আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের থিওরেটিকাল কাঠামো ও বাংলাদেশের ট্রাইবুনালঃ আইনী পর্যবেক্ষণ

0
179
২০১০ সালের ২৫ শে মার্চ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সূচনা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী ও তাদের দোসরদের মাধ্যমে সংগঠিত নানাবিধ আন্তর্জাতিক অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের লক্ষ্যেই এই ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। ১৯৭২ সালের দালাল আইনের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিচার যদিও সে সময়ে আশার আলো দেখিয়েছিলো কিন্তু ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে সেই বিচার বন্ধ করবার মধ্য দিয়ে এই বাংলাদেশ বিচারহীনতার দীর্ঘ ৩৯ বছর বিচারহীনতার এক কালো অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে হেঁটে গেছে। এর ফলে বিচার প্রার্থী আর অপরাধীদের একই দেশে সহঅবস্থান নিশ্চিত হয়েছিলো এবং রাষ্ট্র তার জন্মের সূচনালগ্নেই বিচারপ্রার্থীদের উপর অন্যায়ের সূচনা করেছিলো এবং সেটি প্রকারন্তরে রাষ্ট্রের উপর অবিশ্বাস জন্মাবার সূচনা করে। কিন্তু ২০১০ সালে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এই জন্মানো হতাশার মধ্যে এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে পুনঃর্জন্ম দান করেছে। বিচারহীনতার লজ্জার একটা সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পথে ছুটে চলেছে এর চাইতে এত বড় আনন্দের আর কিছু নেই সম্ভবত।
পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচার করবার পুরো প্রক্রিয়া, রাষ্ট্রের সদিচ্ছা, প্রসিজিওর, বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে নির্মূল করবার পদক্ষেপ এসব সব কিছু মিলিয়েই এই ট্রাইবুনাল, এই আদালত, এই আইন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন নিয়ে যারা পড়েন, গবেষনা করেন, আগ্রহী তাঁদের সকলের জন্যই বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচার সব সময়ের জন্য ন্যায়বিচারের প্রশ্নে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যদিও এই ধরনের অপরাধের বিচার করবার জন্য একটা গ্লোবাল কনসেনশাস তৈরী হয়েছিলো কিন্তু তার পরবর্তী সময়ে এই ধরনের বিচার করবার জন্য অন্যান্য দেশে এই বিষয়ক আইন প্রণয়নের খুব বেশী সদিচ্ছা বা ভূমিকা তেমন আসলে দেখা যায়নি। যদিও ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে যুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার মূলত ১৪৭৪ সালেই রোমান এম্পায়ার এর সময়েই একটা এড-হক বেইজড ট্রাইবুনালে শুরু হয় পিটার ভন হেইজেনব্যাচ এর বিচারের মাধ্যমে। এরপর ১৬৫৪ সালে একই অপরাধে ইংল্যান্ডের চেশায়ারে মেজর কনট কে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর, ১৮৬৫ সালে আমেরিকার জর্জিয়ার এন্ডারসনভাইল প্রিজনে হেনরী উইরজ্‌ এর বিচার, জার্মানীর লিপজিগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কালীন অপরাধের বিচার ইত্যাদি। এভাবে কালের পরিক্রমায় হেগ কনভেশন এর উদ্ভব, তারপর জেনেভা কনভেনশন, নুরেম্বার্গ ও টোকিও ট্রাইবুনাল সংবিধি-১৯৪৬, বৃটেন কর্তৃক গৃহীত জেনেভা কনভেনশন এক্ট ১৯৫৭ ইত্যাদি।
এসব সব কিছুর ধারাবাহিকতায় আমরা পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে নানাবিধ আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দেখেছি নুরেমবার্গ ট্রাইবুনাল, টোকিও ট্রাইবুনাল, ইয়াগোস্লোভিয়া ট্রাইবুনাল, এড হক ভিত্তিতে রুয়ান্ডা ট্রাইবুনাল, সিয়েরা লিওন, ন্যাশনাল ও ইউ এন সমন্বিত ক্যাম্বোডিয়া ট্রাইবুনাল সহ নানাবিধ অন্যান্য ট্রাইবুনাল। এমনকি যুদ্ধকালীন সময়ের নৃশংসতা, বর্বরতা ইত্যাদির প্রেক্ষিতে একটি গ্লোবাল হারমোনাইজড আইনেরও প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় তীব্র ভাবে। সেই প্রেক্ষিতেই নেদারল্যান্ডের হেগে স্থাপিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। এই আদালতের যে বিধি রয়েছে সেটি রোম সংবিধি বলে পরিচিত। যদিও এই সংবিধি ১৯৯৮ সালে প্রণীত হলেও এর কার্যপ্রকরণ শুরু হয় ২০০১২ সালে। এই বিধিতে রেট্রোস্পেকটিভ আইনকে রেকোগনাইজ করা হয়নি এবং সে অনুযায়ী উক্ত কোর্ট ২০০২ সালের আগে সংঘঠিত কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এই আদালতে করতে পারেনা। এটি আস্নতর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি বড় শূন্যতা বলেই বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করবার জন্য যদিও পশ্চিমে অনেক আগে থেকেই একটা কনসেনশাস আস্তে আস্তে বাড়ছিলো কিন্তু আগেই বলেছি অনেক দেশ এই ধরনের বিচারকে রাজনৈতিক ভাবে দেখত কিংবা অনেক দেশ নিজেই এই জাতীয় অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত থাকবার কারনে কখনোই এই আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ধারনাকে প্রমোট করেনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঠিক পর পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন করা হয়। পশ্চিমেই যেখানে এত আগে এই জাতীয় আইন নিজস্ব জুডিশিয়ারী সিস্টেমে অন্তর্ভূক্ত-ই করা হয়নি সেখানে সেই সময়েই এই জাতীয় একটা আইন পুরো পৃথিবীর কাছেই আসলে বিষ্ময়ের ছিলো। যদিও আমাদের সংবিধানের ৩৫(১) এর অনুচ্ছেদে রেট্রোসপেকটিভ আইনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ রয়েছে ত্যথাপিও সংবিধান মূলত যে মুক্তিযুদ্ধকালীন একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে উদ্ভব এবং যেই ন্যায় বিচারের কথা সংবিধানের শুরুতেই বর্ণিত রয়েছে সেই ন্যায় বিচার এর স্বার্থেই বাংলাদেশ সরকার পরবর্তীতে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৪৭(৩) ও ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ যুক্ত করে এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন যে আন্তর্জাতিক অপরাধ এই দেশের সাধারণ মানুষদের উপর হয়েছে সেটির বিচার করবার জন্য পথ সুগম হয় এবং ন্যায়বিচার স্থাপনের যে সদিচ্ছা রাষ্ট্রের রয়েছে সেটির ব্যাপারে একটা সু-স্পস্ট ও সু-নির্দিষ্ট ধারনা পাওয়া যায়।
প্রথম সংশোধনীতে যে ৪৭(৩) এবং ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয় সে দুইটি অনুচ্ছেদ নীচে বুঝবার সুবিধার্থে তুলে দিচ্ছি-
সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে যে-

“এই সংবিধান যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দন্ডদান করিবার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস্য বা তাহার পরিপন্থী, এই কারনে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া হবে গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।”

আবার সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭(ক) তে বলা হচ্ছে যে-

১) যে ব্যাক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় বর্ণিত কোন আইন প্রযোজ্য হয়,সেই ব্যাক্তির ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ, ৩৫ অনুচ্ছেদের (১) ও (৩) দফা এবং ৪৪ অনুচ্ছেদেরঅধীনে নিশ্চয়কৃত অধিকারসমূহ প্রযোজ্য হইবে না ।

যাই হোক, উপরের আলোচনা করবার মূল উদ্দেশ্য ছিলো দুটি জিনিস ব্যখ্যা করবার। একটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিষয়ে গ্লোবালি যে স্টেপস গুলো নেয়া হয়েছে বা এটির ধারনার যে ক্রম বিবর্তন সেটি আলোচনা করা আর দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ রাষ্ট্র ন্যায় বিচারের স্বার্থে এই ধরনের অপরাধের বিচার করবার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাদের সংবিধান সংশোধন কিংবা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেটি তুলে ধরা। এই তুলে ধরবার পেছনেও কিছু কারন রয়েছে। এই কারন গুলোর মধ্য একটি তো ইতিমধ্যেই বলেছি যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করন আর আরেকটি কারন হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দায় বদ্ধতা। আপনারা অনেকেই জেনে থাকবেন যে বাংলাদেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ট্রিটি’র সিগ্নেটোরী দেশ। এই পার্টিকুলার বিষয়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-২ এই বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম রায়ে, The Chief Prosecutor Vs Abul Kalam Azad মামলার ১৫ এবং ১৬ অনুচ্ছেদে এই বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন। আদালত বলেছিলো-
15. Bangladesh Government is a signatory to and has ratified the ICCPR, along with its Optional Protocol. It is necessary to state that the provisions of the ICTA 1973 [(International Crimes (Tribunals) Act, 1973] and the Rules framed there under offer adequate compatibility with the rights of the accused enshrined under Article 14 of the ICCPR. The 1973 Act of Bangladesh has the merit and mechanism of ensuring the standard of safeguards needed universally to be provided to theperson accused of crimes against humanity.
 
16. As state party of UDHR and Geneva Convention Bangladesh cannot evade obligation to ensure and provide justice to victims of those offences and their relatives who still suffer the pains sustained by the victims and as such an ‘executive act’ (tripartite agreement) can no way derogate this internationally recognized obligation. Thus, any agreement or treaty if seems to be conflicting and derogatory to “jus cogens” (compelling laws) norms does not create any hurdle to internationally recognized state obligation.
Jus Cogens এবং Obligatio Erga Omnes থিওরী
এটি এই ক্ষেত্রে পরিষ্কার যে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে যে সকল আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘঠিত হয়েছিলো সেগুলোর বিচার করা আন্তর্জাতিক ভাবে বিভিন্ন চুক্তি কিংবা মানবাধিকার রক্ষাকল্পের সিগ্নেটোরী রাষ্ট্র হিসেবে শুধু বাংলাদেশের দায়-ই কেবল নয় বরং বাধ্যতামূলক ভাবে এই বিচার করাটা বাংলাদেশের দায়িত্ব। এটি আন্তর্জাতিক ভাবে এখন মোটামুটি ভাবে স্বীকৃত যে আন্তর্জাতিক যে সকল অপরাধ রয়েছে তথা যে অপরাধগুলোকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের অধীনস্থ করা হয়েছে সেসব অপরাধ “Jus Cogens” [জাস কোজেন্স শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বাধ্যকারী আইন] থিওরীতে বিবেচ্য হবে সুতরাং এই বিবেচনা অনুযায়ী এইসব অপরাধের বিচার করাটা একটি রাষ্ট্রের জন্য অনেক বড় দায়।
অনেক উৎসের মাঝে ১৯৯৩ সালে সাবেক ইয়াগোস্লাভিয়ায় যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল এবং রুয়ান্ডায় গণহত্যা বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল গঠনকল্পে প্রণীত বিধিবদ্ধ আইনের নাম করা যেতে পারে। এই অপরাধগুলো যে “জাস কোজেন্স” এর-ই অংশ সে সিদ্ধান্তে উপনীত হবার জন্য যথেষ্ঠ আইনি ভিত্তি বিদ্যমান রয়েছে ।
এই আইনী ভিত্তি চারটি কারণে প্রমাণিত হতে পারে-
১) International Opinio Juris (এই অপরাধগুলো সাধারণ প্রথাগত আইনের অংশ তার স্বীকৃতির ই প্রতিফলন )
২) এই অপরাধ সঙক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি
৩) যেসব কনভেনশন উল্লেখযোগ্য সঙ্খ্যক দেশ দ্বারা সমর্থিত হয়েছে
৪) যে সমস্ত অপরাধের দায়ে দোষী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত ও মামলা গুলো ব্যাপক ভাবে সমর্থিত হয়েছে ।
এই জাস কোজেন্স থিওরীর সাথে আরেকটি থিওরী এখানে আলোচনার দাবী রাখে। যেটিকে বলা হয় “অবলেগেটিও এরগা ওমনেস” [Obligatio Erga Omnes] যার সরল মানে দাঁড়ায় অবশ্য পালনীয়। সুতরাং আন্তর্জাতিক অপরাধ গুলোর ক্ষেত্রে এই জাস কোজেন্স আর এরগা ওমনেস দু’টি প্রিন্সিপাল আসলে খুব সহজেই বলে দেয় এইসকল অপরাধের বিচার করবার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কতটুকু দায় রয়েছে সেটি। শুধু যে এইসব আলোচ্য থিওরীকে কেন্দ্র করে যে কেবল দায় বর্তায় তাও কিন্তু নয়। একটি সভ্য রাষ্ট্র অপরাধ হলে বিচার করবে এটাই স্বাভাবিক এবং সেটা হওয়াও বাঞ্ছনীয়। এটিকে ছাপিয়েও রয়েছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা যেটি আমাদের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ পড়লেই সহজে বোধগম্য হবে।
এই ২৫ অনুচ্ছেদেই কিন্তু বলা রয়েছে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসঙ্ঘের নীতিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা তথা পালনের কথা। আর আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনাতে সামাজিক সুবিচার, আইনের শাষন, মৌলিক মানবাধিকারের কথা বলা রয়েছে আর এই নিয়ামকগুলো তখনই ব্যার্থ হবে যখন একাত্তরের ভিকটিমেরা সুবিচার পাবেন না। সুতরাং এই বিচার করবার জন্য রাষ্ট্র জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়, সকল ক্ষেত্রেই বাধ্য।
উপরে আগেই একটি দীর্ঘ আলোচনা করেছি যে দুইজন অভিযুক্তকে কখন একটি একক ট্রাইবুনালে এবং কখন তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার করা যাবে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল উদাহরনও আমি উপরে দিয়েছি। এই আইনে বিচার করবার বাধ্যবাধকতা কিংবা এই বিচারের একটি ক্রমবিকাশও উপরে আলোচনার প্রেক্ষিতে বিশদ ভাবে আলোচিত হয়েছে।
এখন আসলে এই মামলার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো দেখা দরকার সেগুলো হচ্ছে এই মামলায় বিচারিক বিভিন্ন ধরন, বিবেচনা, সাক্ষ্য, উভয় পক্ষের যুক্তি এবং সেটির প্রেক্ষিতে আদালতের বক্তব্য, এসব বিষয়গুলো কি করে তুলে ধরা হয়েছে। এই উল্লেখিত বিষয়াদির পরপরই আসলে আলোচনা করা হবে এই পুরো মামলাটিতে অভিযুক্তকে তার পাপ্য সকল সুযোগ সুবিধা কতটা এক্সটেন্টে দেয়া হয়েছে কিংবা ভিকটিম পরিবার বা অভিযুক্ত যদি বিচার থেকে প্রাপ্য ফলাফলে তুষ্ট না হন তবে তাদের সেই অসুন্তষ্টিতে আইন কতটা সমান অধিকার দিতে পেরেছে বা পারে। মোদ্দা কথা ফেয়ার ট্রায়াল নামে যে ধারনাটুকু রয়েছে সেটির প্রতিফলন কতটুকু রয়েছে এই পুরো বিচারিক প্রক্রিয়ায় এটাই আসলে এই অংশে মূল বিবেচ্য।
আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারকেন্দ্রিক মূল আইনী কাঠামো, কন্টেন্ট বিবেচনা এবং ট্রাইবুনালের রায়ে তার প্রয়োগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তথা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ক্ষেত্রে একটি অপরাধকে সঠিকভাবে প্রমাণ করবার মূল ভিত্তিগুলো কি, সে ব্যাপার গুলো এই অংশে সংক্ষিপ্ত ভাবে আলোচনা করা যেতে পারে। এই আলোচনার প্রেক্ষিতে মূলত আমাদের এটাও দেখতে হবে যে বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ঠিক কোন এপ্রোচ অনুসরন করেছেন তথা তাঁদের সিদ্ধান্ত নেবার প্যাটার্নটি আসলে কেমন বা সেটি কি।
এই পর্যালোচনা করবার জন্য আমরা একাত্তরের দুইজন ঘাতক, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবি হত্যায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত চৌধুরী মইনুদ্দিন এবং আশরাফুজ্জামান খানের রায়টি বিবেচনা করতে পারি। তাহলে দেখা যাক এই ভিষয়ক আদালতের বিবেচনার কাঠামোগুলোর প্রকৃতি-
সাবজেকটিভ [ আইনত দন্ডনীয় অপরাধমূলক কাজটি সংগঠিত করা] এলিমেন্ট এবং অবজেকটিভ [ ঐ অপরাধ সংগঠনের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক উপাদান] এলিমেন্ট অফ আ ক্রাইমঃ
পৃথিবীর যে কোনো দেশেই একটি অপরাধ মামলা আদালতে নিষ্পত্তি ক্ষেত্রে ঐ অপরাধ কেন্দ্রিক দুইটি জিনিস বিবেচিত হয়। প্রথমত একটি কাজ [Act] যেটা আইনত নিষিদ্ধ কিংবা অমিশন [omission, যদি অভিযুক্তের সাথে ভিকটিমের প্রি এক্সিস্টিং আইনী লায়াবিলিটি থেকে থাকে,যেমন একজন চিকিৎসকের সাথে তার রোগীর সম্পর্ক, আগের থেকেই ভিক্টিমের সাথে পরিচিত, আত্নীয় ইত্যাদি] এবং এই কাজ করতে গিয়ে তার মেন্টাল এলিমেন্ট কিংবা ওই কাজ করবার তার যে ইচ্ছা সেটি। যাকে [Mens reus] “মেন্স রিয়া” বলে অভিহিত করা যায়। ল্যাটিন ভাষায় একটি কথা আছে সেটি হচ্ছে- actus reus non facit reum nisi mens sit rea, which means “the act is not culpable unless the mind is guilty”.
যদিও আবার এই “মেন্স রিয়া” আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ক্ষেত্রে একটু ভিন্নভাবে দেখা হয়। এখানে মেন্টাল স্টেটগুলোতে বিবেচনা করা হয় ঘটনার সারকমাস্টেন্স, কন্সিকোয়েন্সেস এবং এই উক্ত দুইটি ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি অপরাধের জন্য আলাদা আলাদা মেন্স রিয়ার এনালাইসিস বিবেচ্য হয় একদম স্বকীয় ভাবে। আবার এমনও হতে পারে যে একটি অপরাধের ক্ষেত্রে একাধিক মেন্টাল এলিমেন্ট সামনে এসে যেতে পারে এবং সে কারনেই ICC সংবিধিতে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে এর অনুচ্ছেদ ৩০-এ “মেন্টাল এনালাইসিস এপ্রোচ” এর কথা বলা রয়েছে। সংবিধি ৩০ শে বলা হচ্ছে যে-
Article 30: Mental element
 
1. Unless otherwise provided, a person shall be criminally responsible and liable for punishment for a crime within the jurisdiction of the Court only if the material elements are committed with intent and knowledge.
 
2. For the purposes of this article, a person has intent where:
(a) In relation to conduct, that person means to engage in the conduct;
(b) In relation to a consequence, that person means to cause that consequence or is aware that it will occur in the ordinary course of events.
 
3. For the purposes of this article, ‘knowledge’ means awareness that a circumstance exists or a consequence will occur in the ordinary course of events. ‘Know’ and ‘knowingly’ shall be construed accordingly.
মেন্স রিয়ার প্রমাণের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে volitional & Cognative এই দুইটি ধারনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে একটি আরেকটির সাথে পরিপূরক হিসেবে দেখা হয়। যেমন ভলিশনাল উপকরনটির ক্ষেত্রে দেখা হয় অপরাধের ইচ্ছা এবং সেটির লক্ষ্যে পৌঁছাবার বাসনা এবং কোগ্নেটিভ উপকরনের ক্ষেত্রে দেখা হয় যে পদ্ধতিতে অভিযুক্ত তার ইচ্ছা কিংবা বাসনা চরিতার্থ করতে চাচ্ছে সেটির ক্ষেত্রে তার জ্ঞান কতটুকু। এই দুইটি উপাদান একত্রে না দেখা হলে আসলে এই মেন্টাল এলিমেন্টকে প্রমাণ করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়।
যদিও ICTY, ICTR ট্রায়াল গুলোর ক্ষেত্রে Offence Approach প্রিন্সিপাল প্রয়োগ করা হয়েছে যেখানে একটি অপরাধের ক্ষেত্রে মানসিক উপাদানগুলোকে প্রতিটি উপাদানের জন্য আলাদা আলাদা বিবেচনা না করে জেনারেল টার্মে সঙ্গায়িত করা হয়েছে। যেমন ইন্টেন্ট, রেক্লেসনেস, নেগলিজেন্স, স্পেশাল ইন্টেন্ট কিংবা দুটো একসাথে বা সবগুলো একসাথে বা তিনটি একসাথে।
উপরের এই আলোচনার প্রেক্ষিতে এখন আমাদের দেখতে হবে যে আলোচ্য দুই অভিযুক্তকে যে অপরাধে অভিযুক্ত করেছে সেগুলো মূলত International Crimes [Tribunals] Act-1973 এর কোন অপরাধের ভেতর পড়ছে কিংবা বিজ্ঞ প্রসিকিউটর আইনের কোন সুনির্দিষ্ট ধারায় এই দুই অভিযুক্তের অভিযোগগুলোকে বিন্যাস্ত করেছেন। Chief Prosecutor v Ashrafuzzaman Khan & Chowdhury Mueen Uddin মামলার রায়ের ২০ নং পরিচ্ছদে আমরা দেখতে পাই যে এই সুনির্দিষ্ট আইনী ধারা গুলো হচ্ছে ঐ উক্ত আইনের Section 3(2) (a) (b)(g)(h) ধারায়। যার মানে গিয়ে দাঁড়ায় যে ঐ দুই অপরাধীর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ গুলোর আইনী ধারা পড়েছে-
a) Crimes against Huminity
b) Crimes Against Peace
g) Attempt, abetment or conspiracy to commit any such crimes
h) Complicity in or failure to prevent commission of any such crimes
এই উপরে বর্ণিত অপরাধের বিস্তারিত একটু দেখে নেওয়া যাক-
(a) Crimes against Humanity: namely, murder, extermination,enslavement, deportation, imprisonment, abduction, confinement,torture, rape or other inhumane acts committed against any civilian population or persecutions on political, racial, ethnic or religious grounds, whether or not in violation of the domestic law of thecountry where perpetrated;
(b) Crimes against Peace: namely, planning, preparation, initiation or waging of a war of aggression or a war in violation of international treaties, agreements or assurances;
(g) Attempt, abetment or conspiracy to commit any such crimes;
(h) Complicity in or failure to prevent commission of any such crimes.
ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ ইয়াগোস্লোভাকিয়া [ICTY]-এর মধ্যেই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের এই ধারনাকে বেশ বৃহৎ পরিসরে বিশ্লেষিত ও সংজ্ঞায়িত করা হয়। এই আদালতের সংবিধির ৫ নাম্বার অনুচ্ছেদে উক্ত অপরাধ হতে হলে কি কি উপাদান লাগবে তার একটা ধারনা ঐ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদালত ৫ টি উপাদানের কথা বলেন যেগুলো হলো-
1. The existence of an overarching attack
2. the perpetrator’s conduct must be part of the attack
3. The attack must be directed against any civilian population
4.the attack must be widespread and systematic
5.The perpetrator must know of the wider context in which his conduct occurs and as a result must be aware that his conduct constitutes part of the attack.
উপরে আলোচ্য এই রকম একটা আইনী অবস্থান ও প্রয়োজনীয় উপাদানের প্রেক্ষিতে আলোচ্য মইনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামানের মামলায় ট্রাইবুনাল-২ আদালত রায়ের ৫৯ নাম্বার পরিচ্ছদে কিছু স্পস্ট দিক নির্দেশনা দেন। যেখানে আদালত বলেন-
59. In resolving the issue of culpability of the accused persons with the commission of offence alleged the relevant facts, considering the nature and pattern of crimes alleged, need to be adjudicated are
 
(i) Which organisation or group was involved in perpetration of the crimes alleged
 
(ii) had the accused persons affiliation with the perpetrator group or organisation? If it is so, in what capacity? 
 
(iii) Was the mission of killing executed in furtherance of ‘common plan and design’? 
 
(iv) Were the accused persons part of such common plan and design? 
 
(v) Mode of participation of the accused in accomplishing the planned crimes 
 
(vi) Was the killing of intellectuals an outcome of planned and calculated large scale killing?
তার মানে দাঁড়াচ্ছে আদালত এই মামলার ক্ষেত্রে প্রথমেই নির্ধারণ করতে চেয়েছে-

[১] যে দল বা সংগঠন এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে সেটিকে, [২] তারপর আদালত দেখতে চেয়েছে এই সংগঠনের সাথে অভিযুক্তি ব্যাক্তি কতটুকু জড়িত ছিলেন কিংবা আদৌ ছিলেন কিনা,[৩] এই হত্যাকান্ডের পুরো মিশনটি একটি কমন প্ল্যান ও ডিজাইনের অংশ হিসেবে ছিলো কিনা [৪] ঐ অভিযুক্তরা এই কমন প্ল্যান ও ডিজাইন অংশের সাথে জড়িত ছিলো কি না [৫] জড়িত থেকে থাকলে এই পরিকল্পিত ও সু বিন্যাস্ত কার্য সমাধা করবার পুরো প্রক্রিয়াটা কি ছিলো [৬] বুদ্ধিজীবিদের হত্যাকান্ড কি পূর্ব পরিকল্পিত লার্জ স্কেলে যে হত্যাকান্ডের ম্যাপ সেটারই ফলাফল?

আদালত এই মামলার ক্ষেত্রে এভাবেই সাবজেকটিভ ও অবজেকটিভ এলিমেন্টগুলোকে বিন্যাস্ত করে সেগুলোর উত্তর খুঁজতে কিংবা প্রমাণ পেতে চেয়েছেন অভিযোগকারী প্রদত্ত সকল সাক্ষ্য, তথ্য, উপাত্ত সাপেক্ষে কিংবা বিবাদীর প্রদত্ত পালটা যুক্তি ও প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে আদালত প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের প্রয়াস পেয়েছেন। এই প্রদত্ত রায়ের ৩৭৭ থেকে ৩৮৮ এবং ৪০৪ থেকে ৪০৭ পরিচ্ছদেও এই উপরের আলোচ্য এলিমেন্টগুলোর ব্যাপারে ব্যাপারে একটা দিক নির্দেশনা দেন। আদালত বলেন-

377. The offence of crimes against humanity is a system crime and committed by collectivity of criminal acts of group of perpetrators and persons concerned with the commission of crimes. On adjudication of the events under charge nos. 6 and 7 we have already found the accused persons guilty for the offence of ‘extermination’ as crimes against humanity as they were concerned with the common plan and design and also participated to the commission of the offences.

378. The Tribunal notes that to incur criminal liability, in a case of crimes against humanity, the accused himself need not have participated in all aspects of the alleged criminal conduct. [ Stakic, ICTY Trial Chamber, July 31, 2003, para. 439]. The actus reus of aiding and abetting a crime may occur before, during, or after the principal crime has been perpetrated [Blaskic, ICTY Appeals Chamber, July 29, 2004, para. 48]. Participation may occur before, during or after the act is committed.

404. The case in hand concerns the killing of intellectuals, a large scale killing targeting selected individuals of a particular group, just at the fag end of war of liberation. It has already been proved that the ‘annihilation operation’ was in furtherance of organised and calculated plan and design aiming to liquidate the illustrious sons and daughters of the soil with intent to cripple the Bengali nation. All the events of murdering selected intellectuals were part of such notorious plan and accomplished in systematic manner.

405. Therefore the crimes for which the accused persons have been found guilty were not isolated crimes. Those were part of ‘systematic’ and ‘planned’ ‘attack’ intended to the accomplishment of offence of ‘large scale killing’ constituting the offence of ‘extermination’ as crimes against humanity enumerated in section 3(2) of the Act, in furtherance of designed policy and plan. The criminal acts forming part of attack were directed against civilian population belonging to a particular class, within a context. The context element is the æinternational element” in crimes against humanity which renders certain criminal conduct a matter of international concern. Thus, the rationale of the ‘context’ element can be summarized as the protection of human rights against the most serious and most dangerous violations.

406. The notion of ‘attack’ thus embodies the notion of acting purposefully to the detriment of the interest or well being of a civilian population and the ‘population’ need not be the entire population of a state, city, or town or village. Thus, a single act of an accused forming part of attack committed against even a single unarmed civilian causing criminal act constituting the offence enumerated in the Act of 1973 is sufficient for holding him criminally responsible.

407. The phrase ‘acts committed against any civilian population’ as occurred in section 3(2)(a) clearly signifies that the acts forming attack must be directed against the target population to the accomplishment of the crimes against humanity and the accused need only know his acts are part thereof. In the case in our hand, the facts and circumstances unveiled before us unmistakably have proved the ‘contextual requirement’ to qualify the criminal acts done by the accused persons as the crimes against humanity.

আদালত দুই অভিযুক্তের অবস্থান, অপরাধের সাথে তাদের সংযুক্ততা, অপরাধের ধরন এবং সে প্রেক্ষিতে তাদের রেস্পন্সিবিলিটি নির্ণয়ে একটা অবজার্ভেশনও দেন তাঁদের রায়ের ৪৩৮ নাম্বার পরিচ্ছদে যেখানে আদালত বলেন-

438. In the case in hand, considering the charges proved and facts relevant thereto we take some factors into account as the key requirement of aggravating circumstances for the purpose of sentence to be imposed and these are (i) the position or leadership of the accused persons on Al-Badar (ii) the accused persons’ role and mode of participation (iii) culpable affiliation with the AB HQ and activities carried out there (iii) the extreme violent, and humiliating nature of the acts done in accomplishing the murders.

আন্তর্জাতিক আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে এই ধরনের অপরাধের বিচার করবার যে পদ্ধতি এবং যে গাইড লাইন তৈরী হয়েছে এত বছরের পর বছর, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-২ এর ব্যখ্যায় সেটিরই একটা সুস্পস্ট প্রতিফলন দেখা গেলো আলোচ্য মামলার ক্ষেত্রে তথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল যেগুলো অন্যান্য দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এগুলোর বিচারিক ক্ষেত্রে যে কনসেপ্ট গুলো এতদিনে বেশ জেঁকে বসেছে এবং অনুসরণীয় হয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এই ধরনের আদালতগুলোর সংবিধিতে সেগুলোর সাথে আমাদের আদালতের ব্যাখ্যা করলে যেটা দেখা যায় সেটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এডপ্টেড এই জাতীয় মামলার ধারনাগুলোর একটি মৌলিক ব্যাখ্যা যেটি এই রায় কিংবা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রত্যেকটি মামলার রায়কে এইরকম করে জাস্টিফাইড করেছে।
Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleডাঃ পিনাকী ভট্টাচার্যের আহবানের প্রেক্ষিতে আমার জবাব
Next articleবিচার হতে কেন ৩৯ বছর গড়ালো? পর্ব-১
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY