সেসব প্রত্যেকটি বিচারিক ক্ষেত্রে খরচের ব্যাপারটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এইসব বিচারের অনেকটা অংশ জুড়েই থাকে পলিটিকাল নানাবিধ উদ্দেশ্য, কন্ট্রিবিউটর দেশ গুলোর নানাবিধ চাহিদা ইত্যাদি। রাজনৈতিক নানাবিধ মেরুকরনের ফলাফলও জাতিসঙ্ঘের অধীনে বিচারগুলোর একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভৌগলিক রাজনীতি, বুর্জোয়া রাষ্ট্রগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসেব নিকেশ এসব প্রত্যেকটির সাথে অঙ্গাওঙ্গিভাবে জড়িত। উদাহরন স্বরূপ আমরা ব্লতে পারি ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের বিচার, লেবাননের প্রেসিডেন্ট পূত্র সাইফ-আল-হাসানের বিচার, চার্লস টেইলরের বিচার ইত্যাদি। সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশারের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে পশিচমারা সরব হয়েছে। হয়ত অদূর ভবিষ্যতে আরেকটি বিচার পশ্চিমাদের হাত ধরে আমরা দেখতে পাব।

এইজাতীয় বিচারের মালিকানা কোনো এক অদ্ভুত কারনে সব সময় পশ্চিমারা নিজেদের হাতে রাখতে চায়। এদের একটা বড় অংশ এই জাতীয় বিচারকে কেন্দ্র করে একটা বড় লবিং জোট তথা রাজনৈতিক মাফিয়া চক্র সারা পৃথিবীতে গড়ে তুলেছে। এদের সাথে সংযুক্ত রয়েছে বড় বড় মিডিয়ার মালিক, ব্যবসায়ী ইত্যাদি।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আদালতের ক্ষেত্রেও এই মাফিয়াদের একটা বড় অংশ ছিলো সরব। অভিযুক্তদের রাজনৈতিক দল বা বন্ধু রাষ্ট্রের একটা বড় নড়-চড় তো ছিলোই কিন্তু তারচেয়ে বেশী ছিলো এই বিচারকে কেন্দ্র করে একটা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক খেলা শুরু করা, কিছু বেনিয়াদের অর্থের সংস্থান করা আর আমাদের আমাদের ১৯৭১ সালের গণহত্যার ইতিহাস পালটে দেবার একটা চেষ্টা। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তো বটেই এইছাড়াও দেশের বুদ্ধিজীবি, অভিযুক্তদের সহযোগী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও ছিলো নানাবিধ অসৎ উদ্দেশ্য। একটা স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, যেই রাষ্ট্রের নিজেদের শক্তিশালী উচ্চ আদালত কেন্দ্রিক বিচার ব্যবস্থা রয়েছে, অভিজ্ঞ বিচারপতি, আইনজীবি, অবকাঠামো রয়েছে সেই দেশকে যখন চাপ দেয়া হয় একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে বিচারের জন্য তখন স্বাভাবিক ভাবেই সেসব পরামর্শদাতাদের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠবেই। এইসব পরামর্শ দাতারা কখনোই খুব সম্ভবত ভেবে দেখেনি বিচারিক খরচ, সাক্ষী পরিবহন, আদালতের বিশাল খরচ, অবকাঠামো কিংবা বৈশ্বিক রাজনীতির নানাবিধ গলি আর ঘুপচির কথা।

এই যে সারা বিশ্বেই জাতিসঙ্ঘের অধীনে এই জাতীয় বিচার হয়েছে আজ পর্যন্ত সেগুলোর একটিও কি শেষ পর্যন্ত সমালোচনা ছাড়া ছিলো? এইসব বিচারের ক্ষেত্রে বিচারক, আইনজীবি, সাক্ষী, বিচারের আইন, পলিটিকাল হস্তক্ষেপ, অর্থের সংস্থান, বিচারের আইন প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ও তীব্র সমালোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশে সংঘটিত এমন বর্বর গণহত্যার বিচার বাংলাদেশে হবে, বাংলাদেশের আইনেই হবে এটিই হচ্ছে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র রাষ্ট্র যারা এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হবার ৪০ বছর পরে বিচার শুরু করেছে এবং এত কম খরচে ও এত দ্রুত সময়ের ভেতর এতগুলো অভিযুক্তের বিচার সম্পন্ন করতে পেরেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এখনও চলমান এবং সামনের দিনগুলোতে এই ট্রাইবুনাল আরো সাফল্যের মুখ দেখবে এবং আন্তর্জাতিক ভাবে একটি অনন্য বিচারের উদাহরন হিসেবে সারা বিশ্বে পরিগণিত হবে এতে আমার অন্তত কোনো সন্দেহ নেই।

Facebook Comments

Comments

comments

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY