অভিজিৎদা’কে একটি অলৌকিক প্রশ্ন

0
1698

আমি অলৌকিক ভাবযুক্ত একটি প্রশ্ন আপনাকে ঠিক কেন বা কবে জিজ্ঞেস করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেটি এখন আমার আর মনে নেই। কোনো এক কারনে প্রবল বিষাদগ্রস্থ হয়ে যার নামটি এবং যাকে মূলত জিজ্ঞেস করা উচিৎ বলে আমার প্রথম মাথায় এসেছিলো, সেটি আপনি।

কেন এত অসংখ্য মানুষের ভীড়ে আমি আপনার নামটি-ই ভেবেছিলাম সেটি নিয়ে ভাবতে গেলে আসলে আমি এক ধরনের অলৌকিক বিষয়ের গন্ধ পাই। অবশ্য তা পাওয়ার-ই কথা কেননা আমার প্রশ্নটাই তো অলৌকিকতায় পরিপূর্ণ। অনেকেই এটিকে কৌতূহল বলে শেষ করে দিতে চান কিন্তু আমি সেটি কখনই মনে করিনা। কেন তা কখনই মনে করিনা সেটি আমি আসলে নিজেই জানিনা। ঠিক যেমন আমি আরো অনেক কিছুই জানিনা। তেমন।

প্রশ্নটিকে আমি শেষ পর্যন্ত অলৌকিক প্রশ্ন বলেই ভেবে নিয়েছিলাম। এমনটা ভাবার পরেও আমার মনে হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা রয়েছে। এটিও আপনার জানা থাকা দরকার যে আপনাকে জিজ্ঞেস করব বা আপনার উত্তর দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে এমন সম্পর্কিত একটি বিষয়কে অলৌকিকতা কিংবা এই জাতীয় যুক্তি অনির্ভর ভাবনা দিয়ে আমি ভাবি, এটি আমাকে খুব সংকুচিত করে ফেলেছিলো। আর তাই সেটি ভাবতেই মনটা লজ্জায় ভরে গেলো। মনে হোলো এটিতে কোনো না কোনোভাবে আপনাকে অপমান করা হচ্ছে।

আপনি জীবিত থাকা অবস্থায় আপনার কষ্ট হয় কিংবা আমার কোনো কথায় বা কাজে আপনি দুঃখিত হন এটি যেমনটি আমি কখনো ভাবিনি ঠিক আপনার মৃত্যুর পর আমার কোনো শব্দে আপনার আদর্শের উপর অপমানের গ্লানি চাপুক এটিও আমি সন্তর্পণে এড়িয়ে গেছি। তাই আমার সেই জিজ্ঞেস করতে চাওয়া কথাটির সাথে পারিপার্শ্বিক ঘটনাগুলোর এত অদ্ভুত মিল দেখতে পেয়ে আমার ধর্মে ভেজা মন বার বার অলৌকিকতার আশ্রয় নিয়েছে।

কি করব দাদা বলেন, দীর্ঘদিনের ধার্মিক মন নানা কারনেই যুক্তির সুর হারিয়েছে, ভাবনা হারিয়েছে এইসব ক্ষেত্র গুলোতে, তাই কোনো না কোনোভাবে এগুলো আমার এসেই যায়।আমি আজন্ম ধার্মিক তাই জন্মের শুরতেই প্রশ্ন করতে আমাকে মানা করা হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে যে আমাকে  সেই জ্ঞান দেয়া হয়নি যেই জ্ঞানের কথা আমি জানতে পারব না। আমি তাই আমার না জানা কথাগুলো কখনো জানতে চাইনা। কারন আমার না জানা কথাগুলো জানবার জ্ঞান আমার নেই। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি আমার এই না জানা কথাগুলোর উত্তর আমার ধর্মগ্রন্থে-ও নেই। কেন নেই সেই কথা জিজ্ঞেস করতে আমি অত্যন্ত ভীত ছিলাম। আমি আমার ভয়ের সাথে কখনো লড়াই করতে চাইনি।

আপনার মৃত্যুর পর আমি আপনাকে নিয়ে অনেকবার লিখতে বসেছি। আপনার চলে যাবার এক বছরের দিনে, আপনাকে নিয়ে কাতর হবার দিনে, আপনার পুরোনো মেসেজ ফেসবুকে দেখে সুতীব্র কষ্ট পেয়ে কিংবা এই অন্তর্জালে আপনার ছবি দেখে অথবা কখনো কোনো কারন ছাড়াই।

আমি কি-বোর্ডে দু’হাত দিয়ে অনেকবার চেষ্টা করেছি এসব প্রত্যেকটি সময়ে আপনাকে নিয়ে লিখি কিন্তু কখনোই আপনাকে নিয়ে কিছু লেখা হয়নি আমার। আপনাকে নিয়ে আমার একটা লেখার শিরোনাম ছিলো “যে কথা অভিজিৎদা’কে বলা হয়নি”। লেখার শুরুতেই আমি বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে কোন কথাটি ঠিক আপনাকে বলা হয়ে উঠেনি। এমন একটা বিভ্রান্ত অবস্থায় তাই আর লেখা টেখা খুব একটা জমে না বলেই আমি সে লেখা শেষ করতে পারিনি।

তারপর ঠিক এমন করে “অভিজিৎ দা ও একটি পোকা” নামের লেখাটি লিখতে গিয়ে কোনোভাবেই বুঝতে পারলাম না পোকার সাথে আপনার সম্পর্ক কি? বুঝতেই পারছেন, নিজেকেই নিজের এই প্রশ্নে আবারো সেই পুরোনো লুপে ফিরে গিয়েছিলাম। আর লেখা হয়নি। পরে অবশ্য মনে পড়েছিলো পোকা শব্দটি কেন লিখেছিলাম। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার একটি লোককে আমার পোকার মতন মনে হচ্ছিলো। অবশ্য সব সময় মনে হোতোনা। আপনার হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সে কোনো কথা বললেই তাকে পোকা’র মত মনে হয়। মনে হয় একটি তেলাপোকা শুড় উঁচিয়ে মিথ্যে সব কথা বলছে, মিথ্যে সব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সে কারনেই সে লেখার শিরোনাম ছিলো অমন।

মনে আসবার পরেও আর লিখিনি যদিও। কেন লিখিনি সেটি আজ আর মনে নেই। হয়ত আমি চাইনি আমার কোনো লেখার কোনো বাক্যে আপনাকে হারাবার বেদনা আরোপিত বাক্যে, আরোপিত কষ্টে কিংবা আরোপিত শব্দে উঠে আসুক।

এর মানে অবশ্য এই না যে আপনাকে নিয়ে আমার মৌলিক ভাবনাগুলোর বহিঃপ্রকাশ আরোপিত হবার মত ছিলো। কিন্তু এটিও বলে রাখা দরকার যে প্রবল কষ্টে মুষড়ে পড়া আর ঠিক তার পরবর্তী সময়ে সেটির বিবরণ বাক্যে লিখে ফেলবার ভেতরে একটি সুক্ষ্ণ পার্থক্য থেকেই যায়। আমি এই সুক্ষ্ণ পার্থক্যকেই আরোপিত নামে সম্বোধন করলাম।

এই পার্থক্য আসলে অনেকটা সময় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই সামান্য সময় আমার আবেগকে মেকি করে দিতে পারে, এমন একটি ভাবনা তো আমার ছিলোই। আর আপনার ব্যাপারে আমার তরফ থেকে আরোপিত বা মেকি হতে পারে, এমন আবেগ সম্পর্কিত যে কোনো কিছুতেই আমার আপত্তি ছিলো এবং রয়েছে।

এসব বাদ দেই। আমি যদি আমার লেখার মূল বিষয় নিয়ে বলি তাহলে বলব এই লেখার শুরুতে মনে করতে পারিনি যে সেই প্রশ্নটা আমি আপনাকে ঠিক কোন দুঃখিত অবস্থায় জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলাম। কি বোর্ডে টাইপ করতে করতে আমার মগজের একটা অংশ আমাকে মনে করিয়ে দিলো। সুতরাং এই পরিচ্ছদের পর থেকে আমি সেই অলৌকিক ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বলতে সক্ষম।

আমার বন্ধু লিমনের স্ত্রী মারা গিয়েছেন খুব অল্প বয়সে। আমি সেই মৃত্যুতে ব্যাথিত হয়ে একটি লেখা লিখি। লেখাটি লিখবার পর থেকেই এইসব চিন্তা, কষ্ট, বিষাদ আমাকে বেশ স্পস্ট করে জেঁকে ধরে। একটি পাঁচ বছরের মেয়েকে আর স্বামীকে রেখে একটি মানুষ কেন স্বেচ্ছায় চলে যাবেন এই ব্যাপারটি আমাকে সারাটিদিন ভাবিয়ে তুলতে থাকে।

মানুষের ক্রোধ, ঘৃণা, দুঃখ শেষ পর্যন্ত কেন নিজেকে নিঃশেষ করে দেবার মত পথে আগায় এই ব্যাপারটি ভাবতে ভাবতে আমি প্রতি নিয়ত দুঃখিত ও পর্যদুস্ত হয়ে উঠতাম। একটি সুনির্দিষ্ট দীর্ঘঃশ্বাস আরো একটি সুনির্দিষ্ট শব্দ করে আমার মুখ থেকে বের হয়ে যেত। বেশ কিছুদিন এই শোকে আক্রান্ত ছিলাম। আমার বন্ধুর স্ত্রী’র কথা প্রায়ই মনে হোতো। ভাবতাম, এটাই কি শেষ? তিনি কি আর কখনো ফিরে আসবেন না তাঁর সন্তানটির কাছে? স্বামীর কাছে? তাঁকে কি আর কখনও কেউ দেখতে পাবে না?উত্তরটি আমি জানতাম যে তিনি আর ফিরে আসবেন না। তারপরেও খামাখাই জিজ্ঞেস করতাম। মিরাকল টিরাকল বিশ্বাস করি তো খুব। ভাবতেই ভালো লাগত যে তিনি ফিরে আসবেন একদিন। হাসি মুখে গল্প টল্প করবেন।

এসব ভাবতে ভাবতেই আমার মাথায় প্রশ্নটি এলো। প্রশ্নটিকে আমি অলৌকিক প্রশ্ন হিসেবে আখ্যায়িত করলেও আসলে অনেকেই এই প্রশ্নটিকে কৌতূহলী প্রশ্ন হিসেবেই মনে করেন। আমি স্রেফ জানতে চেয়েছিলাম- মৃত্যুর পর কি হয়?

আপনার কাছে এই এক লাইনের প্রশ্নটি করবার আগে আরো একজনের সাথে এই বিষয়ক বেশ কিছু আলাপ টালাপ হয়েছিলো। আলাপের পরে আমরা দুজনই এই পৃথিবী যে আসলে দু’দিনের মামুলি যায়গা এমনটা মনে করে অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়েছিলাম। ভীত ও সন্তস্ত্র হবার কিছুদিনের মাথায় আমার সেই আলাপের মানুষটি ঠিক পরের মাসের প্রথম দিনে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

আমি এই চলে যাওয়াতে অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু সেই অলৌকিক প্রশ্নটি আপনাকে প্রতিদিনই করব করব করে কোনো এক অদ্ভুত কারনে করা হতো না। একটা সময় আমি আপনাকে যাতে প্রশ্নটা আর না করতে হয় সেটি ভুলে যাবার চেষ্টা করতাম। আমি নিজের মনেই নিজে ভেবে নিতাম এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি আসলে কি বলতে পারতেন।

আপনি যেহেতু কোনো সৃষ্টি হর্তা বা কর্তায় খুব একটা আগ্রহী ও বিশ্বাসী ছিলেন না তাই আমি সেইসব প্রশ্ন নিজেকেই নিজে করবার সময় “আপনি” হয়ে উঠতাম। একজন ধার্মিক হিসেবে আমার এই আপনি হয়ে উঠাটা ছিলো অত্যন্ত কঠিন। প্রশ্ন করবার সময় একজন ধার্মিক ও বিশ্বাসী এবং উত্তর দেবার সময় একজন অধার্মিক ও অবিশ্বাসী এই দুইটি চরিত্র আমাকে অনেকটা ক্লান্তিযুক্তভাবে অভিভূত করে তুলেছিলো।

আমি আপনার হয়ে উত্তর দেবার সময় বলতাম মৃত্যুর পর কিছু নেই। সব নিকষ কালো। এই কালোরও কোনো অস্ত্বিত্ব নেই। নেই কোনো স্মৃতি। মৃত্যুর পর মূলত কিছু নেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্তই যা কিছু রয়েছে সেটিই সব। বাকিটা ভ্রান্ত ব্যাপার স্যাপার।

প্রশ্নটা আমি যদি আপনাকে না করে একজন মসজিদের ইমামকে করতাম তাহলে তিনি কি বলতেন এমনটা ভেবে যেই আমি আবারো উত্তরদাতা হিসেবে নিজেকে আরেক সত্বায় একজন মসজিদের ইমাম হিসেবে ভাবা শুরু করেছিলাম তখনই আমার প্রশ্নে অরুচি চলে এসেছিলো। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি এই প্রশ্ন আর কাউকে করব না। আমি নিজেই ভাবব। আমি নিজেই কল্পনা করে নেব আমার মনের মত। তেমন করে ভেবে নেব যে ভেবে নেয়াটা এই বেঁচে থাকা অবস্থায় আমাকে দু’দন্ড শান্তি দেবে।

এমন করে চলতে চলতে হঠাৎ একদিন আপনাকে খুনীরা খুন করে পালিয়ে গেলো। আপনি খুন হয়ে যাবার পর ঢাকার একটি রাস্তা আপনার রক্তে লাল হয়ে উঠলো। বাংলাদেশের একটা অংশ আপনার মৃত্যুতে শোকাহত হোলো, নিস্তব্ধ হোলো। অনেক অনেক প্রতিবাদ হোলো এবং কথা হোলো। তারপর আবার পুরো ব্যাপারটা ভুলে যাওয়াও হোলো।

আমি অবশ্য আপনার খুন হবার পরেই আপনাকে ভুলে যেতে চেয়েছি। লেখার শুরুতেই বলেছিলাম আপনাকে নিয়ে আরোপিত কোনো চিন্তা ভাবনা করতে আমার ঠিক ভাল্লাগে না। তারপরেও আপনাকে ভুলে যাবার চিন্তাটা ছিলো আরোপিত। আমি খুব প্রকান্ড জোর করে আপনাকে ভুলে থাকবার প্রাণ পণ চেষ্টা চালাতে লাগলাম। শুধু আপনার জন্য কেন আমার এই দুঃখবোধ এতটা গভীর হয়ে উঠেছে এটি ভাবতে গিয়ে আমি কেন জানি আবারো সেই অলৌকিক প্রশ্নের মধ্যে পড়ে গেলাম।

মৃত্যুর পর কি হয়?

মৃত্যুর পর কি হয় এমন একটা গভীর প্রশ্নে আপনাকে খুন করে যাওয়া খুনীরা একটা সহজ সমাধান দিয়ে দিয়েছে। সেটি আর তেমন কিছুই নয়। আপনি জাহান্নামে যাবেন। সেখানে হলুদ আর কমলা আগুন রয়েছে, আপনি সেখানে পুড়তে থাকবেন।

এই ধরনের কথা অবশ্য শুধু খুনীরাই নয় বাংলাদেশের অনেক ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ মনে করেন। আমি তেমন একজন মানুষকে অত্যন্ত সহজ ভাষাতেই জিজ্ঞেস করেছিলাম যে আপনাকে হলুদ আর কমলা আগুনে পুড়িয়ে সৃষ্টি কর্তার লাভের যায়গাটা ঠিক কোনটা? তিনি একজনকে আগুনে পুড়তে দেখে ঠিক কোন মজাটা পাবেন বা এটিতে তাঁর কি হবে?

আমার এই প্রশ্নে সে লোকটি আমাকেও একজন ধর্মে অবিশ্বাসী ব্যাক্তি হিসেবে আখ্যা দিলো। আমি সেই আখ্যায় খুব যে একটা পুলকিত হয়েছিলাম সেটি দূর্দান্ত মিথ্যে হয়ে যাবে। “এশার নামাজ পড়ে বাকি কথা হবে” বলে সেদিন ভদ্রলোককে বড় অবাক করে দিয়েছিলাম। এ্শার নামাজ যিনি পড়েন তিনি ধর্ম বইয়ের সব কিছু মুখ বুঁজে মেনে নেবেন এমনটাই মূলত ছিলো নিয়ম। একটি নিয়ম ভাঙ্গার ঘটনা যে অনেক চিন্তা ভাবনাকে উলোট পালট করে দিতে পারে সেটি আমার ঠিক সেভাবে জানা ছিলোনা।

আপনার খুন হয়ে যাবার পর সেই অলৌকিক প্রশ্নের উত্তর আর আপনার কাছ থেকে না শোনা হলেও আশার কথা হচ্ছে আমি এই প্রশ্ন আর কাউকে এখন করিনা। আমারই মত রক্ত মাংশের মানুষ আর কতটুকু কল্পনা প্রবণ হবে বলুন? সেই তো ঘুরে ফিরে ডানা কাটা পরী, বেহেশতের ফল, ফুল, টিয়া পাখি কিংবা দোজোখের আগুন কিংবা সাপের গল্প। এগুলো ঠিক আর কত সহ্য করা যায় বলেন?

আপনি শুনলে অবাক হবেন যে আপনার মৃত্যুর পর মিন্টু রোডের কয়েকটি পোকা অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে গেছে। এরা বিমর্ষ হবার পাশাপাশি আমাদের প্রায়ই নির্যাতন করে। এইসব নির্যাতন সব মানসিক। শারিরীক নয়। প্রতি তিন মাস পর পর এই মিন্টু রোড থেকে আপনার খুনীদের সম্পর্কিত নানাবিধ বুলেটিন বের হয়। কখনো মুকুল রানা, কখনো আমিনুর, কখনো সেলিম, কখনো শরীফ, হাদী কখনো আপনার খুনীদের ভিডিও।

আমরা দেখি আর প্রতিদিন অভ্যস্থ হয়ে যাবার চেষ্টা চালাই। মাঝে মধ্যে খুব ইচ্ছে করে চিৎকার দিয়ে বলে উঠি, আমাকে ধরেন ভাই। খুনটা আমিই করেছি। কিন্তু বলিনা। ঐ যে বলেছিলাম, নানাবিধ সংকোচ আর ভয় আমাকে খুব একটা সাহসী হতে দেয়নি কখনো। রিমান্ডে ধরে হেভী পিটুনীর ভয় না থাকলে এইসব মানসিক নির্যাতন থেকে আমি অনেককেই মুক্তি দিয়ে দেবার একটা চেষ্টা চালাতাম।

আপনাকে সেই অলৌকিক প্রশ্নটা না করাতে ভালোই হয়েছে আসলে। আপনার মত যারা রয়েছেন তাঁরা যেহেতু আপনার মতই ভাবেন সে কারনে তাদের থেকে দুখী যে আর কেউ নেই এটা ভেবে আমি এক ধরনের কষ্ট পাই। এর কারন হচ্ছে তাঁরা ভাবেন মৃত্যুর পর সব শেষ।

ধার্মিক হবার এই এক সুবিধা। আমার এসব ভাবতে টাবতে হয়না। সেই অলৌকিক প্রশ্নের উত্তরটা এইবার নিজের মত করেই ভেবে নেয়া যায়। ধরেন আপনি ঐ পাড়ে আছেন। কাজ টাজ নিয়ে ব্যাস্ত সময় যাচ্ছে আপনার। একদিন সেখানে ফিরে খুব আড্ডা দেয়া যাবে, মিন্টু রোডের পোকাদের কর্মকান্ডে আমরা কতটা বিরক্ত ছিলাম সেসব নিয়েও আলাপ করা যাবে। রাজনীতি, দেশ, বিভুঁই, চিত্রকলা, শিল্প নিয়ে আপনার আর আগ্রহ বেঁচে থাকলে সেগুলো নিয়েও না হয় আলাপ জমানো যাবে। মন্দ কি?

একটা অলৌকিক প্রশ্নের ক্ষেত্রে আপনি না হয় আমার উত্তরের মত করেই বেঁচে রইলেন।

Facebook Comments

Comments

comments

SHARE
Previous articleStory of the "pale blue dot"
Next articleরাজাকার মীর কাশেমকে নিয়ে টিপু ভাইয়ের বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন এবং আমার উত্তর
উপরের প্রকাশিত লেখাটি আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ফলাফল। লেখাটি আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, পছন্দ না-ও হতে পারে। আমার সাথে হয়ত আপনি একমত হবেন না কিন্তু আমি ধন্যবাদ জানাই আপনি এই সাইটে এসেছেন, আমার লেখাটি কষ্ট করে পড়েছেন আপনার সময় ব্যয় করে, এটিও পরম পাওয়া। সবার মতামত এক হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। দ্বিমত থাকবে, তৃতীয় মত থাকবে কিংবা তারও বেশী মতামত থাকবে আবার সেটির পাল্টা মতামত থাকবে আর এইভাবেই মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের চিন্তাকে খুঁজে ফেরে নিরন্তর। আর লেখাটি ভালো লাগলে কিংবা আপনার মতের সাথে দ্বন্দ্বের তৈরী না করলে সেটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। আমি সেটির জন্য আনন্দিত। আপনাদের উৎসাহে, ভালোবাসাতে আর স্নেহেই এই লেখালেখির জগতে আসা। "নিঝুম মজুমদার" পাঠ শুভ হোক, আনন্দের হোক, এই চাওয়া। আপনার এবং আপনাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি সব সময়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY